বাংলাদেশ

ওটিএন বাংলার সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

আওয়ামী লীগকে দাবায়ে রাখা যাবে না

  • 10:56 pm - October 04, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৫২ বার
২০২৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করছেন কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল।ছবি: সংগৃহীত

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল (১৯৫৮) বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য কবি, গবেষক, নাট্যকার ও সাংবাদিক। ২০২৪ সালে তিনি বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে এ পর্যন্ত তিনি ১৯টি গবেষণাধর্মী বই লিখেছেন। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা মিলিয়ে তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক। কবিতা নিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যাচ্ছেন। তার কবিতায় উঠে এসেছে গ্রামবাংলার জীবন, নগরায়ণের অভিঘাত, ধর্মনিরপেক্ষতা, জীবনের জটিলতা, প্রেম-বিচ্ছেদ, পরবাস, পরাবাস্তবতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদসহ নানা প্রসঙ্গ। শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি, লেখালেখির শুরু, সরকারি চাকরি, সাহিত্যচর্চা, প্রবাসজীবন এবং সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে ওটিএন বাংলার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

ওটিএন বাংলা : আপনার জন্মস্থান ও জন্মতারিখ সম্পর্কে কিছু জানতে চাই। আপনার জন্মের সঙ্গে কোনো বিশেষ বা উল্লেখযোগ্য ঘটনা জড়িয়ে আছে কি? 

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল: আমার জন্ম শেরপুর জেলার যোগনিমরা গ্রামে, আমার নানার বাড়িতে। আমার জন্মতারিখ নিয়ে একটু গোলমালের বিষয় আছে। আমার দুটি জন্মদিন। একটি ৩১ ডিসেম্বর। এটি আমার টিচারের দেওয়া। আগে আমাদের স্কুলের স্যারেরা এ ধরনের কাজ করতেন। আর আমার আসল জন্মদিন ৩০ মে।

এই ৩০ মে জন্মদিনটি একসময় হারিয়ে গিয়েছিল। কোনো এক কারণে আমার বাবা-মায়ের কাছে তারিখটি সংরক্ষিত ছিল না। পরে বিষয়টি নিয়ে আমার খুব দুঃখ হয়েছিল। আমার বাবা একজন শিক্ষক। অথচ তিনি আমার জন্মতারিখ মনে রাখেননি বা লিখে রাখেননি। সন্তানের জন্মদিন ভুলে যাওয়ার বিষয়টি আমার কাছে কষ্টের ছিল।

পরে আমি নিজেই আমার জন্মতারিখ খুঁজে বের করি। বাংলা একাডেমির লাইব্রেরি থেকে পত্রিকা ও পঞ্জিকা ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করি। মায়ের কাছ থেকে শুনেছি। ছোটখালার কাছ থেকেও তথ্য নিয়েছি। সবকিছু মিলিয়ে ৩০ মে-ই আমার প্রকৃত জন্মতারিখ হিসেবে নিশ্চিত হই। আমার জন্মের সঙ্গে এটাই উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

ওটিএন বাংলা : আপনার নাম নিয়েও একটি ভিন্ন ঘটনা আছে।বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাই।

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল: আমার সার্টিফিকেটে নামের আগে ‘শেখ’ আছে। অর্থাৎ ‘শেখ সাইফুল্লাহ মাহমুদ’। এই নামটিও দিয়েছেন আমাদের টিচার। কেন তিনি এভাবে নাম পরিবর্তন করেছিলেন, সেটি আমার কাছে এখনো বোধগম্য নয়। একজন শিক্ষকের কি কারও জন্মতারিখ পরিবর্তন করার অধিকার আছে? একইভাবে নাম পরিবর্তন করার অধিকারও কি তার আছে?

সমীর স্যার আমাদের হেডমাস্টার ছিলেন। স্বাধীনতার পরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জোয়ার ছিল। সম্ভবত সেই সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকেই তিনি আমার নামের আগে ‘শেখ’ পদবিটি যুক্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে আমার সব সার্টিফিকেটেই এই নামটি থেকে যায়। কিন্তু পরে আমি ঢাকা আসি। এরপর ‘সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল’ নামটি গ্রহণ করি। এই নামেই আমি লেখালেখি ও জীবনের অন্যান্য কাজ শুরু করি।

ওটিএন বাংলা : আপনার শৈশব ও বেড়ে ওঠার পরিবেশ কেমন ছিল?

