রাজধানীর আদাবরের বাড়িটির জানালার কাচ ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার আদাবরে একটি আটতলা বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রামদা, চাপাতি ও পিস্তল নিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল বাড়িটিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন বাড়ির বাসিন্দারা। তারা মূল ফটকে কোপানোর পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে। তবে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে কয়েক মিনিট পর তারা চলে যায়।
বাড়িটি শ্যামলী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত। এর মালিক ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান। তাঁর ভাতিজা মনির হোসেনের দাবি, এর আগেও ২০২৪ সালের আগস্টে বাড়িটি দখল করা হয়েছিল। পরে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁরা বাড়িটির দখল ফিরে পান।
শনিবারের হামলার বর্ণনা দিয়ে মনির হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি বাড়িটির সামনে এসে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। পরে তাঁদের মধ্যে চারজন মূল ফটকের কাছে যান। তাঁদের দুজনের হাতে চাপাতি, একজনের হাতে রামদা ছিল। কিছুটা দূরে পিস্তল হাতে আরও একজন অবস্থান করছিলেন এবং তিনিই অন্যদের নির্দেশ দিচ্ছিলেন বলে দাবি করেন মনির।
মনিরের ভাষ্য, হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির ফটক খুলে সবাইকে বের হয়ে যেতে বলেন। এরপর ‘টাকা দে, বাসায় থাকিস, টাকা দিস না’ বলে হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে চাপাতি ও রামদা দিয়ে মূল ফটকে কোপাতে শুরু করেন।
এ সময় বাড়ির সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। ইটের টুকরা ছুড়ে দ্বিতীয় তলার আরও দুটি জানালার কাচ ভাঙা হয়। বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে প্রায় পাঁচ মিনিট পর হামলাকারীরা চলে যান বলে জানান মনির।

আদাবরের বাড়িটির সিসিটিভ ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
তিনি বলেন, ভাঙচুরের সময় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর, সকাল পৌনে ১০টার দিকে। সময়মতো পুলিশ এলে হামলাকারীদের আটক করা সম্ভব হতো বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় আদাবর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান মনির হোসেন। তবে অভিযোগের পর পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে জানান।
মনির হোসেনের দাবি, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে নেন। এ ঘটনায় আদাবর থানায় অভিযোগ করার পরও সমাধান না হওয়ায় তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে আদালতের নির্দেশে আদাবর থানা তদন্ত শুরু করে এবং পরবর্তী সময়ে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে।

ইটের টুকরা দিয়ে জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হয়। ছবি: সংগৃহীত
মনির বলেন, প্রায় চার মাস তদন্তের পর পিবিআই অভিযোগপত্র দিয়েছে। তবে অভিযোগপত্রে কী উল্লেখ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত জানেন না। গত ১২ মার্চ তাঁরা বাড়িটির দখল ফিরে পান।
তাঁর অভিযোগ, বাড়ির দখল ফিরে পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আবার হামলা ও দখলের চেষ্টা করা হলো।
মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা ভয়ের মধ্যে আছি। ভয়ে বাসা থেকে বের হতে পারছি না। আবার কখন কী হয়, বুঝতে পারছি না। এভাবে তো চলা যায় না। আমাদের সাহায্য করুন।’