ঢাবির অধ্যাপক জিনাত হুদা সাময়িক বরখাস্ত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়…
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ২৪ জন নিহত হওয়ার মামলায় আওয়ামী লীগের সাত নেতা-কর্মীর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন সম্প্রতি আদালতে এ প্রতিবেদন জমা দেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের বিরুদ্ধে হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত দেবেন।
মামলায় অব্যাহতির আবেদন করা সাতজন হলেন মো. আব্দুল খালেক (৬৫), মো. এনামুল হক (৫৯), আব্দুর রহমান শাওন (৩৬), অ্যাডভোকেট সৈয়দ কবির হোসেন জনি (৪১), এস এম আজহার হোসেন স্বপন (৫২), কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল (৩১) এবং মো. ইমন কাজী (২৬)।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, যশোর শহরের চিত্রা মোড়সংলগ্ন এমএম আলী রোডে শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন ‘জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় একদল দুর্বৃত্ত গানপাউডার ও পেট্রোল নিয়ে হোটেলটিতে প্রবেশ করে।
অভিযোগে বলা হয়, হোটেলে ঢোকার পর দুর্বৃত্তরা প্রথমে ক্যাশ ভল্ট ভেঙে প্রায় ৯০ লাখ টাকা লুট করে। এরপর হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ ও স্টোরে থাকা বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়।
লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল প্রায় ১০০টি ফ্রিজ, ১০০টি স্মার্ট টেলিভিশন, ৪৫০ কিলোভোল্ট ক্ষমতার দুটি জেনারেটর, স্টোরে থাকা বিভিন্ন মালামাল ও আসবাবপত্র, এক হাজার কিলোভোল্টের ট্রান্সফরমারসহ সাবস্টেশন, প্রেসার পাম্প, সাইবার স্টেশন ও ফায়ার ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।
এরপর হোটেলে গানপাউডার ও পেট্রোল ব্যবহার করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুন প্রথম তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে হোটেলের ভেতরে আটকা পড়ে ২৪ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে হোটেলের স্টাফ ও বোর্ডার ছিলেন। নিহতদের মধ্যে একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকও ছিলেন।
ঘটনার ভয়াবহতায় হোটেলের বিভিন্ন অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনে পুড়ে যায় হোটেলে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল।
ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর ১৮ আগস্ট শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই ও যশোর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, হোটেলের আলমারিতে রাখা শাহীন চাকলাদারের বিভিন্ন কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান কাগজপত্রও লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি আসবাবপত্র, স্টোরে থাকা বিভিন্ন মালামাল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, তিনটি লিফট, জানালার গ্রিল ও কাচের দরজার ডেকোরেশন পুড়ে যায়।
আগুনে হোটেলের মূল ভবনেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
মামলাটি তদন্তের সময় ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে বিভিন্ন সময়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য নেওয়া এবং মামলার অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আদালতে দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করেও হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ২৪ জনের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ কারণে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন বলেন, তদন্তে সাতজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সে কারণে তাদের অব্যাহতির আবেদন করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
তবে তদন্ত কর্মকর্তার এই প্রতিবেদনই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করবেন কি না, কিংবা এ বিষয়ে অন্য কোনো আদেশ দেবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ফলে জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং ২৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃতভাবে কারা জড়িত ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au