হরমুজের কাছে জাহাজে টর্পেডো হামলা, ভারতীয় নাবিক নিহত
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার মধ্যে ওমানের উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভারতমুখী এমভি কেপ দাও নামের জাহাজটিতে…
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গানের রিল ভিডিও প্রকাশের পর সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে আলোচনায় আসা সিলেটের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পাল এবার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিউটি রানী পাল জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিলেট জেলার সব উপজেলা থেকে বাছাই করা শিক্ষকদের মধ্য থেকে চারজনকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিউটি রানী পালও রয়েছেন।
জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত অন্য তিন শিক্ষক হলেন সিলেট সদর উপজেলার জহিরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন লস্কর, ওসমানীনগর উপজেলার আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার চৌধুরীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আদরী রানী দাস।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা একটি স্মারকের মাধ্যমে নির্বাচিত চার শিক্ষকের নাম বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে বিভাগীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে যে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে বিউটি রানী পালের নাম দেখা যায়নি।
এর আগে চলতি বছরের ২৩ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রিল ভিডিও প্রকাশকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন বিউটি রানী পাল। ‘ডিফরেন্ট টাচ’ ব্যান্ডের জনপ্রিয় গান ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’ গানের একটি অংশ ব্যবহার করে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই ভিডিওটি পোস্ট করেছিলেন তিনি।
পরে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটির সঙ্গে নেতিবাচক মন্তব্য ও বিভিন্ন তথ্য যুক্ত করে সেটি ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিউটি রানী পালকে নিয়ে ব্যাপক ট্রল ও সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে সাইবার বুলিংয়ের মুখে তিনি ভিডিওটি সরিয়ে নেন।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হলে দেশের বিভিন্ন এলাকার নারী শিক্ষকরা এর প্রতিবাদে অভিনব কর্মসূচি নেন। একই গানের সঙ্গে নিজেদের ছবি ও ভিডিও যুক্ত করে তাঁরা ফেসবুকে পোস্ট করতে শুরু করেন। কয়েকশ নারী শিক্ষকের এমন প্রতিবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষক সমাজের এই উদ্যোগের সঙ্গে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও সংহতি প্রকাশ করেন।
রিল ভিডিও নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি বিউটি রানী পাল দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শ্রেণিকক্ষে আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান, শরীরচর্চা এবং নাচের ছন্দের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় শেখানোর ভিডিও নিয়মিত দেখা যায়। এসব কার্যক্রমের কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছেও তিনি জনপ্রিয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিক্ষাজীবনে বিউটি রানী পাল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষায় কাজ করে আসছেন। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
এর আগেও একবার জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন বিউটি রানী পাল। এবারও জেলা পর্যায়ে চারজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের মধ্যে তাঁর নাম থাকায় তাঁর শিক্ষকতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজের ধরন এবং বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সৃজনশীল উদ্যোগ আবারও আলোচনায় এসেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, উপজেলা পর্যায়ের বাছাই শেষে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের নির্বাচন করা হয়। এরপর নির্বাচিতদের নাম বিভাগীয় পর্যায়ে পাঠানো হয়। বিভাগীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত বাছাইয়ে বিউটি রানী পাল নির্বাচিত না হলেও জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে তাঁর স্বীকৃতি বহাল রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au