বাংলাদেশ সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ১৪ সদস্যের দল ঘোষণা।ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠের আন্তর্জাতিক সিরিজকে সামনে রেখে ১৪ সদস্যের নারী ক্রিকেট দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় নির্বাচক প্যানেল দল ঘোষণা করে। ঐতিহাসিক সপ্তমবারের মতো আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর এ সিরিজ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে অস্ট্রেলিয়া।
ঘোষিত দলে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাশলেই গার্ডনার ও তাহলিয়া ম্যাকগ্রা। দুই ফরম্যাটেই অধিনায়ক করা হয়েছে সোফি মোলিনিউকে। তবে চোটের কারণে সিরিজে তার অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়। কোমরের চোট থেকে সুস্থ হয়ে উঠতে থাকা মোলিনিউর শারীরিক অবস্থা আগামী কয়েক দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এদিকে অনুশীলনের সময় সামান্য উরুর চোট পাওয়ায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলতে পারবেন না লুসি হ্যামিলটন। পিঠের চোটের কারণে দারসি ব্রাউনও এই সিরিজে থাকছেন না।
বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ৯ অক্টোবর। অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বর্ডার ফিল্ডে ৯, ১২ ও ১৪ অক্টোবর ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। সিরিজটি আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ।
সোফি মোলিনিউ ওয়ানডে সিরিজে খেলতে না পারলে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেবেন তাহলিয়া ম্যাকগ্রা। এরপর ১৮, ২০ ও ২২ অক্টোবর নর্থ সিডনি ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। ওই সিরিজে মোলিনিউ না খেললে অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অ্যাশলেই গার্ডনারের।
অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক শন ফ্লেগলার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ছয়টি ম্যাচই বিশ্বকাপের পর দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে। তার মতে, বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের মান অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের জন্য ভালো চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের মাধ্যমে উপমহাদেশীয় কন্ডিশনে বোলিং মোকাবিলার অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পাবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও এই সিরিজকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে অস্ট্রেলিয়া। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচগুলোতে উপমহাদেশের বোলিংয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে দলটি।
অস্ট্রেলিয়া এখন পর্যন্ত তিনবার আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে এবং চলমান চক্রে এখনো অপরাজিত রয়েছে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ২০২৪ সালের আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন। ফলে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ছয় ম্যাচকে সামনে রেখে শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামতে চাইছে অস্ট্রেলিয়া।
শন ফ্লেগলার আরও জানিয়েছেন, সোফি মোলিনিউকে দলে রাখা হলেও তার চোটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। লুসি হ্যামিলটনের চোট গুরুতর নয় এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করছে দল। পিঠের চোটে থাকা দারসি ব্রাউনের নারী বিগ ব্যাশ লিগে খেলার বিষয়েও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্বকাপের সময় টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা সীমিত থাকায় গ্রেস হ্যারিস এবার দলে জায়গা পাননি। তবে ভবিষ্যতে তিনি আবারও অস্ট্রেলিয়ার দলে ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছেন দেশটির নির্বাচকরা।