“বিউ লামারে-কনডন নিজের বিরুদ্ধে আনা হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।”
— নাইন
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দুই ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বিউ লামারে-কনডনের বিচার চলছে। এই মামলায় হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগে করা একটি জরুরি ফোনকলের অস্পষ্ট অডিও আদালতে শোনানো হয়েছে।
৩১ বছর বয়সী লামারে-কনডনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেসি বেয়ার্ড ও তাঁর নতুন সঙ্গী লুক ডেভিসকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজের কর্মস্থল থেকে পাওয়া পিস্তল দিয়ে সিডনিতে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে লামারে-কনডন অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
আদালতে শোনানো অডিওটি ডেভিসের ফোন থেকে করা ‘ট্রিপল জিরো’ বা ০০০ জরুরি কলের। অডিওতে স্পষ্টভাবে কথা শোনা না গেলেও কল অপারেটরকে বলতে শোনা যায়, “কলকারী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন, কোনো অনুরোধ নেই।”
এরপর ওই অপারেটর বলেন, “আমি একজন পুরুষকে ‘দূর হও’ বলতে শুনেছি, এরপর কলটি কেটে যায়।”
অভিযোগপক্ষের দাবি, বেয়ার্ডকে গুলি করার পর ডেভিস জরুরি সেবায় ফোন করার চেষ্টা করেছিলেন। ডেভিস যেন বেয়ার্ডকে হত্যার ঘটনার সাক্ষী হিসেবে পুলিশের কাছে তথ্য দিতে না পারেন, সে কারণেই লামারে-কনডন তাঁকে গুলি করেন বলে অভিযোগপক্ষের দাবি।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য, বেয়ার্ডকে হত্যার ঘটনা আত্মরক্ষার্থে ঘটেছিল। এরপর ডেভিসের সঙ্গে আরেক দফা সহিংস সংঘর্ষের সময় ওই কল করা হয় এবং সেখানেই ডেভিস নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
হত্যার পর সার্ফবোর্ডের ব্যাগ কিনেছিলেন
আদালতে শুক্রবার নতুন সিসিটিভি ফুটেজও দেখানো হয়। ফুটেজ অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ দুই ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ ওঠার প্রায় তিন ঘণ্টা পর লামারে-কনডন দক্ষিণ সিডনির মিরান্ডার একটি স্পোর্টস স্টোরে যান।
সেখানে তিনি দ্বিতীয় একটি সার্ফবোর্ডের ব্যাগ কেনেন। দুই দিন আগে বন্ধু ইথান লিঞ্চের সঙ্গে ওই দোকানে বিভিন্ন ব্যাগ নিয়ে আলোচনা করলেও এবার দোকানের তাক থেকে তিনি দ্রুত পছন্দের ব্যাগটি নিয়ে নেন বলে ফুটেজে দেখা যায়।
আরেকটি ফুটেজে বেয়ার্ডের বাড়ির বাইরে তাঁকে মোটরসাইকেলের হেলমেট ও হাই-ভিজিবিলিটি পোশাক পরা অবস্থায় দেখা যায়। তাঁর পোশাকটি উবারইটসের ডেলিভারি কর্মীর মতো ছিল। তবে এবার তাঁর সঙ্গে ছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী এবং একটি বড় ডাফেল ব্যাগ।

“জেসি বেয়ার্ড ও লুক ডেভিস।”
— সরবরাহকৃত ছবি
আদালতে উপস্থাপিত একটি রসিদ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের প্রায় চার ঘণ্টা পর আলেকজান্দ্রিয়ার একটি বানিংস স্টোর থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী কিনতে প্রায় ১৫০ অস্ট্রেলীয় ডলার খরচ করেছিলেন লামারে-কনডন।
এর প্রায় এক ঘণ্টা পরের ফুটেজে তাঁকে একটি বড় নীল ত্রিপল নিয়ে বেয়ার্ডের বাড়ির দিকে হাঁটতে দেখা যায়।
