৩৪ লাখ শিশুকে দ্রুত টিকা দেওয়ার আহ্বান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
বাংলাদেশে হাম সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় আগের টিকাদান কর্মসূচির সময় টিকা না পাওয়া প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে দ্রুত টিকার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা…
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে অবস্থিত স্টুডিওটিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। সেই দাবি পূরণ না করায় স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাকর্মীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর স্টুডিওতে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরের প্রায় সকল সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। স্টুডিওর সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অন্যান্য মূল্যবান যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত বা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কনটেন্ট তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ কক্ষের আসবাবপত্রও তছনছ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

ভেতরের প্রায় সকল সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত
সালমান মুক্তাদির এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মীরাই চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনায় জড়িত। তিনি বলেন, স্টুডিওটি তার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের জায়গা এবং নিজের পরিশ্রমে এটি গড়ে তুলেছিলেন।
হামলার পর দেওয়া বক্তব্যে সালমান মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশে সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যেতে অনেক সাহসের প্রয়োজন হয়। তবে এই ঘটনা তাকে থামিয়ে দিতে পারবে না এবং তিনি নিজের কাজ চালিয়ে যাবেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও পক্ষ ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার অভিযোগটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখল, ভাঙচুর ও সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে একাধিক ঘটনা আলোচনায় এসেছে।
সম্প্রতি ঢাকার মিরপুরে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। ওই ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও হামলা ঠেকাতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশের কয়েকটি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিরপুরের ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে সংশ্লিষ্ট এক বিএনপি নেত্রী ভাঙচুরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে পুলিশকে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলসংক্রান্ত অভিযোগও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। একই সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও রাজনৈতিক সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।
ফলে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার অভিযোগটি শুধু একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ব্যক্তিগত সম্পদে হামলার ঘটনা নয়, বরং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ প্রয়োগ, চাঁদাবাজি এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টিকেও সামনে এনেছে।
স্টুডিওটি সালমান মুক্তাদিরের ভাষায় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের একটি অংশ। হামলা ও ভাঙচুরের পরও তিনি কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এখন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে এসেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au