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল: আমার গ্রামের বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলার চরখারচর। চরাঞ্চলের চারদিকে নদী, নালা, খাল ও বিল। বর্ষাকালে পুরো এলাকা পানিতে ঘেরা থাকত। নৌকাই ছিল একমাত্র যানবাহন। হাইস্কুলে যেতে কখনো নৌকায়, কখনো ব্রহ্মপুত্র নদ সাঁতরে পার হতে হয়েছে। শহরের কোনো স্বাদ না পেয়েই একেবারে গ্রামীণ পরিবেশে আমার শৈশব কেটেছে।

ওটিএন বাংলা : সেই গ্রামীণ পরিবেশ আপনার শৈশবের স্মৃতি ও জীবনবোধে কী প্রভাব ফেলেছে?

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল: আমাদের জীবন ছিল খুবই স্বনির্ভর। কেরোসিন, লবণ ও তেল ছাড়া প্রায় সবকিছুই গ্রাম থেকে সংগ্রহ করতাম। নদী, মাঠ, মাছ ধরা, বৈশাখী মেলা, অমাবস্যার রাতে ভূতের গল্প—সবই ছিল শৈশবের অংশ। শহর ও আধুনিকতার প্রভাবের বাইরে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের মধ্যে বড় হয়েছি। তাই আমার শিকড় গভীরভাবে সেই চরাঞ্চলের মাটিতে গেঁথে আছে।

ওটিএন বাংলা : লেখক হওয়ার ভাবনা কখন আপনার মনে আসে? আপনার প্রথম প্রকাশিত লেখার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাই।

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল: শৈশবে কখনো মনে হয়নি যে একদিন লেখক হব। কোনো প্রস্তুতিও ছিল না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে নান্দিনা হাইস্কুল থেকে ‘স্বাধীনতা’ নামে ছোট একটি সংকলন সম্পাদনা করি। সেখানে বন্ধুদের লেখার পাশাপাশি নিজের একটি ‘কবিতার মতো’ লেখা প্রকাশ করি। তখন দেশ সদ্য স্বাধীন। নয় মাসের অবরুদ্ধ জীবন শেষে স্বাধীনতার আনন্দ আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।

ওটিএন বাংলা : আপনার শিক্ষাজীবন কোথা থেকে শুরু? কোথায় কোথায় পড়াশোনা করেছেন?

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল: আমার শিক্ষাজীবন শুরু হয় গ্রামের বাড়ি চরখারচরে। সেখানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ি। এরপর নন্দিনা মহারানী হেমন্ত কুমারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে হাইস্কুলের পড়াশোনা শেষ করি। পরে নন্দিনা কলেজে ভর্তি হই। সাংবাদিকতার কারণে পড়াশোনায় কিছুটা বিরতি ঘটে। এরপর ঢাকায় এসে বাংলা কলেজ, নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করি।

ওটিএন বাংলা : আপনি এক সময় সরকারি চাকরি করতেন। সরকারি চাকরি থেকে আপনার চাকরিচ্যুতির ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল?

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল: ঘটনাটি ১৯৯৬ সালের। তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। ১৯৯৩ সালে আমার প্রথম গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘সাহিত্যের শুভ্র কাফনে শেখ মুজিব’ প্রকাশিত হয়। আমি যা লিখি, তা সরকারের বিরুদ্ধে যায়—এমন অভিযোগে আমাকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। এর প্রতিবাদে দেশ-বিদেশের পাঁচ শতাধিক লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ বিবৃতি দেন।

ওটিএন বাংলা : লেখালেখির কারণে পরবর্তীতে আর কী ধরনের বাধা বা আক্রমণের মুখে পড়েছেন?

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল: আমি সবসময় স্বৈরতন্ত্র ও সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লিখেছি। এরশাদের বিরুদ্ধে ‘ঘাতকের হাতে সংবিধান’ লিখে আলোচনায় আসি। ২০০৪ সালে স্বরব্যঞ্জন প্রকাশনী থেকে প্রবাসীর ‘শয়তানের নয়ন বারি’ প্রকাশের পর মৌলবাদীরা আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। এসব কারণে সরকার ও মৌলবাদীদের দ্বারা বারবার আক্রান্ত হয়েছি। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়তে হয়। বর্তমানে কানাডায় থিতু হয়েছি।

ওটিএন বাংলা : বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৪ অর্জন এবং প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাই।

