কক্সবাজারের হোটেল–মোটেল জোন। ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে কুলছুমা আক্তার (২৫) নামে এক নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের ৩০২ নম্বর কক্ষের শৌচাগার থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় কক্ষে থাকা আড়াই বছরের শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হোটেলকর্মীরা শিশুটির কান্না শুনে কক্ষে গিয়ে নারীর লাশ দেখতে পান। পরে শিশুটিকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, কুলছুমা কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার বাসিন্দা। পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী মো. হারুণের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন তিনি। বিচারাধীন ওই মামলার শুনানির দিন ছিল বুধবার। মামলার হাজিরা দিতে ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজার এসে তিনি হোটেলটিতে ওঠেন বলে জানা গেছে। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে আসেন কুলছুমা। তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। সঙ্গে ছিল আড়াই বছরের শিশুটি, যাকে কুলছুমা নিজের মেয়ে বলে পরিচয় করিয়ে দেন। বুধবার সকাল থেকে তারা বাইরে ছিলেন। বেলা ৩টার দিকে হোটেল কক্ষে ফেরেন। এরপর ওই ব্যক্তি কৌশলে হোটেল থেকে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হোটেলকর্মীরা জানান, বুধবার রাতে কক্ষের ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনে তারা সেখানে যান। পরে শৌচাগারে কুলছুমার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে পরে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, কুলছুমার সঙ্গে হোটেল কক্ষে থাকা ব্যক্তি তার স্বামী হারুন নন। ওই ব্যক্তির দেওয়া ঠিকানার সঙ্গে কুলছুমার পরিবারের সদস্যদের পরিচিতির তথ্যও মেলেনি। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের দুই কর্মচারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।