চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম রাউজানের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাউজানে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধে ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বুধবার রাতের এ ঘটনায় আহত অবস্থায় এক সন্দেহভাজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম দেলদার হোসেন (৩৭)। ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে এবং তার দেখানো বিভিন্ন স্থান থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, চায়না রাইফেলের ১১৯ রাউন্ড গুলি, ছয়টি লেড কার্তুজসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে রাউজান থানার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয় নগর বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।
চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযান
পুলিশ সুপার বলেন, কদলপুর ইউনিয়ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে এ অভিযান চালানো হয়। ডাকাত আলম ওরফে জেন আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বাধীন ওই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
মাসুদ আলম বলেন, চক্রটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিলেন।
সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর তারা আবু বকর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগটি যাচাই করে সত্যতা পাওয়ার পর বুধবার রাতে দক্ষিণ কদলপুর জয় নগর বড়ুয়া পাড়ায় ডাকাত আলম ওরফে জেন আলমের বাড়ির সামনে অভিযান চালায় পুলিশ।
পুলিশের ওপর গুলি, পাল্টা গুলি
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জেন আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২), মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২), দেলদার হোসেন (৩৭), রুবেল (২৭), মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫), বাচা (৪৫)সহ কয়েকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান।
এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে পুলিশের ১২ সদস্য আহত হন।
আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মো. খোরশেদ আলম, এসআই মো. বায়েজিদ মৃধা, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস ও এএসআই মো. রাবিউল হোসেন। আরও ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
অভিযানের একপর্যায়ে দেলদার হোসেনকে আহত অবস্থায় আটক করে পুলিশ। তবে গোলাগুলির সুযোগে অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে দেলদার হোসেনের কাছ থেকে এবং তার দেখানো বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি ডাবল ব্যারেল বন্দুক (ডিবিবিএল), একটি সিঙ্গেল ব্যারেল কাট বন্দুক (এসবিবিএল), চায়না রাইফেলের ১১৯ রাউন্ড গুলি, ছয়টি লেড কার্তুজ, চারটি রামদা, দুটি কাতি এবং দুটি গুলির খাপ।
পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার দেলদার ও পলাতক সহযোগীদের সংঘবদ্ধ ও সশস্ত্র অপরাধী হিসেবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ভোররাতে কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুটি লেড কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।