ইসরায়েলগামী বিমানে ওমানি সহকারী পাইলটের হামলার চেষ্টা
ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে মাঝ আকাশে বিমানের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর ছুরি ও কুড়াল নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ওমানি সহকারী পাইলট হামাম আল হামামির বিরুদ্ধে।…
ঢাকার মাদক ব্যবসায় জড়িতদের একটি বড় অংশ শিশু। একটি গবেষণায় অংশ নেওয়া মাদক বিক্রেতাদের ২৭ দশমিক ৪ শতাংশের বয়স ১৫ বছর বা তার কম বলে উঠে এসেছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এসব শিশুর বড় একটি অংশ ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। কর্মসংস্থানের অভাব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কিছু ক্ষেত্রে জবরদস্তির কারণে শিশু ও নারীদের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার তথ্যও উঠে এসেছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী পিএলওএস ওয়ানে প্রকাশিত ‘আনভেইলিং প্যাটার্নস অ্যান্ড সোশিওডেমোগ্রাফিক ক্যারেক্টারিস্টিকস অব ড্রাগ ট্রাফিকিং ইন ঢাকা সিটি, বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে যুক্ত এক হাজার ১৬ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়। তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ২৬ দশমিক ৭ বছর। তাদের ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত বা তার নিচে। প্রায় ২৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ফুটপাতে বসবাস করতেন। আরও প্রায় ১০ শতাংশ নিজেদের গৃহহীন বা ভাসমান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ আর্থসামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন। প্রায় এক-চতুর্থাংশ নারী অংশগ্রহণকারী পেশাদার যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করার কথাও জানিয়েছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৫ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ততা সবচেয়ে বেশি। হেরোইন বিক্রিতেও এই বয়সী শিশুদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির প্রবণতা বেশি ছিল। যৌন পেশায় যুক্ত নারীদের মধ্যে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বেশি পাওয়া গেছে। অন্যান্য নারীদের ক্ষেত্রে হেরোইন ও গাঁজা বিক্রির হার তুলনামূলক বেশি ছিল।
মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার কারণ বিশ্লেষণ করে গবেষণায় বলা হয়েছে, শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে কর্মসংস্থানের অভাব। নারীদের ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের অভাব একটি বড় কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে। তবে শিশুদের, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে জবরদস্তি বা বাধ্য করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক সুযোগের অভাবকে বেশি উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রির ধরনেও পার্থক্য পাওয়া গেছে। এক হাজার ১৬ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ২৫৩ জন শুধু গাঁজা বিক্রির কথা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে পল্টন ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বেশি উপস্থিতি দেখা গেছে। ২৮৫ জন শুধু ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাদের কমলাপুর রেলস্টেশন ও বাড্ডা এলাকায় বেশি পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ২২৮ জন গাঁজা ও ইয়াবা দুটোই বিক্রির কথা জানিয়েছেন। তাদের মূলত ফার্মগেট ও তেজগাঁও এলাকায় বেশি সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। গাঁজা ও হেরোইন দুটোই বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ২৫০ জন। তাদের সাভার ও পল্টন এলাকায় বেশি দেখা গেছে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বাছাইয়ে ‘পারপাসিভ’ ও ‘স্নোবল স্যাম্পলিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ গবেষণার নমুনা এলোমেলোভাবে নির্বাচন করা হয়নি। অবৈধ ও গোপন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে পরিচিত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের সংগ্রহ করা হয়েছে। এ কারণে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণার ফলাফলকে পুরো ঢাকা শহরের মাদক বিক্রেতাদের প্রতিনিধিত্বকারী পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম ও ঢাকার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. শাফায়াত হোসেন। গবেষণা দলে ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস ইনফরমেশন সেন্টারের গবেষক গ্যারেথ জে হল্যান্ডস, সৌদি আরবের ইমাম মোহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির বৈজ্ঞানিক গবেষণা-সংক্রান্ত বিভাগের ডিন মো. আলামিন, চীনের চাংঝু ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. রোকনুজ্জামান, ঢাকার মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহদী হাসান এবং সিরাজগঞ্জের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার।
ড. শাফায়াত হোসেন বলেন, গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ২৮ শতাংশের বয়স ১৫ বছর বা তার কম হওয়া উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই তথ্য ঢাকার মাদক বাণিজ্যের কাঠামোয় শিশুদের ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আনে। তাঁর মতে, কম বয়সী শিশুরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহ এড়াতে পারে বলে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কগুলো তাদের জোর করে বা বিভিন্ন কৌশলে ব্যবহার করতে পারে।
গবেষণায় হেরোইন, গাঁজা ও ইয়াবা ঢাকায় পৌঁছানোর কয়েকটি আন্তঃসীমান্ত পথের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, হেরোইন মূলত পাকিস্তানের লাহোর থেকে ওয়াঘা সীমান্ত হয়ে ভারতের পাটনা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর সাভার, মিরপুর, মহাখালী ও মতিঝিলসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গাঁজা ঢাকায় প্রবেশের দুটি প্রধান পথের কথা বলা হয়েছে। একটি ভারত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে এবং অন্যটি কুমিল্লা হয়ে। এই দুটি পথ ঢাকায় এসে মিলিত হওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় গাঁজা ছড়িয়ে পড়ে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষণায় ইয়াবার উৎস হিসেবে মিয়ানমারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। টেকনাফ সীমান্ত ছাড়াও ভারতের মিজোরাম ও মেঘালয় হয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর একাধিক পথ ধরে সিলেট ও সুনামগঞ্জ হয়ে ঢাকায় আসে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে মিজোরাম ও মেঘালয় হয়ে আসা ইয়াবার পথকে বৃহত্তর ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ মাদক পাচার নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।
এ ছাড়া ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশের আরও কয়েকটি পথের কথাও গবেষণায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে জামালপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহের পথ রয়েছে।
গবেষণার মানচিত্রে তিনটি প্রধান আন্তঃসীমান্ত পথ আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে। এগুলো হলো পাকিস্তানের লাহোর থেকে ওয়াঘা ও পাটনা হয়ে বাংলাদেশ, ভারতের মিজোরাম ও মেঘালয় হয়ে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার থেকে টেকনাফ হয়ে ঢাকা।
এদিকে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে অল্প বয়সী কিশোরদের মাদকসহ আটকের ঘটনাও ঘটছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে অটোরিকশায় মোহাম্মদপুর যাওয়ার পথে বছিলা চেকপোস্টে এক কিশোরকে সন্দেহ হলে পুলিশ গাড়িটি থামায়। তার সঙ্গে থাকা ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে ছয় কেজি গাঁজা পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গবেষণার তথ্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক এ ধরনের ঘটনাগুলো মিলিয়ে রাজধানীর মাদক ব্যবসায় শিশুদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au