সার্ফবোর্ডের ব্যাগে রাখা হয়েছিল মরদেহ
অভিযোগ অনুযায়ী, দুই ব্যক্তির মরদেহ রাতভর বাড়িটির উঠানে সার্ফবোর্ডের ব্যাগের ভেতরে রাখা হয়েছিল।
পরদিন বাড়ির অন্য বাসিন্দারা ব্যাগ থেকে লাল তরল বের হতে দেখে সেটির ছবি তোলেন। ‘সারা কিং’ ছদ্মনামে পরিচিত এক বাসিন্দা আদালতকে জানান, উঠানে ত্রিপলটি দেখে তিনি সেটিতে খোঁচা দিয়েছিলেন, কিন্তু অস্বাভাবিক কিছু বুঝতে পারেননি।
পরে লামারে-কনডন সিডনির দক্ষিণে দুই ব্যক্তির মরদেহ ফেলে দেন এবং তাদের বিভিন্ন জিনিস ক্রোনুলার একটি বর্জ্য ফেলার স্থানে ফেলে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে আসামিপক্ষের দাবি, দুই ব্যক্তিই পৃথক দুটি সহিংস সংঘর্ষের সময় আত্মরক্ষার ঘটনায় নিহত হন। ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিষ্কার করা এবং মরদেহ সরিয়ে ফেলার পেছনে তাঁর আতঙ্ক কাজ করেছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
আদালতে আরও বলা হয়, দুই ব্যক্তিকে হত্যার এক দিন আগেও লামারে-কনডন সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে কথা বলেছিলেন।
সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বেন হিগিনসন আদালতকে জানান, ২০২৩ সালে সেন্ট্রাল সিডনির সেন্ট অ্যান্ড্রুজ ক্যাথেড্রাল স্কুলের একটি জিমের বাথরুমে লিলি জেমস হত্যার তদন্তে তিনি কাজ করেছিলেন। জেমসকে তাঁর সাবেক প্রেমিক পল থিজেন হত্যা করেছিলেন।
হিগিনসনের ভাষ্য অনুযায়ী, লামারে-কনডন ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলার সময় বিষয়টিকে বেশ স্বাভাবিকভাবে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, লামারে-কনডন মন্তব্য করেছিলেন যে সিসিটিভিতে ধরা পড়ায় থিজেন বোকামি করেছিলেন।

“২১ বছর বয়সী লিলি জেমস যে স্কুলে কাজ করতেন, সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়।”
— সরবরাহকৃত ছবি
হিগিনসনের দাবি, লামারে-কনডন তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, “সে যদি এটা না করত এবং পরে আত্মহত্যা করত, তাহলে কি সে পার পেয়ে যেত?”
আরেক সাবেক পুলিশ সহকর্মী আলেক্সান্দ্রা স্কোবিও আদালতে লামারে-কনডনের সঙ্গে একটি কথোপকথনের কথা জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে লামারে-কনডন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কোনো ফোন বন্ধ করে রাখলেও সেটির তথ্য বা রেকর্ড পরে পাওয়া সম্ভব কি না। ভাড়া করা গাড়ি ট্র্যাক করা যায় কি না, সেটিও তিনি জানতে চেয়েছিলেন বলে স্কোবি আদালতকে জানান।
পরে ওই রাতেই লামারে-কনডন তাঁকে ফোন করে তাঁর প্রশ্নগুলো নিয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন স্কোবি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, লামারে-কনডন বলেছিলেন, “আমি কোনো বেআইনি কাজ করতে যাচ্ছি না।”
দুই ব্যক্তিকে হত্যার মামলাটির বিচার মঙ্গলবার তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করবে।
সহায়তার প্রয়োজন হলে অস্ট্রেলিয়ায় ১৮০০ RESPECT: ১৮০০ ৭৩৭ ৭৩২, Lifeline: ১৩ ১১ ১৪ অথবা Men’s Referral Service: ১৩০০ ৭৬৬ ৪৯১ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।
সূত্র: নাইন.কম.এইউ