বিশ্ব

মুগ্ধ-সিদ্ধার্থই হত্যাকারী, ছাদে হত্যা করা হয় তিনজনকে: পুলিশ

  • 7:37 pm - August 27, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৮৫ বার
মুগ্ধ-সিদ্ধার্থই হত্যাকারী, ছাদে হত্যা করা হয় তিনজনকে: পুলিশ।

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসই হত্যাকারী বলে দাবি করেছে মহানগর পুলিশ। দুই আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, চারজনের মধ্যে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়ির ছাদে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহগুলো এমনভাবে লুকিয়ে রাখা হয়, যাতে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে সহজে দেখা না যায়।

বৃহস্পতিবার সকালে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। তিনি গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির কিছু অংশ সাংবাদিকদের পড়ে শোনান। তবে সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২১ আগস্ট শুক্রবার ভোররাতে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ইয়াবা নিয়ে সীমান্ত দাসের বাসায় যান। সেখানে তারা ইয়াবা সেবনের পর আরও ইয়াবা সংগ্রহ করেন। পরে কামাল কাছনা এলাকার একটি বাড়ির প্রাচীর টপকে এবং পাশের বাড়ির ছাদ হয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন। সেখানে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে তারা আবার ইয়াবা সেবন করতে থাকেন।

জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, ওই রাতে দুই তরুণ মোট আটটি ইয়াবা সেবন করেন। একপর্যায়ে ভোর হয়ে গেলেও তারা বিষয়টি খেয়াল করেননি। সকালে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে হাঁটতে এসে তাদের দেখে ফেলেন এবং সেখানে কী করছেন জানতে চান। নিজেদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ তাকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে পুলিশের দাবি।

এরপর গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী শব্দ শুনে ছাদে এলে তারাও চিৎকার শুরু করেন। পুলিশ জানায়, মুগ্ধ প্রীতিলতা চক্রবর্তীর গলা চেপে ধরেন এবং সিদ্ধার্থ আগামী চক্রবর্তীর গলা ও মুখ চেপে ধরেন। পরে প্রীতিলতাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। আগামীকে হত্যার সময় প্রথমে গামছা ব্যবহার করা হয় এবং পরে কবুতরের খাবারের বাক্সে থাকা রশি দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করা হয় বলে জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, তিনজনকে হত্যার পর গণপতির মরদেহ ছাদে থাকা টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। প্রীতিলতা ও আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ ছাদের সিঁড়ির গেটের আড়ালে রাখা হয়, যাতে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে সেগুলো দেখা না যায়।

এরপর দুই তরুণ বাড়ির ভেতরে ঢুকে গণপতির ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকে দেখতে পান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘুম থেকে ওঠা আয়ুশ সিদ্ধার্থকে দেখে জানতে চায়, তিনি সেখানে কেন এসেছেন। পরে তার গলায় কাপড় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

হত্যাকাণ্ডের পর সিসি ক্যামেরায় ঘটনা ধরা পড়ার আশঙ্কায় আসামিরা ছাদে পড়ে থাকা একটি পুরোনো প্লাস দিয়ে বাড়ির বিদ্যুতের তার কেটে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে হত্যাকাণ্ডকে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখাতে ঘরের ড্রয়ার খুলে জিনিসপত্র এলোমেলো করা হয়। মুগ্ধ ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে এলে সিদ্ধার্থ সেগুলো প্লাস্টিকের বাক্স ও কাপড়ের প্যাকেটে রাখেন। পরে তারা বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যান বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর দুই আসামি বাড়িতেই গোসল করেন এবং সেখানে থাকা আরও একটি ইয়াবা সেবন করেন। পরে জুমার নামাজের সময় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদ থেকে পাশের দেবুদের বাড়ির ছাদে যান তারা। দেয়াল টপকে সেখান থেকে বেরিয়ে মুগ্ধ টাকা এবং সিদ্ধার্থ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে চলে যান। পরে তারা এসব জিনিস গোপন করার চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি।

মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাসের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও একই ধরনের বর্ণনা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। পাশাপাশি সীমান্ত দাস ও দখিগঞ্জ শ্মশানের কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাসের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিও তদন্তে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডোপ টেস্ট এবং ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে নমুনা সংগ্রহের পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ও বিভিন্ন ব্যক্তির জবানবন্দি বিশ্লেষণ করেও তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ময়নাতদন্তের বরাত দিয়ে মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিহত আগামী চক্রবর্তী ও প্রীতিলতা চক্রবর্তীর মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের সময় আসামিদের চিৎকার এক প্রতিবেশী নারী শুনেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই নারী পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ কমিশনারের দাবি, পুলিশকে ঘটনা জানানোর কারণে ওই নারীর স্বামী তাকে মারধরও করেন।

তবে চার খুনের ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে হত্যার উদ্দেশ্য, আসামিদের দীর্ঘ সময় বাড়িতে অবস্থান এবং ঘটনাস্থলের আলামত নিয়ে নিহত পরিবারের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে গিয়ে পুলিশ দুই আসামির জবানবন্দিকে হত্যাকাণ্ডের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে সাংবাদিকরা হত্যার উদ্দেশ্য, তদন্তের বিভিন্ন অসঙ্গতি এবং অন্যান্য বিষয়ে প্রশ্ন করলে পুলিশ কমিশনার কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন। পরে অন্য প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর না দিয়েই তিনি সংবাদ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন।

এই শাখার আরও খবর

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au