হুথি হামলা ঘিরে সৌদি আরবে বৈঠকে বসছেন তুরস্ক-পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর উপায় নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা। শুক্রবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে…
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একটি বাল্ড ঈগলের ভাস্কর্য উপহার দিয়েছেন। ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে ভিআইপি অতিথিদের সামনে ভাস্কর্যটি উন্মোচন করা হয়।
বাল্ড ঈগল উত্তর আমেরিকার স্থানীয় পাখি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীক। ট্রাম্পের ভাষায়, ঈগলের এই ভাস্কর্য ‘আমেরিকার স্বাধীন ও ঊর্ধ্বগামী চেতনার’ প্রতীক।
ট্রাম্প জানান, ভাস্কর্যটির নকশা তৈরির কাজে তিনি ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও অংশ নিয়েছেন।
তবে এই উপহারের তাৎপর্য শুধু প্রতীকী নয়। কূটনীতিতে রাষ্ট্রীয় উপহার বিনিময় দুই দেশের নেতাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
এশিয়া গ্রুপের অংশীদার ও দীর্ঘদিনের মার্কিন কূটনীতিক ড্যানিয়েল ক্রিটেনব্রিঙ্ক বলেন, শি ও ট্রাম্পের বৈঠকে জটিল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুরুত্ব রয়েছে।
তার মতে, ট্রাম্প ও শি’র সরাসরি সম্পর্ক বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্পও নেতা-পর্যায়ের কূটনীতিকে গুরুত্ব দেন বলে মনে করেন তিনি।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রীয় উপহারের বিষয়টি বেশ আলোচনায় এসেছে। এর আগে তিনি বিলাসবহুল জাম্বো জেট, খোদাই করা সোনার বার, হীরা ও রত্নখচিত সোনার আংটিসহ বিভিন্ন উপহার পেয়েছেন।

হোয়াইট হাউজে আয়োজিত নৈশভোজে শি জিনপিং ও তার স্ত্রীকে স্বাগত জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া। ছবি: সংগৃহীত
নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের গবেষক ওলে জ্যাকব সেন্ডিংয়ের মতে, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির কাজের ধরন বোঝার ক্ষেত্রে উপহার বিনিময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অন্যদিকে, কূটনীতি ও উপহার নিয়ে গবেষণা করা মর্টেন স্কুমসরুড অ্যান্ডারসন বলেন, চীনের মতো কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রগুলোতে তুলনামূলকভাবে বেশি মূল্যবান উপহার দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে এ ধরনের উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রে আইন ও বিধিনিষেধ থাকায় ঐতিহ্যটি অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে।
ট্রাম্পের উপহারের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার চীনের পক্ষ থেকেও বেশ কিছু উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন শি জিনপিং।
তিনি জানান, চীন আটলান্টার একটি চিড়িয়াখানায় দুটি জায়ান্ট পান্ডা পাঠাবে। পাশাপাশি নতুন একটি শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি চালু করা হবে। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ মার্কিন শিক্ষার্থীর চীনে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হবে।
শি বলেন, জায়ান্ট পান্ডা চীনা ও মার্কিন জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের দূত হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি জানান, পিং পিং ও ফু শুয়াং নামের দুটি পান্ডা শিগগিরই আটলান্টার নতুন আবাসে যাবে।
তবে শি জিনপিং ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে আর কোনো উপহার দিয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
রাষ্ট্রীয় উপহার দেওয়া বা নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু সৌজন্য নয়, আইন ও প্রটোকলের বিষয়ও জড়িত থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বিদেশি সরকারের কাছ থেকে প্রেসিডেন্ট কী ধরনের ও কত মূল্যের উপহার গ্রহণ করতে পারবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।

শি জিনপিংকে ট্রম্পের উপহার দেওয়া ঈগলের মূর্তি। ছবি: সংগৃহীত
সেন্ডিং বলেন, কোনো রাষ্ট্রীয় উপহার কী হবে, কোথায় তা বিনিময় করা হবে এবং কীভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে, এসব বিষয় নিয়ে আগেই ব্যাপক পরিকল্পনা ও সমন্বয় করা হয়।
অ্যান্ডারসনের ভাষায়, এ ধরনের উপহার ‘বিমানবন্দরে শেষ মুহূর্তে কেনা কোনো জিনিস নয়’। এর পেছনে সাধারণত দীর্ঘ প্রস্তুতি থাকে।
২০১৩ সালে শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় রেডউড কাঠ দিয়ে তৈরি একটি খোদাই করা বেঞ্চ উপহার দিয়েছিলেন। বেঞ্চটি তৈরি করা হয়েছিল এমন একটি জায়গার স্মৃতি ধরে রাখতে, যেখানে দুই নেতা সাক্ষাৎ করেছিলেন। পরে তারা বেঞ্চটিতে একসঙ্গে বসে ছবিও তোলেন।
তবে সব রাষ্ট্রীয় উপহার বিনিময় এতটা সফল হয়নি।
২০০৯ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ওবামাকে ঐতিহাসিক দাসবিরোধী একটি জাহাজের কাঠ দিয়ে তৈরি শো-পিস পেন হোল্ডার উপহার দিয়েছিলেন। বিপরীতে ওবামা ব্রাউনকে কিছু ডিভিডি উপহার দেন, যেগুলো যুক্তরাজ্যের ডিভিডি প্লেয়ারে ব্যবহারের উপযোগী ফরম্যাটে ছিল না বলে জানা যায়।
সেন্ডিং এটিকে কূটনৈতিক উপহার বিনিময়ের একটি বিব্রতকর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এটি তাদের তৃতীয় সরাসরি বৈঠক। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বৈঠকের গুরুত্বও রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ এবং এ প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা যখন বাড়ছে, তখনই এ শীর্ষ বৈঠক হচ্ছে। পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক বিরোধও পুরোপুরি শেষ হয়নি। সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর সেই বিরতি আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা, সামরিক অভ্যর্থনা, নৈশভোজ এবং উপহার বিনিময়কে শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখছেন না কূটনীতিকরা।
ক্রিটেনব্রিঙ্কের মতে, এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে দৃশ্যমানভাবে একটি বার্তা দেওয়া হয়, আর সেই বার্তার মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ককে যতটা সম্ভব স্থিতিশীল রাখা।
অর্থাৎ, শি জিনপিংকে দেওয়া ট্রাম্পের ঈগলের ভাস্কর্যটি শুধু একটি সৌজন্য উপহার নয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীককে সামনে রেখে এটি একই সঙ্গে আমেরিকান পরিচয়, ব্যক্তিগত কূটনীতি এবং দুই পরাশক্তির সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টার একটি প্রতীকী অংশ।
সূত্র- বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au