অস্ট্রেলিয়া

বিশ্লেষণ: জেমস বোল্ট

অভিবাসন নীতি প্রকাশে লেবার ও কোয়ালিশনের চেয়ে এগিয়ে ওয়ান নেশন

  • 9:58 am - September 21, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩৪ বার
অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অভিবাসন নীতিতে বড় দলগুলোর অবস্থান - ওয়ান নেশন বলেছে, ক্ষমতায় এলে প্রথম তিন বছর নিট অভিবাসন ঋণাত্মক পর্যায়ে রাখার পর তারা বার্ষিক নিট অভিবাসনের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারে সীমিত করবে। অন্যদিকে, লেবারের ঘোষিত ২ লাখ ২৫ হাজারের লক্ষ্যমাত্রাও ইতিমধ্যে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এখন পর্যন্ত কোয়ালিশনের সবচেয়ে স্পষ্ট বক্তব্য হলো, তারা যখন নিজেদের অভিবাসনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করবে, তখন সেটি লেবার ও ওয়ান নেশনের সংখ্যার মাঝামাঝি কোথাও থাকবে।

ফেডারেল নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, অভিবাসনের লক্ষ্যমাত্রা সবার আগে ঘোষণা করে বড় রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করেছে ওয়ান নেশন। দলটির এই পদক্ষেপের পর অ্যাঙ্গাস টেলর এখন যে সংখ্যাই ঘোষণা করুন না কেন, তা অনেকটাই গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে—লিখেছেন জেমস বোল্ট।

সত্যিকারের মহান ক্রীড়াবিদদের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো—ম্যাচের শুরুর দিকে তাঁরা প্রতিপক্ষকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। প্রতিপক্ষ কীভাবে খেলছে, কোথায় তাদের দুর্বলতা এবং কোন কৌশলে তাদের মোকাবিলা করা সম্ভব—এসব বুঝে নিয়ে তাঁরা নিজেদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন।

তবে এই পর্যবেক্ষণ ও কৌশলগত পরিবর্তনটি ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই করতে হয়। খেলা শেষ হওয়ার পর পরিকল্পনা বদলে আর কোনো লাভ নেই।

অভিবাসন নীতির প্রশ্নে অস্ট্রেলিয়ার কোয়ালিশন এখন ঠিক এমন অবস্থানেই রয়েছে।

টনি বার্ক শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাধা দেওয়া অসংখ্য লেবার এমপিকে পাশ কাটিয়ে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। এর ফলে দেশের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে কোয়ালিশনই এখন একমাত্র দল, যারা এখনো নিজেদের নিট অভিবাসনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করতে পারেনি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ইস্যুতে রাজনৈতিক ম্যাচ প্রায় শেষের দিকে পৌঁছে গেছে, অথচ কোয়ালিশন এখনো খেলা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

এখন পর্যন্ত ঘোষিত কোনো অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রাকেই নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করার মতো শক্তিশালী ধারণা বলা যাবে না।

ওয়ান নেশন বলেছে, ক্ষমতায় এলে প্রথম তিন বছর নিট অভিবাসন ঋণাত্মক পর্যায়ে রাখার পর তারা বার্ষিক নিট অভিবাসনের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারে সীমিত করবে। এই নীতির কারণে অর্থনীতিতে কী ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে, তা নিয়ে ব্যবসা ও শিক্ষা খাত থেকে নিশ্চিতভাবেই তীব্র সমালোচনা আসবে।

অন্যদিকে, লেবারের ঘোষিত ২ লাখ ২৫ হাজারের লক্ষ্যমাত্রাও ইতিমধ্যে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দলটি এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে কি না, এমনকি সত্যিকার অর্থে এটি অর্জন করতে চায় কি না—তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

