বিশ্বজুড়ে স্কুলে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশে কী করবে?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বাড়ছে। শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ কমে যাওয়া, সাইবার বুলিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং অতিরিক্ত…
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়লেন আলেকসান্দার ভুসিচ। দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলন ও সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে ২৫ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলন ও সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচ পদত্যাগ করেছেন। ২৭ সেপ্টেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। আগামী ২৫ অক্টোবরের আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুসিচ।
বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন থেকে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ভুসিচ বলেন, তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন এবং পরদিন সকালে পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।
২৮ সেপ্টেম্বর ভুসিচ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ব্রনাবিচের কাছে হস্তান্তর করেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ তিন মাস তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২০১৪ সালে সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন ভুসিচ। ২০১৭ সালে তিনি প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ২০২২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে জয় পান। সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ না থাকায় এবার পার্লামেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার শীর্ষে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।
ভুসিচের পদত্যাগ তাঁর দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় সাত মাস আগেই হলো। ২৫ অক্টোবরের আগাম নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) অংশ নেবে। নির্বাচনে দলটি সরকার গঠন করতে পারলে ভুসিচ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবেন।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর ভুসিচ পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে ২৫ অক্টোবর আগাম নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছিলেন।
২০২৪ সালের ১ নভেম্বর উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনের কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয় এবং এতে ব্যাপকসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি দাবি করেন। সময়ের সঙ্গে আন্দোলনের অন্যতম দাবিতে পরিণত হয় আগাম নির্বাচন।
সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। ভুসিচ ও তাঁর মিত্ররা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এবার নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘স্টুডেন্টস উইন’ ব্যানারে তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের সঙ্গে কয়েকটি বিরোধী দলও রয়েছে।
আন্দোলন-সমর্থিত প্রার্থী তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। তাদের ঘোষিত কর্মসূচিতে দুর্নীতির তদন্ত, অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের অনুসন্ধান, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র আন্দোলনের প্রতি জনসমর্থন ভুসিচের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের জন্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

একটি রেলওয়ে স্টেশনের ছাদ ভেঙে প্রাণহানির প্রতিবাদে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের রাস্তায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ। এই ছবি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তোলা। ছবি: এএফপি
পদত্যাগের ঘোষণার আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করার কথা জানান ভুসিচ। তাঁদের মধ্যে বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দণ্ডিত ২৩ জনও রয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
ভুসিচ বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ সময়ে তিনি ওই ব্যক্তিদের ক্ষমা করেছেন।
ভুসিচ পদত্যাগ করায় এখন সার্বিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও নতুন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
সার্বিয়ার আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হওয়ার পর সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বছরের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিত হতে হবে।
অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর চলতি বছরের মধ্যেই সার্বিয়ায় আরেক দফা জাতীয় নির্বাচন হতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেশটির রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন।
সূত্র: বিবিসি, আল–জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au