খুলনায় ছাত্র হত্যা মামলায় খুবির সাবেক শিক্ষার্থী আটক
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের পাশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় হাসনাত হাবিব রিফাত নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স…
পাকিস্তানে বছরে প্রায় ১৫ লাখ শিশু অনলাইনে যৌন শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের একটি বড় অংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা এখনও পর্যাপ্ত নয়।
প্রতিবেদনে পাকিস্তানি ১৭ বছর বয়সী কিশোরী জারা শাহরায়ের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এটি তার ছদ্মনাম। একটি অনলাইন কম্পিউটার গেম খেলতে গিয়ে এক অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। শুরুতে স্বাভাবিক বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন হলেও ধীরে ধীরে ওই ব্যক্তি তাকে দেখা করার প্রস্তাব দেয় এবং পরে আপত্তিকর ছবি পাঠানোর জন্য চাপ দিতে থাকে।
জারা জানায়, সে ছবি পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে ওই ব্যক্তি তাকে হুমকি দেয়। অনলাইনে তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করে তাদের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ পেলে স্কুলে যাওয়া কিংবা বাড়ির বাইরে বের হওয়ার সুযোগও বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় সে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি।
ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ভুক্তভোগী শিশুদের প্রায় ৮৫ শতাংশের ক্ষেত্রেই অপরাধীরা আগে থেকেই তাদের পরিচিত ছিল। ইউনিসেফের প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ড্যানিয়েল কার্ডেফেল্ট বলেন, অনলাইন যৌন শোষণ অনেক সময় বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন, অনলাইন গেমিং, উপহার, অর্থ কিংবা ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু হয়। অপরাধীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে শিশুদের বিশ্বাস অর্জনে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের ভুক্তভোগী শিশুদের প্রায় ৭১ শতাংশ তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া শোষণের বিষয়টি কাউকে জানায়নি। জরিপে অংশ নেওয়া কোনো শিশুই পুলিশ, হেল্পলাইন বা সমাজকর্মীদের মতো আনুষ্ঠানিক কোনো মাধ্যমে অভিযোগ করেনি। সামাজিক লজ্জা, পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার ভয় এবং কলঙ্কের আশঙ্কাই তাদের নীরব থাকার অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লাহোরভিত্তিক শিশু অধিকার সংগঠন ‘পাহচান’-এর পরিচালক মেহেক নাঈম জানান, তাদের কাছে রিপোর্ট হওয়া অনলাইন যৌন শোষণের প্রায় ৪৪ শতাংশ সম্পূর্ণ অনলাইনেই ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্ন্যাপচ্যাট ও হোয়াটসঅ্যাপ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের রক্ষণশীল সামাজিক পরিবেশে মেয়েরা ডিজিটাল যৌন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের কারণে তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কোনো ঘটনা পরিবারে জানাজানি হলে অনেক সময় তাদের চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, এমনকি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। ফলে অনেক শিশু অপরাধের শিকার হওয়ার পরও বিষয়টি গোপন রাখে।
জারা জানায়, ঘটনার পর থেকে সে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তার আশঙ্কা ছিল, পরিবার বিষয়টি জানতে পারলে তাকে স্কুলে যাওয়া কিংবা বাড়ির বাইরে বের হওয়ার অনুমতি নাও দিতে পারে। ফলে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বিষয়টি গোপন রাখাকেই সে নিরাপদ মনে করেছিল।
ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৭৪ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। শিশুদের মধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের ব্যবহার যত বাড়ছে, অনলাইন যৌন শোষণ, হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের ঝুঁকিও তত বাড়ছে।
এদিকে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার চলতি মাসে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ডিজিটাল অধিকারকর্মী উসামা খিলজি এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বলেন, বাস্তবে এটি কার্যকর করা কঠিন হবে। শিশুরা ভিপিএন ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, শিশুদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
অলাভজনক সংস্থা ‘মুসলিম হ্যান্ডস’-এর মুখপাত্র তাহিরা আফ্রাসিয়াব বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তি-সহায়ক অপরাধ মোকাবিলায় পাকিস্তানে আইন থাকলেও সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান আইনি কাঠামোতেও বেশ কিছু ফাঁকফোকর রয়েছে।
মানবাধিকার আইনজীবী সালমান আফ্রিদি বলেন, অর্থনৈতিক দুর্বলতাকেও শিশুদের যৌন শোষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সামান্য অর্থের বিনিময়ে যৌন উপাদান তৈরিতে শিশুদের যুক্ত করার ঘটনা এর উদাহরণ। তার মতে, গ্রুমিং, প্রলোভন, জবরদস্তি, ব্ল্যাকমেইল, যৌন উপাদান তৈরি, সেগুলোর বিতরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ শোষণব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।
ইউনিসেফের প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য বলছে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ নয়, বরং সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা জোরদার, সহজলভ্য অভিযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান আইন কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। জারার মতো অনেক শিশুর জন্য অনলাইনে শুরু হওয়া একটি সাধারণ কথোপকথনের ভয়াবহ পরিণতি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলছে।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au