হেলমেট ছুড়ে মারছেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর সময় মাথায় পরানো হেলমেট খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। এ সময় তিনি পুলিশের দেওয়া হেলমেট ও হাতকড়া পরানোর প্রতিবাদ জানান। তার এই আচরণের ভিডিও শনিবার (৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই দিন বিমানবন্দর থানার একটি মামলায় তাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে আখতারুজ্জামানকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে নেওয়ার আগে প্রিজনভ্যানের দরজায় দাঁড়িয়ে তিনি মাথা থেকে হেলমেট খুলে ছুঁড়ে ফেলেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি হেলমেট মানি না। সরকারের অবৈধ অর্ডার মানি না।’ পরে পুলিশের নিরাপত্তায় তাকে আদালত ভবনে নেওয়া হয়।
আখতারুজ্জামানের এই আচরণের মধ্য দিয়ে গ্রেপ্তার ও আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া নিয়ে তার প্রকাশ্য আপত্তি সামনে এসেছে। বিশেষ করে হাতকড়া ও হেলমেট পরানোর বিষয়টি তিনি ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে দেখছেন—তার বক্তব্যে এমন অবস্থানই প্রকাশ পেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে রাজনৈতিকভাবে দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।
এদিন দুপুরে আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে নেওয়ার সময় আখতারুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগার না।’
মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশে তাকে হাতকড়া ও হেলমেট পরিয়ে আনার বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রিজনভ্যানের ভেতর থেকে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আঙুল তুলে কথা বলতেও তাকে দেখা যায়।
আখতারুজ্জামানের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিনি তার গ্রেপ্তারের সঙ্গে বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলার ঘটনাকে যুক্ত করেছেন। তার দাবি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অব্যবস্থাপনা, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং ওমরাহযাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে জটিলতা নিয়ে কথা বলার কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলায় পুলিশের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর)। মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসা ওমরাহযাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব এবং বিমানবন্দরের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আখতারুজ্জামানের বাকবিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদকে উদ্দেশ করে আখতারুজ্জামানকে উত্তেজিতভাবে কথা বলতে দেখা যায়। পরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজীব বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
এর পরদিন শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।