জাপানে টাইফুন দুজুয়ানের তাণ্ডবে নিহত ২, নিখোঁজ ৪
শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জাপানের পূর্বাঞ্চল। প্রবল বৃষ্টি, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। ঝড়ের প্রভাবে…
OTN Bangla Desk: অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। ‘ভিসা হপিং’ বন্ধ, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েট ভিসাধারীদের পরিবারের সদস্য আনার সুযোগ সীমিত করা, ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে অবস্থানকারীদের আটক এবং অসাধু মাইগ্রেশন এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা—নতুন পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য দিক।
একই সঙ্গে নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, মৎস্য ও সম্পদ খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। আবাসন সংকট সামাল দেওয়ার জন্য নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন বা নিট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে দেওয়া বক্তব্যে টনি বার্ক বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় কারা আসবেন, কারা থাকবেন এবং কাদের চলে যেতে হবে—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই নতুন সংস্কার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ার নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন কমিয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজারে আনা হবে। ২০২৭–২৮ অর্থবছরের মধ্যে তা আরও কমিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত আগের ১২ মাসে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশনের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৯২ হাজার।
টনি বার্ক অবশ্য অস্ট্রেলিয়ায় তথাকথিত ‘গণ-অভিবাসন’ বা mass migration চলছে—এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর মতে, অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে অনেক তথ্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, হঠাৎ অত্যন্ত বড় মাত্রায় অভিবাসন কমিয়ে দিলে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, বয়স্কদের পরিচর্যা এবং আবাসন নির্মাণ খাত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নতুন নিয়মে অধিকাংশ নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তাঁদের ভিসার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যুক্ত করে অস্ট্রেলিয়ায় আনতে পারবেন না। একই ধরনের বিধিনিষেধ গ্র্যাজুয়েট ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
তবে বর্তমানে যেসব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তাঁদের পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন, তাঁদের পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করা হবে না। তাঁরা বর্তমান ভিসার শর্ত অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারবেন। পিএইচডি শিক্ষার্থীসহ কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য সীমিত ব্যতিক্রম রাখা হতে পারে।
টনি বার্ক বলেন, “যাঁরা ইতিমধ্যে পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আছেন, আমরা তাঁদের পরিবার ভেঙে দেব না। তাঁরা দেশ ত্যাগ করা পর্যন্ত অথবা স্থায়ী ভিসা পাওয়ার যোগ্য হওয়া পর্যন্ত বর্তমান ব্যবস্থায় থাকতে পারবেন।”
তবে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েট ভিসার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত করার সুযোগ আর দেওয়া হবে না।
এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে বিবাহিত শিক্ষার্থী এবং সন্তানসহ উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
একটি কোর্স শেষ করে একই বা নিম্নস্তরের আরেকটি কোর্সে ভর্তি হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর প্রবণতাকে সরকার ‘ভিসা হপিং’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
নতুন ব্যবস্থায় একটি ‘যোগ্যতার ধাপ’ বা qualification scale চালু করা হবে। এর আওতায় একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কেবল উচ্চতর যোগ্যতার কোর্সে অগ্রসর হয়ে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।
উদাহরণস্বরূপ, কেউ ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করার পর মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারবেন, কারণ এটি উচ্চতর যোগ্যতার স্তর। কিন্তু একই স্তরের বিভিন্ন কোর্স বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বারবার পরিবর্তন করে শুধু অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সময় বাড়ানোর সুযোগ বন্ধ করা হবে।
টনি বার্ক বলেন, বৈধভাবে পড়াশোনা শেষ করে গ্র্যাজুয়েট ভিসা নেওয়া, দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে এমন খাতে চাকরি পাওয়া, নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপে কাজের ভিসায় যাওয়া এবং পরে স্থায়ী অভিবাসনের আবেদন করা ‘ভিসা হপিং’ নয়। তাঁর মতে, এটি অভিবাসন ব্যবস্থার যথাযথভাবে কাজ করার উদাহরণ।
সরকারের উদ্বেগ মূলত তাঁদের নিয়ে, যাঁরা স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা পূরণ না করেও এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় গিয়ে এবং আপিল প্রক্রিয়া ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেন।
ভবিষ্যতে ইস্যু করা ভিজিটর ভিসাগুলোতে ‘নো ফার্দার স্টে’ শর্ত আরও ব্যাপকভাবে যুক্ত করা হবে। এই শর্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট ভিসাধারী সাধারণভাবে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে নতুন কোনো ভিসার জন্য আবেদন করে থাকার সময় বাড়াতে পারবেন না।
তবে এই পরিবর্তন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ভিজিটরদের ওপর পূর্ববর্তী তারিখ থেকে প্রয়োগ করা হবে না। এটি ভবিষ্যতে ইস্যু করা ভিসার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হিসাবে, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৭৭ হাজার ব্যক্তি বৈধ ভিসা ছাড়া অবস্থান করছেন।
