চা দোকানি বাবু মোল্যা। ছবি: সংগৃহীত
মাগুরায় আবারও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ উঠেছে। এবার মাত্র ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার বিল পেয়েছেন মাগুরা সদর উপজেলার গোপালগ্রাম ইউনিয়নের সংকোচখালি গ্রামের চা দোকানি বাবু মোল্যা।
অস্বাভাবিক বিল দেখে তিনি মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেন। পরে কর্তৃপক্ষ বিলটি যাচাই করে সংশোধন করে দেয়।
বাবু মোল্যা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বাড়িতে সাধারণত ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে বিদ্যুৎ বিল আসে। কিন্তু চলতি মাসের বিলে মাত্র ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখিয়ে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকা দাবি করা হয়।
তিনি বলেন, ‘সাধারণত আমার ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মতো বিল আসে। এবার ২০ ইউনিটের বিপরীতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা বিল দেখে চিন্তিত হয়ে পড়ি।’
গত বুধবার বিল পরিশোধ করতে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গেলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে বিলটি যাচাই করে সংশোধন করে দেওয়া হয়।
সংশোধিত বিলে গত তিন মাসের বকেয়াসহ চলতি মাসে মোট ৭০৫ টাকা দেখানো হয়েছে। এর সঙ্গে বিলম্ব বিল যোগ হয়ে পরিশোধযোগ্য অর্থ দাঁড়িয়েছে ৭১২ টাকা। সংশোধিত বিলে বিল পরিশোধের শেষ তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের (জিএম) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এস এম শাহিন আহসান বলেন, ‘বিলের কাগজ না দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। পুরোনো কোনো বিলের টাকা যুক্ত হতে পারে। তবে ২০ ইউনিটের বিল এত টাকা হওয়ার কথা নয়।’
এর আগে ৫০৬ কোটি টাকার বিল
এর আগে মাগুরায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে আরও বড় ধরনের অস্বাভাবিকতার ঘটনা সামনে এসেছিল। এক আবাসিক গ্রাহকের ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়া হয়েছিল।
অস্বাভাবিক ওই বিল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। পরে এ ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে যশোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিলও পরে সংশোধন করে নতুন বিল দেওয়া হয়।
এরপর এবার মাত্র ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার বিলের ঘটনা সামনে এলো। যদিও কর্তৃপক্ষ পরে বিলটি সংশোধন করেছে, পরপর এমন ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গ্রাহকদের দাবি, বিল তৈরির আগে মিটার রিডিং ও অন্যান্য তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা এবং বিল প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। এতে এ ধরনের ভুল বিলের ঘটনা কমানো সম্ভব হবে।