মাঠের বাইরের সংকটে রুগ্ণ বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট
এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক ধরে রাখতে না পারার পেছনে শুধু ব্যাটিং-বোলিংয়ের ব্যর্থতা নয়, মাঠের বাইরের অস্থিরতাও বড় কারণ বলে মনে করছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান তুলে ধরতে মঙ্গলবার ভোরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সফরের আগে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেছেন, শক্তি প্রয়োগ করে কোনো জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘদিন অধীন করে রাখা যায় না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পেজেশকিয়ান ইরানি জনগণের ক্ষোভ, সংঘাতের সময় সংঘটিত অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তৈরি হওয়া আস্থার সংকটের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
দেশ ছাড়ার আগে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান একাধিকবার আলোচনার টেবিলে বসেছে এবং বিভিন্ন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু তার দাবি, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা এবং স্বাক্ষরিত চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আস্থার সংকট আরও গভীর করেছে।
তিনি বলেন, শক্তিপ্রয়োগ করে মানুষকে কখনো বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করা যায় না। গাজা, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ঘটনাগুলো এর বাস্তব উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, ইরানের জনগণকে বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং এ উদ্দেশ্যে দেশটির ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তার দাবি, সামরিক উপায়ে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য অন্য পদ্ধতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও অভিযোগ করেন, দেশটির স্থল ও আকাশপথ বন্ধ করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিভেদ উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। গণমাধ্যম ও বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীকেও এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলো কাজে লাগিয়ে ইরানকে ভেতর থেকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিশ্বনেতারা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে আলোচনা করছেন।
এদিকে, জাতিসংঘ অধিবেশনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদলকে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে, যদিও এবারের প্রতিনিধিদলের ওপর কিছু ভ্রমণ ও চলাচলসংক্রান্ত বিধিনিষেধ রয়েছে।
জাতিসংঘের এই অধিবেশনে পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে দেশটির অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুত্রঃরয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au