শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে আসলে কি বোঝাতে চাচ্ছেন ভারতীয় হাইকমিশনার
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যাওয়া এবং তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে নতুন করে…
দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেলআভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কো-পাইলট। এ সময় তিনি ককপিটে রাখা জরুরি ব্যবহারের কুড়াল দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে আঘাত করেন বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল। হামলার পর বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করলেও যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
বিমানে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে। প্রথমে পাইলটরা ‘সাধারণ জরুরি অবস্থা’র সংকেত স্কোয়াক ৭৭০০ দেন। পরে সংকেত পরিবর্তন করে স্কোয়াক ৭৫০০ দেওয়া হয়, যা বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপ বা ছিনতাইয়ের পরিস্থিতি বোঝায়।
ঘটনার সময় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার আহত হয়ে ককপিটের মেঝেতে পড়ে যান। তিনি জানান, বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে যেকোনো মূল্যে কিছু একটা করতে হবে। আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা ভেতর থেকে খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দরজা খুলতে সক্ষম হলে কয়েকজন যাত্রী দ্রুত ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ জানিয়েছেন, ককপিট থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনে ইসরায়েলি নারী যাত্রী তালি মানেস প্রথমে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হন। এরপর তাঁর স্বামী জভিকা মানেস এবং আরও তিন যাত্রী, ইয়ানিভ হায়ুন, ড. শোতা মুসায়েভ ও আসাফ রাজুয়ান ককপিটের দিকে এগিয়ে যান।
যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুনের বর্ণনা অনুযায়ী, কো-পাইলট বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট করার চেষ্টা করছিলেন। তিনি হামলাকারীকে গলা চেপে ধরে ককপিটের বাইরে টেনে আনেন। পরে অন্য যাত্রীরাও তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। এ সময় বিমানের নিয়ন্ত্রণও পুনরুদ্ধার করা হয়।
পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পর দুজন রিজার্ভ পাইলট বিমানটির দায়িত্ব নেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে। হামলায় আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে বিমানে করে আবুধাবিতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতের দূতাবাস।
ভারতের এই পাইলট নিজেও জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফিরতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী। হামলার সময় তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছে ভারত সরকারও।
ঘটনায় কো-পাইলটের ব্যবহৃত অস্ত্র নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। বিমানের ককপিটে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য সাধারণত একটি কুড়াল রাখা থাকে। তবে এমন কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সেটি কীভাবে হামলার জন্য ব্যবহার করা হলো, তা তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যে অস্ত্রটি ছুরি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামলাকারী ওমানের নাগরিক এবং তাঁর নাম হামাম আল-হাম্মামি। রয়টার্স, সিএনএন ও দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও একই নাম প্রকাশ করেছে। তবে তাঁর পরিচয় সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
নেতানিয়াহুর দাবি, হামলাকারী বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ক্রু সদস্যদের উদ্দেশে ‘আমাকে মেরে ফেলো’ বলে চিৎকার করেছিলেন। তাঁর মতে, এতে হামলাকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং তিনি সম্ভবত বিমানটি বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন। নেতানিয়াহু আরও দাবি করেছেন, ওই ব্যক্তি ইসলামপন্থি উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত ছিলেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাম আল-হাম্মামি এর আগে ওমান এয়ারে কর্মরত ছিলেন। উগ্রপন্থি মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে তাকে পাইলট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে তাকে ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থায় অন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এসব তথ্যেরও স্বাধীনভাবে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে তিন বছরের একটি কোর্স সম্পন্ন করে ২০২৩ সালে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্পষ্ট করেছে, সেখানে তিনি কোনো পাইলট প্রশিক্ষণ নেননি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার প্রকৃত কারণ, কো-পাইলটের উদ্দেশ্য এবং ককপিটের নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে কীভাবে এই হামলা সম্ভব হলো, সেসব বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, পাইলট, যাত্রী ও দ্বিতীয় ক্রু দলের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর ভাষায়, তারা সম্ভাব্য ভয়াবহ একটি বিমান দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছেন।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au