সিয়াটল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পাকিস্তানি ‘অভিশপ্ত কনে’
বার্লিন ও ওয়াশিংটনে প্রশংসা পাওয়ার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী রাতে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে পাকিস্তানি নির্মাতা সারমাদ খুসাতের সিনেমা ‘লালি’। দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্র…
ফিলিস্তিন ও ইরান ইস্যুতে আন্তর্জাতিকভাবে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং জাতিসংঘের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে অ্যান্থনি আলবানিজ এসব কথা বলেন। ভাষণে তিনি ফিলিস্তিনে শান্তির সম্ভাবনা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ইরানের কর্মকাণ্ড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সংস্কার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান তুলে ধরেন।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে আলবানিজ বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা অস্ট্রেলিয়া অব্যাহত রাখবে। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শান্তির সম্ভাবনা নষ্ট করে এমন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধেই অস্ট্রেলিয়া অবস্থান নেবে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি শাসনব্যবস্থায় হামাসের সশস্ত্র সদস্যদের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয় বলেও মত দেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় হামাসের সশস্ত্র অংশের ভূমিকা থাকা উচিত নয়।
ইরান প্রসঙ্গে আলবানিজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এর প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে। অস্ট্রেলিয়া যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে জানিয়ে তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ওই পথে জাহাজ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ইরানকে আঞ্চলিকভাবে নির্বিচার হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান আলবানিজ। পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
ভাষণের একটি বড় অংশজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশীলতা, বিজ্ঞান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে এই প্রযুক্তি নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও ব্যবহারে মানুষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আলবানিজ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে উপেক্ষা করা বা এর ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। বরং সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত প্রযুক্তিটির বিকাশ ও ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করা।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সরকারি একটি ওয়েবসাইটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি ব্যবস্থার অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুনে একটি ওপেনএআই এজেন্ট দেশটির মেডিকেয়ার পরিসংখ্যানসংক্রান্ত সরকারি পোর্টালে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল। তদন্তে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত তথ্য accessed হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে, তবে বিষয়টি নিয়ে ফরেনসিক তদন্ত চলছে।
জাতিসংঘের বর্তমান কাঠামো সংস্কারেরও আহ্বান জানান আলবানিজ। তার মতে, ছোট ও মাঝারি শক্তির দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, উন্নয়ন ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশগুলোর উদ্বেগ ও মতামত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি এমন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান জানান, যেখানে কোনো দেশ অন্য দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে না এবং প্রতিটি দেশ নিজের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে স্বাধীনভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।
আলবানিজের বক্তব্যে ফিলিস্তিন ও ইরান ইস্যুতে যুদ্ধ ও সংঘাত কমানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশকে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল কাঠামোর মধ্যে আনার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au