পতিত কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরশাসকরা কি ক্ষমতায় ফিরতে পারে?
বাংলাদেশে একটি আলোচনা প্রবল আছে যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে সকল কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরশাসক ও দলের পতন হয়েছে তারা আর কখনো ক্ষমতায় ফিরে আসেনি। শেখ হাসিনার…
OTN Bangla Desk: অস্ট্রেলিয়ার কৃষিখাতে আসন্ন ফসল তোলার মৌসুমে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় কিছু জরুরি ওয়ার্কিং হলিডে মেকার ভিসার (WHM) আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রক্রিয়াকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এটিকে “অস্ট্রেলিয়া জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে” বলে প্রচার করা হলেও বাস্তবে নতুন কোনো সাধারণ Agriculture Visa চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
যেমন বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় গণমাধ্যম দৈনিক যুগান্তর তাদের শিরোনাম করেছে, “জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া”

বাংলাদেশের গণমাধ্যম দৈনিক যুগান্তর তাদের শিরোনাম করেছে, জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া! খবরটি নিঃসন্দেহে বিভ্রান্তিকর!
Reuters-এর ২৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে Grain Producers Australia বা GPA-কে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্থায়ী কৃষিশ্রমিকের ভিসা আবেদন প্রায়োরিটি প্রসেসিং -এর আওতায় আনছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো গম, বার্লি ও ক্যানোলা-সহ বিভিন্ন শস্যের ফসল তোলা শুরু হওয়ার আগে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কর্মী পেতে সহায়তা করা।
গ্রেইন প্রোডিউসার্স অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, এই বিশেষ ব্যবস্থাটি মূলত জরুরি ওয়ার্কিং হলিডে মেকার ভিসার জন্য। অর্থাৎ একজন কর্মীকে আগে থেকেই WHM visa-এর জন্য আবেদন করে থাকতে হবে, অস্ট্রেলিয়ার একটি নির্দিষ্ট ফার্ম-এ কাজের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হতে হবে এবং তার দ্রুত অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানো সংশ্লিষ্ট কৃষি ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে হবে।
এই ধরনের জরুরি কেস সংশ্লিষ্ট state farming organisation এবং National Farmers’ Federation-এর মাধ্যমে Department of Home Affairs-এর কাছে পাঠানো হচ্ছে। তবে GPA স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো কেস প্রায়োরিটি হিসেবে জমা দেওয়া হলেই দ্রুত ভিসা প্রসেসিং বা ভিসা এপ্রুভাল নিশ্চিত হয় না।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক অভিবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কথা জানাতে গিয়ে কৃষি, মৎস্য, নির্মাণ এবং শিক্ষাদান-সহ প্রয়োজনীয় কয়েকটি খাতকে ভিসা প্রসেসিং প্রায়োরিটি-লিস্টে রাখার কথা বলেন। GPA তখন জানিয়েছিল, কৃষিখাতে ওয়ার্কিং হলিডে মেকার ভিসাধারীরা বিশেষ করে ফসল তোলার সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
OTN Bangla সবাইকে অনুরোধ করছে—“অস্ট্রেলিয়া জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে” এমন শিরোনাম দেখে বিভ্রান্ত হয়ে কোনো এজেন্ট বা দালালের কাছে অর্থ প্রদান করবেন না।
এই ঘোষণার অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশসহ যেকোনো দেশ থেকে এখন নতুন একটি “Agriculture Visa” বা “Farm Visa”-এর জন্য সরাসরি আবেদন করা যাচ্ছে।
মূল বিষয়টি হলো—এটি আগে থেকেই ওয়ার্কিং হলিডে মেকার ভিসার (Working Holiday Maker visa) জন্য আবেদন করা এবং অস্ট্রেলিয়ার নির্দিষ্ট একটি ফার্ম-এ কাজের ব্যবস্থা থাকা কিছু আবেদনকারীর জন্য প্রায়োরিটি-প্রসেসিং ব্যবস্থা।
তাই কেউ যদি দাবি করেন যে “অস্ট্রেলিয়া নতুন কৃষি ভিসা খুলেছে” অথবা টাকা দিলে জরুরি ভিত্তিতে ফার্ম ভিসা করে দেওয়া যাবে—সে ধরনের দাবির ক্ষেত্রে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ান ডিপার্টমেন্ট অফ হোম অ্যাফেয়ার্স-(Australian Department of Home Affairs)-এর সরকারি তথ্য যাচাই করুন।
বাংলাদেশ ওয়ার্কিং হলিডে মেকার ভিসার তালিকাতে অন্তর্ভুক্ত নয়। অস্ট্রেলিয়ার Department of Home Affairs-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম Work and Holiday visa (subclass 462) অথবা প্রথম Working Holiday visa (subclass 417)-এর জন্য অনুমোদিত পাসপোর্টধারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।
সংবাদ শিরোনাম নয়, সরকারি নিয়ম ও মূল উৎস যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au