মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিশ্চিত করতে জোর চেষ্টা স্ক্যালোনির
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়টা স্মরণীয় করে রাখতে তাকে জাতীয় দলের জার্সিতে আরেকবার মাঠে নামানোর জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। নিজেই…
আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও কারাগার থেকে মুক্তি না পাওয়া কিংবা জেলগেট থেকে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এবং প্রচলিত আইনের প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবী ও ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা।
গত বছর মার্চে ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আহসান আহমেদ। নিরাপত্তার কারণে এটি তার ছদ্মনাম। তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা ছিল। নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে পরে উচ্চ আদালত থেকে ওই দুই মামলায় জামিন পান তিনি। এতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগে।
কিন্তু জামিন পাওয়ার পরও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি আহসান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তির প্রস্তুতি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা কারাগারের গেটে অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক সেই সময় কারাগারের একজন কর্মী তাকে নতুন একটি মামলার কপি দেন। সেখানে অন্য একটি থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর কথা জানানো হয়।
আহসান বলেন, নতুন মামলাটি তার আগে জানা ছিল না। এরপর নতুন ওই মামলাসহ আরও দুই দফায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন তিনি। কিন্তু প্রতিবারই জামিনের পর নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। শেষ পর্যন্ত পঞ্চমবার জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। ততদিনে কারাগারে থাকার সময় দাঁড়ায় প্রায় দেড় বছর।
আহসানের মতো জামিন পাওয়ার পরও মুক্তি না পাওয়া বা কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর অভিযোগ বাংলাদেশে নতুন নয়। এ ধরনের প্রক্রিয়াকে সাধারণভাবে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিয়ে নানা অভিযোগ ও সমালোচনা রয়েছে।
আরেক ভুক্তভোগী আশিকুর রহমানের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের। এটিও তার ছদ্মনাম। গত বছর একটি নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর ৭২ দিনের মাথায় নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান তিনি।
আশিকুরের দাবি, জামিনের পর কারাগারের গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় কয়েকজন সাদা পোশাকের ব্যক্তি তাকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয় না দিয়ে তাকে অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর কথা জানান। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং আবারও কারাগারে পাঠানো হয়।
বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধিতে কারাগারে থাকা কোনো ব্যক্তিকে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। ২০২৫ সালে ফৌজদারি কার্যবিধিতে যুক্ত হওয়া ১৬৭(এ) ধারায় এ বিষয়ে কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে বিএনপি সরকার আইন হিসেবে এটি অনুমোদন করে।
আইন অনুযায়ী, কারাগারে থাকা কোনো ব্যক্তিকে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখাতে হলে তাকে আদালতে হাজির করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মামলার কেস ডায়েরি বা তদন্তসংক্রান্ত নথি আদালতে উপস্থাপন করতে হবে এবং আসামিকে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

ঢাকার নিম্ন আদালতে প্রিজন ভ্যানেএকজন আসামি।ছবিঃ বিবিসি
অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা জজ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শাহজাহানের মতে, জামিন পাওয়ার পর কোনো ব্যক্তিকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর সুযোগ নেই। তার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তির সব মামলায় জামিন হয়ে গেলে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে হবে। এর পর তাকে জেলগেটে আটকে রাখা বা অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলে তা বেআইনি হওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে জামিন পাওয়ার আগেই অন্য কোনো মামলায় গ্রেফতার দেখানোর ক্ষেত্রে আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সম্ভব বলে তিনি জানান। সে ক্ষেত্রে তদন্তের নথি, মামলায় আসামির সম্পৃক্ততার তথ্যসহ প্রয়োজনীয় বিষয় আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে জামিনের পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নতুন মামলা দিয়ে আসামিদের আটকের অভিযোগও উঠেছে।
কুষ্টিয়ার একটি ঘটনায় এমন অভিযোগ করেছেন ওয়াসিম আকরাম। তার দাবি, তার বাবা করিম প্রামাণিকসহ আটজন আসামি একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাদের মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে নতুন একটি নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
ওয়াসিমের অভিযোগ, তার বাবা ও অন্য আসামিদের কারাগারের ভেতর থেকেই পুলিশ নিয়ে যায়। পরে নতুন মামলায় তাদের এমনভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়, যেন তারা কারাগার থেকে বের হয়ে বাইরে গিয়ে নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত হয়েছিলেন।
তবে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন কারাগারের ভেতর থেকে আসামিদের আটকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মামলার এজাহারে যেভাবে ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশ সেভাবেই ব্যবস্থা নিয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা কারাগার
অন্যদিকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. শরিফুল আলম বলেছেন, কারাগারের ভেতর থেকে কাউকে আটক করার সুযোগ নেই। তার ভাষ্য, আসামিদের কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর গেটের বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের নিয়ে গেছেন।
এতে আসামিদের প্রকৃতপক্ষে কোথায় এবং কীভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একদিকে স্বজনেরা দাবি করছেন, আসামিরা কারাগার থেকে বের হয়ে আসেননি। অন্যদিকে পুলিশ মামলার এজাহারে তাদের কারাগার থেকে বের হওয়ার পর নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করেছে।
জামিনের পর নতুন মামলা দিয়ে আটক বা শ্যোন অ্যারেস্টের অভিযোগ নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো কোনো মামলায় আরও আসামিকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সরকারের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানান তিনি। এ ধরনের ঘটনা সত্যি ঘটলে বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নেওয়ার কথাও বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
জামিন একজন আসামির আইনগত অধিকার হলেও নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ও নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। একই সঙ্গে জামিনের পরও কাউকে দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখার সুযোগ আছে কি না, তা নিয়েও আইনজীবী, ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au