ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা: বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি বন্ধের নেপথ্য রাজনীতি
ইতিহাস কোনো নিছক কালপঞ্জি বা অতীতের মৃত দলিল নয়; ইতিহাস হলো একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দর্পণ, অস্তিত্বের মূল শেকড়। সেই শেকড়েই যখন কুঠারাঘাত করা হয়, তখন…
আওয়ামী লীগ করার কারণে শাস্তি হলেও দলটির রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হলে শুনানি না হওয়ায় তাকে কারাগারে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন তিনি।
সাবিনা আক্তার তুহিন বলেন, আওয়ামী লীগ করার কারণে যদি তার ফাঁসি হয়, তবুও তিনি আওয়ামী লীগ করবেন। তিনি দাবি করেন, তারা রাজনীতি করছেন, কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। আওয়ামী লীগ করা তার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জয় বাংলা ব্রিগেডের একটি অনলাইন সভায় অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য ছিল।
তবে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরী নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত না থাকায় ওই দিন অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি হয়নি। পরে ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ আগামী ১৫ অক্টোবর শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ আলম শাহীন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন সিআইডির সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
এরপর গত ১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে শেখ হাসিনাসহ মামলার ২৬১ আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলাটি বিচার শুরুর পর্যায়ে পৌঁছালে গত ১১ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে এটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির পর্যায়ে ছিল।
পরে দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে স্থানান্তর করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় শেখ হাসিনাসহ কয়েকশ নেতা-কর্মী অংশ নেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই সভায় শেখ হাসিনা নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সরকারবিরোধী বক্তব্য দেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে সভায় দেওয়া বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগপত্রে উত্থাপিত বক্তব্যকে আদালতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আগামী ১৫ অক্টোবর মামলার অভিযোগ গঠন বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au