সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…
মেলবোর্ন, ২৪ আগষ্ট- মহাত্মা গান্ধীর হাতে লেখা ৬৮৮টি দুর্লভ বার্তা ভারতের এক নিলামে ১৬ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছে। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান স্যাফরনআর্ট জানিয়েছে, কোনো ভারতীয় ঐতিহাসিক নথি নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রে এটি বিশ্বরেকর্ড। বার্তাগুলো ১২ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে।
গান্ধী তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সহযোদ্ধা আনন্দ টি হিঙ্গোরানিকে উদ্দেশ করে এসব বার্তা লিখেছিলেন। ১৯৪৪ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবরের মধ্যে তিনি এগুলো লেখেন। পরে বার্তাগুলো সংকলন করে ‘আ থট ফর দ্য ডে’ নামে একটি বই প্রকাশিত হয়।
এসব লেখার পেছনে ছিল ব্যক্তিগত ও আবেগঘন একটি প্রেক্ষাপট। আনন্দ হিঙ্গোরানির স্ত্রী বিদ্যার মৃত্যুর পর তিনি গভীর শোক ও একাকিত্বে ভুগছিলেন। একই সময়ে কানে কম শোনার সমস্যার জন্য তিনি প্রাকৃতিক চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
বন্ধুর কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়াতে গান্ধী প্রতিদিন নিজের হাতে একটি করে ছোট উপদেশ বা ভাবনা লিখে পাঠাতেন। সেই ব্যক্তিগত সান্ত্বনার উদ্যোগই পরে পরিণত হয় গান্ধীর দর্শন ও চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিলে।
স্যাফরনআর্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মিনাল ভাজিরানি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, গান্ধী প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্য থেকেও হিঙ্গোরানির জন্য সময় বের করে এসব ভাবনা লিখতেন। হিঙ্গোরানি সেগুলো সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও অনুলিপি করতেন এবং পরে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করেন।
৬৮৮টি বার্তায় সত্য, অহিংসা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, লোভহীনতা, নির্ভীকতা, ধর্মীয় সমতা, প্রার্থনা, সেবা, শ্রম, কর্তব্য, নীরবতা, বিবেক, আত্মোপলব্ধি ও ঈশ্বরের সন্ধানের মতো বিষয় উঠে এসেছে।
এ ছাড়া ১৯৩০ ও ১৯৩১ সালের দিকে লেখা নয়টি চিঠির একটি সংগ্রহও নিলামে ছিল। এসব চিঠিতে আনন্দ ও বিদ্যার বিয়ে, পরিবারের আপত্তি, আর্থিক স্বাধীনতা ও পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে গান্ধীর মতামত পাওয়া যায়।
হিঙ্গোরানি পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গান্ধীর এসব লেখা ও অন্যান্য সামগ্রী সংরক্ষণ করে আসছিল। স্যাফরনআর্ট ‘গান্ধী: ফ্রম দ্য কালেকশন অব আনন্দ টি হিঙ্গোরানি’ শিরোনামে মোট ৮৬টি সামগ্রী নিলামে তোলে।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ৬৮৮টি হাতে লেখা বার্তা। নিলামের আগে এগুলোর মূল্য ১৫ কোটি থেকে ২৫ কোটি রুপি নির্ধারণ করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ১৬ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বিক্রি হয় সংগ্রহটি।
নিলামে গান্ধীর ‘মেসেজ অন গড’ নামে তিনটি পাণ্ডুলিপি ও চিঠির সংগ্রহ ১ কোটি ৬৮ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছে। ঈশ্বর ও ভগবদ্গীতা নিয়ে গান্ধীর দর্শনের নানা দিক এতে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া গান্ধীর বহনযোগ্য বাক্সে রাখা একটি চরকা এবং চরকায় সুতা কাটার আধ্যাত্মিক অনুশীলন নিয়ে লেখা দুটি চিঠি ১ কোটি ২ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়।লেখার টেবিলে বসা গান্ধীর সই করা একটি ছবি বিক্রি হয়েছে ৭৮ লাখ রুপিতে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর লেখা চিঠি ও পোস্টকার্ডের সংগ্রহ বিক্রি হয়েছে ৫৮ লাখ রুপিতে।
নিলামের পর গান্ধীর ব্যক্তিগত লেখা ও ঐতিহাসিক সামগ্রী হাতবদল হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইতিহাসবিদদের অনেকে। দিল্লির ন্যাশনাল গান্ধী মিউজিয়ামের পরিচালক এ আনামালাই এই নিলামকে গভীর উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন।
তাঁর মতে, গান্ধীর চিঠি বা ব্যক্তিগত সামগ্রী শুধু কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এগুলো ভারতের সামষ্টিক ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ। এসব নথি এমনভাবে সংরক্ষণ করা উচিত, যাতে ভারতসহ বিশ্বের মানুষ সেগুলো দেখতে, পড়তে এবং তা থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
ঐতিহাসিক এসব উপাদান নিলামে বিক্রি না করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জাদুঘরে দান করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র-দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au