হুথি হামলা ঘিরে সৌদি আরবে বৈঠকে বসছেন তুরস্ক-পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর উপায় নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা। শুক্রবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে…
দীর্ঘ সাত বছরের আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ক্ষতিপূরণের অর্থ হাতে পেয়েছেন মার্কিন সাংবাদিক ও লেখক ই জিন ক্যারল। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতে সফল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ক্যারল অন্যতম। তবে ক্ষতিপূরণের অর্থ ফেরত পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প।
গত জুনের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ক্যারলকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা দেওয়ানি মামলায় ট্রাম্পের করা আপিল খারিজ করে দেয়।
এর ফলে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আদালতে জমা রাখা ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণের অর্থ ক্যারলের কাছে দেওয়ার পথ খুলে যায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭০ কোটি টাকা।
তবে অর্থ হাতে পাওয়ার পরও আইনি লড়াই পুরোপুরি শেষ হয়নি। ক্যারলের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ওই অর্থ ফেরত পেতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল সুপ্রিম কোর্টকে আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করা।

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাত বছর ধরে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে আছেন ই জিন ক্যারল। (এপি: শেঠ ওয়েনিগ)
ক্যারল এএফপিকে বলেন, ‘‘আমি আমার অ্যাকাউন্টে টাকা পেলাম, আর ট্রাম্প ক্ষেপে গিয়ে টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য আদালতের নিষেধাজ্ঞা চাইলেন। কেন? কারণ তিনি সুপ্রিম কোর্টকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করাতে চান।’’
তবে চলতি সপ্তাহে ক্যারল জানান, দুই পক্ষের আইনজীবীরা একটি চুক্তিতে সই করেছেন। এর ফলে ওই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আর আইনি জটিলতা নেই।
এখন অর্থটি নিজের প্রয়োজনে খরচ করতে পারলেও ক্যারল বলছেন, এ অর্থের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ নেই।
তিনি বলেন, ‘‘আমি জিনিসপত্র কিনি না। আমি জানি কীভাবে সুখী থাকতে হয়। পৃথিবী যখন শেষের দিকে যাচ্ছে, তখন আপনার আসলে এত টাকার প্রয়োজন নেই।’’
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্যারলের আইনি লড়াইয়ের আরেকটি বড় অধ্যায় এখনো আদালতে চলছে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির মামলায় ক্যারলের জন্য ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাম্প ক্যারলকে মিথ্যাবাদী বলার পর তিনি এই মামলা করেছিলেন।
এই মামলার অর্থও এখনো মার্কিন আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ক্যারল জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে পাওয়া অর্থ এমন সব কাজে ব্যয় করতে চান, যেগুলো তার ভাষায় ট্রাম্প অপছন্দ করেন। এর মধ্যে নারীর অধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয় রয়েছে।

ই জিন ক্যারল ও তাঁর আইনজীবীরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দেওয়ানি মামলায় জয় পাওয়ার পর ম্যানহাটন ফেডারেল কোর্টের বাইরে হাঁটছেন। (রয়টার্স: ব্রেন্ডান ম্যাকডারমিড)
গত বছর প্রকাশিত ‘নট মাই টাইপ’ বইয়ে নিজের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ক্যারল। বইটির নাম ট্রাম্পের সেই মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে দেওয়া, যেখানে তিনি ক্যারলকে নিয়ে বলেছিলেন, তিনি ‘তার ধরনের নারী নন’।
ক্যারলের ভাষায়, গত সাত বছরের আইনি লড়াই ছিল অত্যন্ত কঠিন।
‘‘প্রতিটি মিনিটই কঠিন ছিল। কিছু মুহূর্ত ছিল রোমাঞ্চকর, কিছু ছিল উত্তেজনাপূর্ণ, আবার কিছু ছিল ভীষণ হতাশাজনক। এমনও সময় গেছে যখন শতবার মনে হয়েছে, আমি কেন এখানে আছি। আবার কিছু মুহূর্ত ছিল খুবই মজার,’’ বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘‘কিন্তু পুরো বিষয়টাই কঠিন ছিল। সাত বছরে একটি মুহূর্তও সহজ ছিল না।’’
ক্যারলের মতে, সন্তান না থাকা, বয়স বেশি হওয়া এবং হারানোর মতো তেমন কিছু না থাকার কারণেই তিনি এই লড়াই চালিয়ে যেতে পেরেছেন।
ক্যারল মনে করেন, তার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ন্যায়বিচার পাওয়া কতটা কঠিন। তার মতে, যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে #MeToo আন্দোলনের সময় যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই হারিয়ে গেছে।
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘‘এখন কোনো নারীই কি এমন লড়াই করতে চাইবেন? আপনি কি এখন কোনো নারীকে সামনে আসতে দেখছেন?’’
তার ভাষ্য, ‘‘আমরা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরিসংখ্যান দেখেছি। আমরা বোকা নই। নারীরা এখন অনেকটাই নীরব থাকছেন।’’
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা অন্য নারীদের নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন ক্যারল। তাদের তিনি একটি ‘বোনত্বের বন্ধন’-এর অংশ হিসেবে দেখেন।
ক্যারলের দাবি, এসব নারীর অনেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার পর তার কাছ থেকে ‘ভয়ংকর’ মন্তব্য শুনেছেন।
তিনি বলেন, এমন অন্তত তিনজন নারীর কথা তিনি জানেন, যারা এসব ঘটনার গভীর প্রভাব থেকে এখনো বের হতে পারেননি। তাদের পরিবারও কীভাবে সহায়তা করবে, তা বুঝতে পারছে না বলে জানান তিনি।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার পাশাপাশি চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিকে আরেক দফা আইনি উদ্বেগে পড়েছিলেন ক্যারল।
তখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইলিনয়ের একজন ফেডারেল প্রসিকিউটর তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছেন।
ক্যারল বলেন, তিনি গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় বাড়িঘর পরিষ্কার করে সবকিছু প্রস্তুত করে রেখেছিলেন এবং তার আইনজীবীও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তবে কয়েক দিন ধরে গণমাধ্যমে বিভিন্ন বেনামি সূত্রের মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ইলিনয়ের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি অ্যান্ড্রু বুট্রোস প্রকাশ্যে জানান, ক্যারলের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত শুরু করা হয়নি।
ট্রাম্পের সমর্থকদের কাছ থেকে নিয়মিত হুমকি পাওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্যারল। একই সঙ্গে তার প্রশ্ন, এত ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা কেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছেন না।
ক্যারলের ভাষায়, ‘‘এই সব আমেরিকানের মধ্যে একমাত্র আমিই সফল হয়েছি। এটা কোনোভাবেই বোধগম্য নয়।’’
সূত্র: এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au