সরকার ২০১৫ সালের আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। সে সময় ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে অবস্থানকারীদের আটক কেন্দ্রে নেওয়া হতো এবং দ্রুত দেশত্যাগের ব্যবস্থা করা হতো।
নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরও ১০০ জন কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা নিয়োগ এবং ২৫০টি অতিরিক্ত ডিটেনশন শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজন হলে মেলবোর্নের সাবেক কোভিড কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রকে আটককেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
টনি বার্ক বলেছেন, এটি অন্য কোনো দেশে দেখা বৃহৎ পরিসরের অভিযান বা ধরপাকড়ের মতো হবে না। তবে ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে অবৈধভাবে অবস্থান করলে তার কোনো পরিণতি নেই—এমন ধারণা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।
যোগ্যতা বা যথেষ্ট ভিত্তি না থাকা সত্ত্বেও ভিসা বা আশ্রয়ের আবেদন করতে উৎসাহিত করেন—এমন মাইগ্রেশন এজেন্টদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাইগ্রেশন এজেন্টদের আচরণবিধি পরিবর্তন করে জরিমানা, নিষেধাজ্ঞা এবং নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের মতে, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ব্যবহার করে কেউ যেন ভিত্তিহীন আবেদন বা অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবসায়ে উৎসাহ দিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের সুরক্ষা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টনি বার্ক বলেন, যাঁদের সুরক্ষার আবেদন বাস্তব ও যথার্থ, তাঁদের জন্য ব্যবস্থা কার্যকর রাখা হবে। তবে যাঁরা আবেদন সফল হওয়ার সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও শুধু অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানের সময় বাড়ানোর জন্য সুরক্ষা ভিসা ব্যবস্থা ব্যবহার করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দক্ষ অভিবাসীদের জন্য ব্যবহৃত পয়েন্ট-ভিত্তিক ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হবে। আবাসন নির্মাণসংশ্লিষ্ট কারিগরি যোগ্যতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির সমপরিমাণ পয়েন্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্মাণশ্রমিকের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, বয়স্ক পরিচর্যা, শিক্ষা, কৃষি, মৎস্য এবং সম্পদ খাতের কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
টনি বার্ক বলেন, অস্ট্রেলিয়ার আবাসন সংকটের জন্য অভিবাসনকে এককভাবে দায়ী করা ঠিক নয়। বরং সংকট মোকাবিলায় আরও নির্মাণকর্মী প্রয়োজন, যাঁদের একটি অংশ দক্ষ অভিবাসনের মাধ্যমে আসবেন।
তাঁর ভাষায়, অভিবাসনের গতি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে আবাসন খাত প্রয়োজনীয় সময় পায়। তবে অভিবাসন এত বেশি কমানো যাবে না, যাতে প্রয়োজনীয় বাড়ি নির্মাণের জন্য শ্রমিকই পাওয়া না যায়।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরের ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার ক্ষেত্রেও ব্যালট ব্যবস্থা চালু করা হবে। দ্বিতীয় বছর অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সুযোগ পাবেন সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার ওয়ার্কিং হলিডে ভিসাধারী। বর্তমানে এই সংখ্যা প্রায় ৫৭ হাজার।
তৃতীয় বছরের জন্য সুযোগ পাবেন মাত্র ৫ হাজার ব্যক্তি, যা আগে প্রায় ৩১ হাজার ছিল।
দ্বিতীয় বা তৃতীয় বছরের ভিসার জন্য সাধারণত আঞ্চলিক এলাকায় নির্দিষ্ট সময় কাজ করার শর্ত রয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া–যুক্তরাজ্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তির কারণে ব্রিটিশ নাগরিকেরা এই শর্ত থেকে অব্যাহতি পাবেন।
সরকার জানিয়েছে, আঞ্চলিক এলাকায় কাজের শর্ত পূরণকারী দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরের আবেদনকারীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণের গতি আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হবে।
অভিবাসন কমানোর পরিকল্পনার মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ার মানবিক ও শরণার্থী কর্মসূচির আওতায় বার্ষিক গ্রহণের সংখ্যা ২০ হাজারে অপরিবর্তিত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজি।
এর আগে শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমানো হতে পারে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সরকার সেই সম্ভাবনা নাকচ করেছে।
অ্যাসাইলাম সিকার রিসোর্স সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা কন কারাপানাগিওটিডিস নতুন নীতিকে “বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি অন্ধকার দিন” বলে অভিহিত করেছেন।
তাঁর অভিযোগ, নতুন পরিবর্তনগুলো অভিবাসী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে। বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে অবস্থানকারীদের আটক এবং ডিটেনশন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে টনি বার্ক বলেছেন, অভিবাসীরা অস্ট্রেলীয় সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর দাবি, সংস্কারের উদ্দেশ্য কোনো সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা নয়; বরং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করে অর্থনীতি ও প্রয়োজনীয় সেবার জন্য কার্যকর একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
নতুন পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারেন—
অন্যদিকে নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, বয়স্ক পরিচর্যা, শিক্ষা, কৃষি, মৎস্য ও সম্পদ খাতের যোগ্য কর্মীরা নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থায় তুলনামূলকভাবে সুবিধা পেতে পারেন।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার নতুন নীতি একদিকে সামগ্রিক অভিবাসনের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের প্রবেশ অব্যাহত রাখতে চাইছে। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এবং অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: সংযুক্ত SBS News প্রতিবেদন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au