কিন্তু অন্তত দুটি দলই ভোটারদের কাছে এই বার্তা দিতে পেরেছে যে অভিবাসন নিয়ে তাদের একটি পরিকল্পনা আছে।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আগস্টে পরিচালিত নিউজ২৪ পালস জরিপ অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয়ের পর অভিবাসনই অস্ট্রেলীয়দের দ্বিতীয় বৃহত্তম উদ্বেগের বিষয়।

অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ আবাসনের ক্রয়ক্ষমতা, সরকারি ঋণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ পালস জরিপে দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ অস্ট্রেলীয় অভিবাসনের হার কমাতে চান। তাঁদের মধ্যে ৪২ শতাংশ বড় ধরনের হ্রাস চান।

সুতরাং ভোটাররা যেন অন্তত দেখতে পান যে রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে—রাজনীতিকদের জন্য তা অত্যন্ত জরুরি।

এখন পর্যন্ত কোয়ালিশনের সবচেয়ে স্পষ্ট বক্তব্য হলো, তারা যখন নিজেদের অভিবাসনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করবে, তখন সেটি লেবার ও ওয়ান নেশনের সংখ্যার মাঝামাঝি কোথাও থাকবে। তবে বছরে কতটি নতুন বাড়ি নির্মিত হচ্ছে, তা জানার পরই তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এই প্রতিশ্রুতি হয়তো রূপকথার গোল্ডিলকসের কাছে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে—খুব বেশি নয়, খুব কমও নয়, ঠিক মাঝামাঝি। কিন্তু সাধারণ ভোটারের কাছে এটি একটি স্পষ্ট ও শক্তিশালী সংখ্যার মতো প্রভাব সৃষ্টি করে না।

সমস্যাটি শুধু এই নয় যে এই মুহূর্তে কোয়ালিশনের কাছে ভালো কোনো প্রস্তাব নেই। আরও বড় সমস্যা হলো, তারা যখন সেই প্রস্তাব নিয়ে আসবে, তখন সেটি অনেক দেরিতে আসবে।

কোয়ালিশন শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা নির্ধারণ করতে পারলেও ওয়ান নেশনের ঘোষণার মতো সেটি বিস্ময় সৃষ্টি করবে না। লেবারের লক্ষ্যমাত্রা যে আগ্রহ তৈরি করেছে, সেটিও হয়তো পাওয়া যাবে না।

বরং সংবাদমাধ্যম ও জনগণের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হবে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলা—“এত দিন লাগল কেন?”

বিরোধী দলে থেকে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম তৈরি করা কঠিন—বিশেষ করে যখন পরবর্তী নির্বাচন এখনো দুই বছর দূরে। তবে সরকারের আগে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে শক্তিশালী নীতি ঘোষণা করতে পারলে সেই সুযোগ তৈরি হয়।

ওয়ান নেশন ঠিক সেটিই করেছে। লেবারের আগে অভিবাসনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে দলটি সরকারের রাজনৈতিক ক্ষেত্র দখল করেছে।

এর ফলে লেবার যে সংখ্যাই ঘোষণা করুক না কেন, ওয়ান নেশন এখন দাবি করতে পারে—পলিন হ্যানসনের চাপেই সরকার অভিবাসনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়েছে।

কোয়ালিশনের কাজ ছিল খুবই সহজ—লেবার ও ওয়ান নেশনের আগে নিজেদের অবস্থান ঘোষণা করা।

এমনকি টনি বার্ক যখন অভিবাসন নীতি ঘোষণার জন্য নির্ধারিত প্রথম ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব বক্তৃতা বাতিল করতে বাধ্য হন, তখন লেবার কোয়ালিশনকে দ্বিতীয়বারের মতো সুযোগ দিয়েছিল।

রাজনৈতিক পরিসরে তখন একটি শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে অ্যাঙ্গাস টেলর খুব সহজেই প্রবেশ করতে পারতেন।

কিন্তু তিনি তা করেননি।

আমি এর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুক্তিও শুনতে পাচ্ছি।

একজন সাংবাদিক হিসেবে “একটি সংখ্যা ঠিক করে ফেলুন” বলা সহজ। কারণ আমাকে অ্যান্ড্রু ব্র্যাগ ও অ্যালেক্স অ্যান্টিককে একই ঘরে বসিয়ে তাঁদের এবং তাঁদের সমর্থকদের একটি চূড়ান্ত সংখ্যায় সম্মত করাতে হয় না।

কিন্তু আর কোন দল অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত জানেন?

