নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পর নয়াদিল্লির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মস্কো। রাশিয়া ভারতকে অত্যাধুনিক এস-৫০০ প্রোমিথিউস আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এসইউ-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
ভারত বর্তমানে আকাশ প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধবিমান সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রুশ অস্ত্রের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও অন্যান্য দেশের কাছ থেকেও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার নতুন প্রস্তাবকে দিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাশিয়ার প্রস্তাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এস-৫০০ প্রোমিথিউস। এটি রাশিয়ার সর্বাধুনিক দূরপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ভারতে এরই মধ্যে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ মোতায়েন রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে মস্কো এস-৫০০-কে ভারত-রাশিয়া আকাশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হিসেবে তুলে ধরছে।
এর আগে ভারত পাকিস্তানের দিক থেকে আসা বিমান হামলার হুমকি মোকাবিলায় এস-৪০০ ব্যবহার করেছে। মোদি-পুতিন বৈঠকের একদিন আগে রাশিয়া ভারতকে আরও পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন দেওয়ার প্রস্তাবও দেয়। এটি বাস্তবায়িত হলে ভারতের এস-৪০০ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তবে এস-৫০০ কেনার বিষয়ে ভারতের সামনে কিছু জটিলতা রয়েছে। দেশটি একই সময়ে ‘প্রজেক্ট কুশা’ নামে নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচিও উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে নতুন রুশ ব্যবস্থা কেনার আগে এটি দেশের নিজস্ব প্রকল্পের সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করবে, তা বিবেচনা করতে হবে।
রাশিয়ার আরেকটি বড় প্রস্তাব এসইউ-৫৭ স্টেলথ যুদ্ধবিমান। ভারতের বিমানবাহিনী বর্তমানে যুদ্ধবিমানের ঘাটতির মুখে রয়েছে এবং নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট বা এএমসিএ হাতে পেতে আরও সময় লাগতে পারে। এই সুযোগে রাশিয়া এসইউ-৫৭কে সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে ভারতের সামনে তুলে ধরছে।
মস্কোর প্রস্তাবে এসইউ-৫৭ কেনার পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, স্থানীয় উৎপাদন এবং উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির সুযোগ থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিমান কিনলে ভারতের বিমানবাহিনীতে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হবে। এর ফলে আলাদা প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, অস্ত্র, খুচরা যন্ত্রাংশ ও সরবরাহব্যবস্থার প্রয়োজন হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি করতে পারে।
এসইউ-৫৭ নিয়ে ভারত-রাশিয়ার পুরোনো সহযোগিতার ইতিহাসও রয়েছে। একসময় দুই দেশ এফজিএফএ প্রকল্পের মাধ্যমে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানকে ভিত্তি করে ভারতের জন্য একটি নিজস্ব সংস্করণ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সেই যৌথ প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। এখন একই এসইউ-৫৭ সরাসরি কেনার প্রস্তাব নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ভারতের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এশিয়ার পরিবর্তিত সামরিক পরিস্থিতির কারণে। চীনের হাতে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক জে-২০ মাইটি ড্রাগন স্টেলথ যুদ্ধবিমান রয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও চীনের তৈরি জে-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান পাওয়ার দিকে এগোচ্ছে। ফলে ভারতকে নিজস্ব এএমসিএর জন্য অপেক্ষা করবে, নাকি এর মধ্যেই বিদেশি স্টেলথ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
রাশিয়া এস-৫০০ ও এসইউ-৫৭-এর পাশাপাশি ভারতের এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান বহরের আধুনিকায়ন, রুশ তৈরি কিলো-শ্রেণির সাবমেরিন আধুনিকায়ন এবং ভোরোনেঝ কৌশলগত আগাম সতর্কতা রাডার ব্যবস্থার সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আগ্রহ দেখাচ্ছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা বাজারে রাশিয়ার সক্রিয়তার পেছনে বড় কারণ হলো দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক। ভারতের এসইউ-৩০এমকেআই, মিগ-২৯, বিভিন্ন ট্যাংক, সাবমেরিন, হেলিকপ্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশই রুশ প্রযুক্তিনির্ভর। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে রাশিয়ার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তবে গত দুই দশকে ভারত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎস বহুমুখী করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ফ্রান্সের আরও ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগের পাশাপাশি ভারত নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ফলে রাশিয়াকে এখন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ইসরায়েলের মতো সরবরাহকারীর পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে মোদি-পুতিন বৈঠকের পর রাশিয়ার প্রস্তাব ভারতের সামনে দুটি বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার পথে থাকলে দিল্লির কতটা বিদেশি প্রযুক্তি প্রয়োজন হবে এবং চীন ও পাকিস্তান যখন স্টেলথ যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তখন ভারতের নিজস্ব এএমসিএ প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত দেশটি কতদিন অপেক্ষা করবে, এখন সেই সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au