সিয়াটল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পাকিস্তানি ‘অভিশপ্ত কনে’
বার্লিন ও ওয়াশিংটনে প্রশংসা পাওয়ার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী রাতে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে পাকিস্তানি নির্মাতা সারমাদ খুসাতের সিনেমা ‘লালি’। দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্র…
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের কার্যক্রমের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারীদের ৫৩টি ছবি অনুমতি ছাড়া অনলাইনের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ওপেনএআই। ঘটনাটি গত জুলাইয়ে ঘটলেও সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য সামনে এসেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
ঘটনাটি ঘটে ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টগুলো এআই প্রযুক্তি ভাগাভাগির প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের একটি ব্যবস্থায় প্রবেশ করার সময়। ওই কার্যক্রমে প্রায় ৭০০টি এআই এজেন্ট জড়িত ছিল বলে জানা গেছে। পরে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ওপেনএআই।
তদন্ত শেষে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ওই ঘটনার ফলে চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারীদের ৫৩টি ছবি বাইরের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ হয়েছিল। তবে ছবিগুলো কী ধরনের ছিল, সেগুলোতে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত বা শনাক্তযোগ্য কোনো তথ্য ছিল কি না, কিংবা ছবিগুলো কতটা সংবেদনশীল ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ওপেনএআই।
ফাঁস হওয়া ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি ছিল, নাকি বাস্তব মানুষের ছবি ছিল, তা-ও পরিষ্কার করেনি প্রতিষ্ঠানটি। একইভাবে ছবিগুলো ঠিক কখন প্রকাশ করা হয়েছিল এবং এআই এজেন্টের মাধ্যমে কীভাবে সেগুলো ওপেনএআইয়ের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের বাইরে চলে গেল, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তবে ওপেনএআই জানিয়েছে, প্রকাশ হয়ে যাওয়া বেশির ভাগ ছবি ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যেসব ছবি এখনো অনলাইনে রয়েছে, সেগুলোও দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মালিক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুরোধ করা হচ্ছে।
রয়টার্সসহ বিভিন্ন সূত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই মডেল প্রশিক্ষণের সময় ওপেনএআই ব্যবহারকারীদের কিছু তথ্য এমনভাবে ব্যবহার করে, যাতে সরাসরি তাদের পরিচয় শনাক্ত করা না যায়। তবে কোনো ব্যবহারকারী আলাদাভাবে এই সুবিধা বন্ধ না করলে তার কিছু তথ্য এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, তথ্য থেকে সরাসরি পরিচয় সরিয়ে দেওয়া হলেও এ ধরনের ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া আলাদা তথ্য একত্র করলে কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। আবার তথ্য থেকে পরিচয় মুছে ফেলার আগেই সেটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
সাম্প্রতিক ঘটনাটি এআই এজেন্টের কার্যক্রম কতটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ চ্যাটবটের তুলনায় এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন অনলাইন ব্যবস্থা, ওয়েবসাইট বা সফটওয়্যারে প্রবেশ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নানা কাজ করতে পারে। ফলে এ ধরনের প্রযুক্তির সক্ষমতা যত বাড়ছে, এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তাও তত বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি দাবি করেছেন, তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব ছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো তদন্ত অস্বাভাবিক মাত্রায় গোপন রাখা হয়েছিল।
ফলে ৫৩টি ছবি ঠিক কীভাবে বাইরে চলে গেল, কখন সেগুলো প্রকাশ করা হয়েছিল এবং এর পেছনে কী ধরনের নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা কাজ করেছে, তা নিয়ে এখনো বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়।
ঘটনাটি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি এআই এজেন্টের কাজের সীমা, ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহারের নীতি এবং এ ধরনের প্রযুক্তির ওপর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর, সেসব বিষয়ও নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে এআই এজেন্টকে যত বেশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, ততই তার কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার গুরুত্ব বাড়ছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au