গত মাসে টনি বার্ক মনে করেছিলেন যে নিজেদের অভিবাসনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণার জন্য তিনি দলের অনুমোদন পেয়েছেন। বিব্রতকরভাবে তাঁর সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়।

তিনি এতটাই ভুল ছিলেন যে তাঁকে প্রকাশ্যে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের বক্তৃতা স্থগিত করতে হয়। এর মাধ্যমে গোটা বিশ্বের কাছে এই বার্তাই যায় যে তিনি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে গিয়েছিলেন।

অথচ দলের সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে তাঁর নিশ্চয়ই কিছুটা আস্থা ছিল। তা না হলে তিনি এমন ঝুঁকি নিতেন না।

অভিবাসন নিয়ে লেবার কতটা বিভক্ত, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। এমনকি অভিবাসনমন্ত্রী যখন মনে করেন যে একটি সমঝোতা হয়েছে, বাস্তবে তখনো কোনো ঐকমত্য থাকে না।

তারপরও লেবার নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ কাটিয়ে উঠে জনগণের সামনে একটি স্পষ্ট সংখ্যা তুলে ধরতে পেরেছে।

কোয়ালিশনও একই কাজ করতে পারত।

তাদের এতটা বিভক্ত হয়ে দিনের পর দিন সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। প্রধান দলগুলোর মধ্যে অভিবাসন ইস্যুর রাজনৈতিক ম্যাচটি কীভাবে এগোচ্ছে, তা দেখে অ্যাঙ্গাস টেলরও একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন।

কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

কোয়ালিশন যখন শেষ পর্যন্ত সবার সম্মতিতে এমন একটি সংখ্যা নির্ধারণ করবে, যা অন্য প্রধান দলগুলোর থেকে তাদের আলাদা করবে, তখন তারা হয়তো খেলার মাঠে বল গড়াবে—কিন্তু ততক্ষণে ওয়ান নেশন ও লেবার ড্রেসিংরুমে ফিরে যাবে।

মূল মতামত: জেমস বোল্ট, নিউজ২৪ ডটকম ডটএইউ কন্ট্রিবিউটর
বাংলা রূপান্তর: ওটিএন বাংলা

এই শাখার আরও খবর

হিন্দুত্ববাদের বিকল্প কি জিন্নাহবাদ?

বর্তমানে জিন্নাহ কে পুনঃপ্রতিষ্ঠার আরেকটি যুক্তি হচ্ছে, তিনি হিন্দুত্ববাদের বিপরীত প্রতীক। কিন্তু হিন্দুধর্ম ও হিন্দুত্ববাদ এক নয়। হিন্দুধর্ম বহু মত ও দর্শনের ধর্মীয় ঐতিহ্য; হিন্দুত্ববাদ…

ডিসেম্বরের আগে সরকারকে অচল করতে চায় আ.লীগ, তারপর প্রত্যাবর্তন

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছেন। তার দেশে ফেরাকে সামনে রেখে দলটি সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হওয়ার…

‘দেশে ফিরতে চাই, সরকার বাধা দিচ্ছে’:  শেখ হাসিনার অভিযোগ

বাংলাদেশে ফিরতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সরকার বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।…

ঢাকায় পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ, নেপথ্যে ছিলেন ভারতীয় ইহুদি জেনারেল জ্যাকব

ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আবারও সামনে এসেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ…

রাশিয়ায় নজিরবিহীন ড্রোন হামলা, বাদ যায়নি মস্কো জ্বালানি স্থাপনাও

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববার রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের শেষ দিনে চালানো এই হামলায় মস্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারসহ…

এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au