টিকটকে পরিচয়, ইমুতে প্রেম, দেখা করতে গিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর ইমুতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এক কিশোরী ও এক যুবকের। পরে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে দেখা করতে গিয়ে ১৪…
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য খলিলুর রহমানকে দেওয়া হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। এর মধ্যে রয়েছে ম্যানহাটনে বাসার জন্য মাসে ২০ হাজার ডলার ভাড়া, প্রতিদিন ৪২০ ডলার দৈনিক ভাতা (DA) এবং স্থানীয় যাতায়াতের জন্য মার্সিডিজ-বেঞ্জ গাড়ি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOFA) অনুমোদন অনুযায়ী, ইউএনজিএ সভাপতির নিউইয়র্কের বাসস্থানের জন্য মাসিক ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ভাড়া বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অঙ্ক নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসাভাড়া ভাতার চেয়ে বেশি। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসে ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত সরকারি বাসাভাড়া পান।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের আগস্টে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সরকারি যোগাযোগে খলিলুর রহমানের নিউইয়র্কে অবস্থানকালে স্থানীয় যাতায়াতের জন্য একটি প্রিমিয়াম মার্সিডিজ-বেঞ্জ গাড়ির ব্যবস্থা অনুমোদন করা হয়।
খলিলুর রহমানের দৈনিক ভাতা (DA) নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২০ ডলার। দায়িত্ব পালনের কার্যকর আট মাসের হিসাবে এই ভাতার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৮০০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের এসব ভাতা করমুক্ত।
সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, খলিলুর রহমানের মূল বেতন ও নিয়মিত ভাতাগুলো আগের মতোই ঢাকায় সরকারের প্রচলিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করা হবে। তাঁর সরকারি বেতনের কোনো অংশ বিদেশি মুদ্রায় দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, ভ্রমণ, বাসস্থান ও দৈনিক ভাতাসহ নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে বহন করা হবে।
জাতিসংঘের একটি নথিতে বলা হয়েছে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির (PGA) ভ্রমণ ব্যয় স্বাগতিক দেশ অথবা সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের (OPGA) নিয়মিত বাজেট থেকে বহন করা যেতে পারে। নিয়মিত বাজেট থেকে ব্যয় হলে বিমান বা ট্রেনের টিকিট জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হয়।
নথি অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনের সময় ভ্রমণে হওয়া ব্যয় জাতিসংঘের নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী সভাপতিকে ফেরত দেওয়া হয়। এ ছাড়া নিজ দেশ ও নিউইয়র্কের মধ্যে যাতায়াতের ব্যয়ও OPGA-এর নিয়মিত বাজেট থেকে ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে জাতিসংঘের অর্থায়নে ভ্রমণের সুবিধা সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কার্যকর হয়।
জাতিসংঘের নথিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ইউএনজিএ সভাপতি জাতিসংঘের কর্মচারী নন এবং তিনি জাতিসংঘ থেকে কোনো বেতন পান না। সাধারণত যে দেশ তাঁকে মনোনয়ন দেয়, সেই দেশের সরকারই তাঁর বেতন পরিশোধ করে। নিউইয়র্কে সভাপতির বাসস্থানের ব্যবস্থাও সাধারণত মনোনয়নকারী দেশের স্থায়ী মিশন করে থাকে।
জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট থেকে OPGA-এর জন্য বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দ থাকে। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর অনুমোদিত এই অর্থ দিয়ে সভাপতির কার্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এই বাজেট থেকে সভাপতির সরকারি ভ্রমণ, কূটনৈতিক আতিথেয়তা এবং দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটানো হয়।
খলিলুর রহমানকে নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করছেন ছয়জন বাংলাদেশি কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন সরাসরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ পেয়েছেন।
তাঁদের বেতন, বিদেশে দায়িত্ব পালনের ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট পদমর্যাদা ও ক্যাডার কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত হচ্ছে।
এ ছাড়া ইউএনজিএ সভাপতির কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় অফিস স্থাপন ও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার জন্য এককালীন বরাদ্দ, মাসিক প্রশাসনিক ব্যয় এবং কর্মীদের জন্য পৃথক ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে ইউএনজিএ সভাপতির দায়িত্ব পালনের সময় বাসস্থান, যাতায়াত, ভ্রমণ, দৈনিক ভাতা, কার্যালয় পরিচালনা ও জনবলের পেছনে উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au