বাংলাদেশ

হামলা-দখল-চাঁদাবাজি বন্ধ হবে কবে?

  • 12:48 pm - September 28, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৬২ বার
হামলা-দখল-চাঁদাবাজি বন্ধ হবে কবে?ছবি: সংগৃহীত

হামলার পর গ্রেফতার, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার, তদন্ত এবং ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস, সবই হচ্ছে। তবু স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কাটছে না। কোথাও চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা ও লুটপাট, কোথাও দিনের আলোয় বাড়ি দখলের অভিযোগ, আবার কোথাও চাঁদা না দেওয়ায় অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, অপরাধের পর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অপরাধ সংঘটনের সাহস ও সুযোগ বন্ধ হবে কবে?

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও হামলা, দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাত মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এলেও সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা নাগরিকের জানমাল, সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ আবারও সামনে এনেছে।

মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় কিংবা ঘটনার ধরন বদলালেই পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তন হয় না। প্রকৃত পরিবর্তন তখনই দৃশ্যমান হবে, যখন রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী পরিচয় অপরাধীর সুরক্ষা হয়ে দাঁড়াবে না এবং সবার ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ একই মানদণ্ডে হবে।

ঘটনার পর ব্যবস্থা, প্রতিরোধে ঘাটতি কোথায়?

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট, ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং মোহাম্মদপুরে দিনের বেলায় হামলা চালিয়ে বাড়ি দখলের অভিযোগ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় পুলিশ নয়জনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে। একই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অন্যদিকে সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ।

তবে মানবাধিকারকর্মীদের প্রশ্ন, শুধু প্রত্যক্ষ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই কি সমস্যার সমাধান হবে? হামলার পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা, অর্থদাতা বা পৃষ্ঠপোষকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনও ঘটনায় রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে সেই প্রভাব অতিক্রম করে আইন প্রয়োগ করা যাচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ২৭ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের বলেন, সংশ্লিষ্ট ওসির দায়িত্বে অবহেলা ছিল। এ কারণে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে যারই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশাসনিক কারণ, দায়িত্বে অবহেলা বা কোনও ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে ওসিদের বদলি করা হয়। তবে বদলিই শেষ ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজন হলে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা করা হলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার অধিকার সবার থাকলেও অভিযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘অপরাধের সংস্কৃতি বদলাতে হবে’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের মতে, এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি শুধু তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমস্যা নয়, এর সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জবাবদিহির সংকটও জড়িত।

তিনি বলেন, হামলা, ভাঙচুর, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি কোনও স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অংশ হতে পারে না। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে অপরাধের ধরন বা জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়ে কিছু পরিবর্তন এলেও যদি প্রবণতাটি থেকে যায়, তাহলে সমস্যাটি শুধু কোনও একটি দল, গোষ্ঠী বা সময়ের নয়। এর সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল জবাবদিহি এবং আইনের অসম প্রয়োগের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের মতে, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে অপরাধের দায়ে তাকে আইনের আওতায় আনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে যদি শুধু অপরাধীদের পরিচয় বদলায়, কিন্তু অপরাধের সংস্কৃতি বদলায় না, তাহলে সেটি রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার রাজনৈতিক বৈধতার পাশাপাশি নাগরিকের জানমাল, সম্পদ ও অধিকার রক্ষার দায়িত্বও পায়। মানুষকে যদি হামলা, দখল কিংবা চাঁদাবাজির ভয় নিয়ে চলতে হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

তার মতে, সরকারের জরুরি কাজ শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা মোকাবিলা করা নয়, বরং এসব অপরাধের পেছনে থাকা ক্ষমতার কাঠামো ও পৃষ্ঠপোষকতা চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে সরকারের কার্যকারিতার অন্যতম মাপকাঠি হয়ে ওঠে দৈনন্দিন নিরাপত্তা।

পরিচয় বদলালেও অপরাধের ধরন বদলায় না

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক সমস্যাটিকে আইন প্রয়োগের কাঠামোর দিক থেকে দেখছেন। তার মতে, অন্তর্বর্তী ও নির্বাচিত সরকারের সময়ে অপরাধের ধরনে পার্থক্য থাকলেও মূল প্রশ্ন হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় অনুযায়ী আইন প্রয়োগের ধরন বদলে যাচ্ছে কি না।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন পক্ষ সুযোগ অনুযায়ী হামলা, দখল ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়েছে বা জড়ানোর চেষ্টা করেছে। নির্বাচিত সরকারের সময়ে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠন, সমর্থক বা অনুসারীদের মধ্যে অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিরা রাজনৈতিক প্রভাবকে আর্থিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে।

