ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে…
নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণ পরিস্থিতি মূল্যায়নে নতুন কাঠামো আনছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ঋণের ঝুঁকি বৃদ্ধি, ঋণের উৎসে পরিবর্তন এবং জলবায়ু ও উন্নয়ন ব্যয়ের বাড়তি চাপ বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান ঋণ টেকসই মূল্যায়ন কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থা দুটি। ২০১৭ সালের পর এবারই প্রথম যৌথভাবে এই কাঠামো বড় পরিসরে পর্যালোচনা করা হলো।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদ নতুন সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। নতুন কাঠামোটি ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সংশোধিত নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশ ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য সময় দেওয়া হবে।
নতুন ব্যবস্থায় নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণঝুঁকি আগের তুলনায় আরও বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ ঋণ, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন চাহিদা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বাণিজ্যিক শর্তে নেওয়া ঋণের বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো দেশ ঋণসংকটে পড়ার ঝুঁকিতে আছে এবং কোনো দেশের ঋণ ইতোমধ্যে টেকসই নয়, এই দুই পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্টভাবে আলাদা করার ব্যবস্থা থাকবে।
নতুন কাঠামোর অন্যতম লক্ষ্য হলো কোনো দেশ ঋণসংকটে পড়ার আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করা। এ জন্য ঋণের পূর্বাভাস কতটা বাস্তবসম্মত, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের চাপ-পরীক্ষা বা স্ট্রেস টেস্ট আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে। ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা পরিমাপের পদ্ধতিও নতুন করে সাজানো হবে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় ঋণচাপের ঝুঁকি এবং ঋণ টেকসই না হওয়ার পরিস্থিতিকে আরও সূক্ষ্মভাবে চিহ্নিত করা হবে। দেশগুলোর ঋণ বহনের সক্ষমতা পরিমাপের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা এবং ঝুঁকি নির্দেশক বিভিন্ন সীমা পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি ঋণের স্থায়িত্ব যাচাইয়ে নতুন কিছু উপকরণ যুক্ত করা হবে।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণের ধরন ও উৎসে বড় পরিবর্তন এসেছে। এসব দেশ শুধু বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করছে না, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও ঋণ নিচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু দেশ বাণিজ্যিক শর্তে বৈদেশিক অর্থায়নের ওপরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।
ফলে শুধু বৈদেশিক সরকারি ঋণের পরিমাণ বিবেচনা করে কোনো দেশের প্রকৃত ঋণঝুঁকি নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন কাঠামোয় অভ্যন্তরীণ ঋণের ঝুঁকি আরও পদ্ধতিগতভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। এর মধ্যে সরকারি ঋণ ও ব্যাংকিং খাতের পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে তৈরি হতে পারে এমন ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ঋণের তথ্যের স্বচ্ছতার বিষয়টিও নতুন কাঠামোয় গুরুত্ব পাবে। সরকারি ঋণ এবং সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের দায়সহ জনঋণের আওতা আরও পরিষ্কারভাবে নির্ধারণের ওপর জোর দেওয়া হবে। ঋণসংক্রান্ত তথ্যের মান, পরিধি ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে দেশগুলোকে উৎসাহিত করার ব্যবস্থাও থাকবে।
নতুন কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন চাহিদাকে ঋণ মূল্যায়নের সঙ্গে আরও ভালোভাবে যুক্ত করা। একটি দেশের অবকাঠামো, মানবসম্পদ ও জলবায়ু অভিযোজনের মতো প্রয়োজনীয় খাতে বিনিয়োগের জন্য কতটা আর্থিক সক্ষমতা বা রাজস্ব-সুযোগ রয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের মতে, শুধু ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা দেখলে একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বাস্তবতার পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগও অনেক নিম্ন আয়ের দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন কাঠামোয় এসব বিনিয়োগের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ও সরকারি অর্থের ওপর প্রভাবও বিশ্লেষণ করা হবে।
নতুন ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের বাস্তবতা যাচাইয়ে আরও শক্তিশালী পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। প্রবৃদ্ধি, সরকারি রাজস্ব, রপ্তানি আয়সহ বিভিন্ন সূচকের সম্ভাব্য পরিবর্তন ঋণ পরিস্থিতির ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা চাপ-পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হবে।
এর ফলে স্বাভাবিক পরিস্থিতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ধাক্কা, দুর্বল প্রবৃদ্ধি বা অন্যান্য নেতিবাচক পরিস্থিতিতে একটি দেশের ঋণ কতটা টেকসই থাকবে, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। বিশ্বব্যাংক বলছে, নতুন কাঠামোর বাস্তবতা যাচাইয়ের উপকরণ ও স্ট্রেস টেস্ট পূর্বাভাসের ধারাবাহিকতা ও নির্ভুলতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
নতুন কাঠামোর বেশ কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হলেও ঋণ মূল্যায়নে ব্যবহৃত সমন্বিত ডিসকাউন্ট রেট ৫ শতাংশই রাখা হয়েছে। আইএমএফ জানিয়েছে, এই হার পরিবর্তনের বিষয়ে পর্যালোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের নতুন ঋণ টেকসই মূল্যায়ন কাঠামো ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সংশোধিত কাঠামো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের যৌথ এই কাঠামোটি ২০০৫ সালে চালু করা হয়েছিল এবং ২০১৭ সালে এর সর্বশেষ বড় পর্যালোচনা হয়। নতুন পর্যালোচনায় সংস্থা দুটি বলছে, গত কয়েক বছরে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, অর্থায়নের উৎসে বৈচিত্র্য, অভ্যন্তরীণ ঋণের বিস্তার এবং উন্নয়ন ও জলবায়ু খাতে বাড়তি অর্থের প্রয়োজনীয়তার কারণে পুরোনো কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
নতুন কাঠামোর মাধ্যমে ঋণসংকটের সম্ভাব্য ঝুঁকি আরও আগে শনাক্ত করা, ঋণের প্রকৃত চাপ নির্ণয় এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও জলবায়ু বিনিয়োগের প্রয়োজনের সঙ্গে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার ভারসাম্য মূল্যায়নের লক্ষ্য নিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au