ময়মনসিংহে ড্রামের ভেতর থেকে হিন্দু স্বর্ণকারের মরদেহ উদ্ধার
ময়মনসিংহে পানিতে ভাসতে থাকা একটি ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০)। তিনি একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের…
পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হিন্দু প্রধান শিক্ষকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে নয় বছর বয়সী একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রাতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন ওই শিক্ষক। পরে তিনি নাজিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, একটি বিদেশি বা ইন্টারনেটভিত্তিক নম্বর থেকে ফোন করে ওই শিক্ষককে ভয় দেখানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং হুমকিদাতাকে শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক কিশোর কুমার হালদার (৫৪) নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বৈবুনিয়া গ্রামের নিরোদ বিহারী হালদারের ছেলে। তিনি শাঁখারীকাঠী ইউনিয়নের ৯৫ নম্বর বুড়িখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তার একমাত্র মেয়ে সুপ্তি হালদার মিকি (৯) চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।
কিশোর কুমার হালদারের করা জিডি ও তার বক্তব্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে একটি নম্বর থেকে তার মোবাইল ফোনে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ওই টাকা আগামী শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এর মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
কিশোর কুমার হালদার বলেন, ফোন করে তাকে জানানো হয়, নাজিরপুর থেকে তাকে ও তার পরিবারকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে শুক্রবারের মধ্যে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে সপরিবারে পুড়িয়ে মারা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
হুমকির পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কিশোর কুমার। বিশেষ করে নয় বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। পরে ওই রাতেই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেন বলে জানান।
কিশোর কুমার হালদার বলেন, এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে কী ঘটতে পারে, তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত বছর তার চাচাতো ভাই সঞ্জীব হালদারকে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছিল বলেও জানান কিশোর কুমার। ওই ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। এবার তাকে ও তার পরিবারকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ায় সেই আতঙ্ক আরও বেড়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, যে নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছে সেটি বিদেশি বা ইন্টারনেটভিত্তিক নম্বর হতে পারে। তবে হুমকির সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের পরিচয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নাজিরপুর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, বিদেশি বা ইন্টারনেটের একটি নম্বর থেকে ফোন করে ওই প্রধান শিক্ষককে ভয় দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং হুমকিদাতার সন্ধান করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ হুমকিদাতার পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছে বলা জানা গেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au