শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে আসলে কি বোঝাতে চাচ্ছেন ভারতীয় হাইকমিশনার
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যাওয়া এবং তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে নতুন করে…
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের আইনজীবীদের আবেদনের সংখ্যা ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি আইনজীবীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির ব্যারিস্টার পেশা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড বা বিএসবি জানিয়েছে, ট্রান্সফারিং কোয়ালিফায়েড লইয়ার বা টিকিউএল প্রকল্পে নতুন আবেদন আপাতত নেওয়া হবে না।
সম্প্রতি জমে থাকা বিপুলসংখ্যক আবেদন কমানো এবং সেগুলো দ্রুত যাচাই করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসবি। এর ফলে বিদেশি আইনজীবীরা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা অর্জনের জন্য নতুন করে টিকিউএল প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না। তবে যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত কোনো ব্যারিস্টার চেম্বার থেকে কাজের প্রস্তাব থাকলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তারা আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকিউএল প্রকল্পে বর্তমানে আসা মোট আবেদনের অর্ধেকেরও বেশি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের আইনজীবীদের কাছ থেকে আসছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অন্য দেশের যোগ্য আইনজীবীরা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ পান।
গত কয়েক বছরে এই প্রকল্পে আবেদনের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০২১-২২ সালে যেখানে টিকিউএলে আবেদন জমা পড়েছিল ৩২৫টি, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৪টিতে। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে আবেদনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
আবেদনের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে বিএসবির বেশি সময় লাগছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিদেশি প্রার্থীদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি বা আপিল করার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ হচ্ছে। এতে জমে থাকা আবেদনের সংখ্যা কমানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিএসবির আরেকটি উদ্বেগ হলো, টিকিউএলে আবেদন করা অনেক বিদেশি আইনজীবীর যুক্তরাজ্যে ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ করার বাস্তব পরিকল্পনা নেই। তাদের অনেকে নিজ দেশেই আইন পেশায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে যুক্তরাজ্যে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার প্রকৃত আগ্রহ রয়েছে এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
বিএসবির মহাপরিচালক ফিল গোল্ডিং বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়ম ও আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে আইন পেশায় কাজ করতে আগ্রহী প্রার্থীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিপুলসংখ্যক আবেদনও কমানো যাবে।
বিদেশি প্রার্থীদের পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগের মধ্যেই বিএসবির এই পরিবর্তন এসেছে। কিছু প্রার্থী তাদের হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অন্য ব্যারিস্টারদের অর্থ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমন অনিয়মের আশঙ্কায় ২০২৩ সালে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রার্থীদের অনলাইন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করেছিল বিএসবি।
এর পরের বছর অনলাইনে নেওয়া সব পরীক্ষা স্থগিত করে সংস্থাটি। পরীক্ষায় প্রতারণার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়। বর্তমানে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি সব প্রার্থীকে বিএসবির অনুমোদিত পরীক্ষা কেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
ভারতীয় উপমহাদেশের আইনজীবীদের মধ্যে, বিশেষ করে যারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে আইন পেশায় যুক্ত হন না, তাদের কাছ থেকে টিকিউএলে আবেদনের সংখ্যা কেন এত বেশি হচ্ছে, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয় বলেও জানিয়েছে বিএসবি। তবে কিছু আইন স্কুল নিজ দেশে আইন পেশায় কাজ করা ব্যক্তিদের কাছে যুক্তরাজ্য ও নিজ দেশের আইনে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগকে জীবনবৃত্তান্ত শক্তিশালী করার একটি উপায় হিসেবে প্রচার করেছে।
বিএসবির ধারণা, এই প্রচারের কারণেও টিকিউএলে আবেদন বাড়তে পারে। কারণ নিজ দেশে আইন পেশায় কাজ করলেও যুক্তরাজ্যের ব্যারিস্টার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন ভবিষ্যতে পেশাগতভাবে কাজে লাগবে বলে অনেককে বোঝানো হচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের ব্যারিস্টার চেম্বারে শিক্ষানবিশ বা চাকরির সুযোগ পাওয়া বিদেশি ব্যারিস্টারদের ভিসা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাজ্যে বাস্তবে কাজ করার পরিকল্পনা নেই এমন বিদেশি আবেদনকারীদের তুলনায় দেশটির আইন পেশায় কাজ করতে আগ্রহী প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছে বিএসবি।
সুত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au