ড. তৌহিদুল হকের ভাষায়, কোনও অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বা ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এক ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করে, আর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা অন্য কারণে একই ধরনের অপরাধ ঘটলে অন্য ধরনের পদ্ধতি দেখা যায়। তার মতে, বিভিন্ন সরকারের সময়ই এমন বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে।

তার মতে, অপরাধী শক্তিশালী বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে আইনের প্রয়োগের ধরন বদলে গেলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়া এবং দ্রুত বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিন্ন মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন।

রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অনেক সময় বাধার মুখে পড়ে বলে মনে করেন তিনি। কোনও ব্যবস্থা নিলে রাজনৈতিক পরিচয়ের তকমা বা সমালোচনার মুখে পড়ার আশঙ্কাও দ্রুত ও পেশাদারভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে সরকারের সদিচ্ছার বাস্তব প্রয়োগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিজ্ঞতা ও মতামত এবং উভয় পক্ষের সক্ষমতার সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করেন এই শিক্ষাবিদ। তার মতে, রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত কিংবা সামাজিক যে ধরনের অপরাধই হোক, প্রয়োজন কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা এবং সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ।

সাম্প্রতিক ঘটনায় উদ্বেগ টিআইবির

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইসিবি চত্বরে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সংস্থাটি দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে এনেছে।

টিআইবির মতে, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখল নিয়ে সংঘর্ষসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ২০২৪ সালের আগস্টের পর বিভিন্ন এলাকায় দখল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগের ধারাবাহিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে বাস টার্মিনাল, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, কেবল-ইন্টারনেট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছে। এসব কর্মকাণ্ড দলীয় কোন্দল ও সহিংসতায়ও রূপ নিতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংস্থাটি মনে করে, কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। রাজনৈতিক পরিচয় বা সম্পৃক্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারলে জবাবদিহি ও আইনের শাসন দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

হামলাকারীর পাশাপাশি নির্দেশদাতাদেরও শনাক্তের দাবি

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় প্রত্যক্ষ হামলাকারীদের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা, অর্থদাতা ও সহযোগীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ধ্বংস এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা শুধু ফৌজদারি অপরাধের বিষয় নয়, এসব ঘটনায় মানুষের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, সম্পত্তির অধিকার ও আইনের শাসনের বিষয়ও জড়িত।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র দ্রুত পুনঃস্থাপন, লুট হওয়া টিকা ও স্বাস্থ্যনথি উদ্ধারের পাশাপাশি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।

এদিকে তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান তার ইউটিউব চ্যানেলে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব। তবে ঘটনার পরপর সালমান মুক্তাদির হামলাটিকে চাঁদাবাজি ও বিএনপির সঙ্গে যুক্ত করে যেভাবে উপস্থাপন করেছিলেন, পরবর্তী তথ্যের সঙ্গে তার পুরোপুরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমানের দাবি, পরবর্তী সময়ে সালমান মুক্তাদির নিজেই বলেছেন, তার কাছে সরাসরি চাঁদা চাওয়া হয়নি এবং বাড়ির মালিকের কাছেও চাঁদা চাওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সামনে আসা তথ্যের মধ্যে জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। তবে তদন্তে ভিন্ন তথ্যও পাওয়া যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতাদের বক্তব্যের প্রভাব ও বিস্তার অনেক বেশি। তাই নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে দায়ী করে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা উচিত।

সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক হামলা, দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনাগুলো আবারও সামনে এনেছে নাগরিক নিরাপত্তা ও আইনের সমান প্রয়োগের প্রশ্ন। অপরাধের পর গ্রেফতার বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের পেছনের কারণ, পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এই শাখার আরও খবর

বিশ্বজুড়ে স্কুলে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশে কী করবে?

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বাড়ছে। শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ কমে যাওয়া, সাইবার বুলিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং অতিরিক্ত…

কাতারের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, চাপে বাংলাদেশসহ চার দেশ

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। এর মধ্যে কাতার…

রামু হামলার ১৪ বছর, বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের

কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে ভয়াবহ হামলার ১৪ বছর পূর্ণ হলেও এখনো শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। দীর্ঘ সময়েও মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা…

শেষ মুহূর্তের গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে শীর্ষে ফ্রান্স

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচজুড়ে দাপট দেখিয়েও গোলের দেখা পাচ্ছিল না ফ্রান্স। একের পর এক আক্রমণ, কয়েকটি সহজ সুযোগ এবং ক্রসবারে বল লাগার পরও কাঙ্ক্ষিত গোলটি আসছিল…

মধ্যরাতেও বিক্ষোভে উত্তপ্ত চুয়েট

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার…

বাংলাদেশি পাটপণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা ভারতের

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটপণ্যের ওপর নতুন করে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২৪ সেপ্টেম্বরের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ৩৬টি বাংলাদেশি পাটপণ্য…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au