মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিশ্চিত করতে জোর চেষ্টা স্ক্যালোনির
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়টা স্মরণীয় করে রাখতে তাকে জাতীয় দলের জার্সিতে আরেকবার মাঠে নামানোর জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। নিজেই…
ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাবসহ মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে ইতালীয় ভাষায় কথা বলতে পারেন না, এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা একটি শ্রেণিকক্ষে মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। নতুন নিয়ম ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন করে। পরে রবিবার জাতীয়তাবাদী রক্ষণশীল দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব শাখার এক সমাবেশে মেলোনি নতুন পদক্ষেপগুলোর কথা তুলে ধরেন। অধ্যাদেশটি কার্যকর হলে দেশটির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর থেকে কোনো শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় কথা বলতে পারেন না এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশের বেশি রাখা যাবে না। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে এসব শিক্ষার্থীকে ইতালীয় ভাষা শেখার জন্য বাড়তি সুযোগ দেওয়া এবং স্কুলে তাদের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা সম্ভব হবে।
ইতালির শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা জানিয়েছেন, কোনো শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্ধারিত সীমার বেশি হলে স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে দিতে পারবে। তবে কোনো স্কুলের পক্ষে এই নিয়ম বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলে বিশেষ ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি এসব স্কুলকে অতিরিক্ত ভাষাগত সহায়তার জন্য অর্থও দেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর হিসাব অনুযায়ী, নতুন নিয়মের আওতায় পড়তে পারে প্রায় ১ হাজার শ্রেণিকক্ষ। দেশটির মোট শ্রেণিকক্ষের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ।
অধ্যাদেশের মাধ্যমে নিয়মগুলো দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর জন্য ৬০ দিনের মধ্যে ইতালির সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি দেশটির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লার স্বাক্ষরও প্রয়োজন হবে।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ইতালীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা এবং স্কুলে বোরকা ও নিকাব বন্ধের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি স্কুলব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে নিয়ম মেনে সবাইকে একীভূত করা হবে এবং যেসব শিক্ষার্থী বেশি সমস্যার মধ্যে রয়েছে, তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
তবে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা রয়েছে। বিরোধী রাজনীতিকদের অভিযোগ, আগামী বছরের নির্বাচনের আগে সংস্কৃতি ও অভিবাসন ইস্যুকে সামনে এনে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে মেলোনির সরকার। তাদের দাবি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা রবার্তো ভান্নাচ্চির নেতৃত্বাধীন উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল ফিউচার দলের জনপ্রিয়তা ঠেকাতেও এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মধ্য-বামপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এলি শ্লেইন সরকারের অধ্যাদেশের সমালোচনা করে বলেন, নতুন একটি আদর্শিক বিতর্কের আড়ালে সরকারি স্কুলব্যবস্থার প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শিক্ষক ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকেও আপত্তি জানানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, নতুন নিয়ম প্রণয়নের আগে শিক্ষকদের সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা করা হয়নি। একই সঙ্গে এসব নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও সহায়তার ব্যবস্থাও যথেষ্ট নয় বলে দাবি করেছে তারা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অভিবাসী পরিবারের সংখ্যা বেশি, সেসব এলাকায় নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্কুল প্রধানরা।
জাতীয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি আন্তোনেল্লো জিয়ানেল্লি বলেন, শিক্ষার দিক থেকে সরকারের উদ্যোগের উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা বাস্তবে কার্যকর করা কঠিন হতে পারে।
ইতালির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে দেশটির স্কুলগুলোর মোট শিক্ষার্থীর ১১ দশমিক ২ শতাংশ ছিল অন্য দেশের নাগরিক। একই সময়ে দেশটির মোট শ্রেণিকক্ষের ৭ দশমিক ৬ শতাংশে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩০ শতাংশের বেশি।
ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ইতালির স্কুলগুলোতে পোশাকের বিধিনিষেধের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের শ্রেণিবিন্যাস এবং ইতালীয় ভাষা শেখানোর ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au