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল: আমি মূলত পুরস্কারবিরোধী মানুষ। পাঠকদের ভালোবাসাকেই বেশি গুরুত্ব দিই। এর আগে বাংলা একাডেমির দেওয়া প্রবাসী ও ওয়ালিউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার তিনবার প্রত্যাখ্যান করেছি। তবে ২০২৪ সালের পুরস্কারটি আমার কাছে যথার্থ মনে হয়েছে, তাই নিয়েছি। পুরস্কার গ্রহণের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সালাম দিলে তিনি হাসিমুখে সালামের জবাব দেন। এরপর পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময় আমার ক্রেস্ট ও সনদ গুছিয়ে ধরতে সহায়তা করেন। তার এই সৌজন্যতায় আমি মুগ্ধ হয়েছি।

ওটিএন বাংলা : আপনার প্রবাসজীবন কীভাবে কাটছে? বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বাংলাদেশের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ কতটা অটুট আছে?

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল: আমি নিজেকে প্রবাসী মনে করি না। সুদূর কানাডায় থাকলেও বাংলা ও বাংলাদেশ আমার অন্তরজুড়ে। ডিজিটাল যুগে দূরত্ব মূলত অবস্থানগত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি, লাইভ অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছি। দৈনিক ইত্তেফাকের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত আছি। সশরীরে দূরে থাকলেও আমার মন, মনন ও কাজ বাংলাদেশকে ঘিরেই আবর্তিত।

 

ওটিএন বাংলা : বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল : আওয়ামী লীগ কবে, কখন এবং কীভাবে ফিরে আসবে—এই বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত জটিল। আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সঙ্গে শেখ হাসিনার ফিরে আসারও একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ—এটি যেমন একটি বাস্তবতা, তেমনি এর সঙ্গে আরও অনেক প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। শুধু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে—বিষয়টি এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক বিষয় নিয়েও বর্তমানে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঐতিহাসিক দিনগুলো থেকে শুরু করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান পর্যন্ত—অনেক কিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। আমার দৃষ্টিতে, এর ফলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা নিয়ে একটি ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

আমার আরও মনে হয়, বাংলাদেশের সেই পুরোনো শত্রু পাকিস্তান এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে সংশ্লিষ্ট জামায়াত, শিবির ও রাজাকারপন্থী রাজনীতির প্রভাব ও তৎপরতা নতুন করে দৃশ্যমান হয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের সময় এসব রাজনৈতিক শক্তির প্রসার ঘটেছে—এমন একটি ধারণা আমার মধ্যে তৈরি হয়েছে। এমনকি ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে প্রশ্ন জাগে, ইউনূসের রাজনৈতিক অবস্থান ও জামায়াতের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি নিয়েও। তবে সব প্রশ্নের উত্তর এই মুহূর্তে দেওয়া যেমন সম্ভব নয়, তেমনি সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়াও হয়তো এখন সমীচীন নয়।

ওটিএন বাংলা : শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসার পথে প্রধান বাধাগুলো কী বলে মনে করেন?

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল : আমার দৃষ্টিতে আওয়ামী লীগের ফিরে আসাটা কঠিন। কারণ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন যে অবস্থায় রয়েছে, সেখানে আওয়ামী লীগের কারণে একটি পরিবার, পরিবারের সন্তান, পরিবারের সদস্য কিংবা তাদের বাড়িঘরে যেভাবে হামলা, আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটছে, সেগুলো অবর্ণনীয়, অমানবিক এবং অকথ্য। আমরা যখন এসব দৃশ্য দেখি, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—আওয়ামী লীগ এই প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা কীভাবে অতিক্রম করবে?

আমার কাছে মনে হয়, বিষাক্ত সাপের মতো একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে—শুধু বিছানায় নয়, ঘরে, বাড়িতে, সমাজের নানা স্তরে, যত্রতত্র। এই বিষাক্ত পরিস্থিতিকে দূর করা বা নির্মূল করা সহজ কোনো কাজ নয়। এটি একটি দীর্ঘ ও কঠিন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।

আরেকটি বিষয় নিয়েও আমার ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্ন আছে। শেখ হাসিনা হয়তো এ বছরই দেশে ফিরতে পারবেন না। তার ফিরে আসার নিরাপত্তা নিয়ে ইতিমধ্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল মোমেনও বলেছেন যে, তার জন্য এখনো পরিস্থিতি নিরাপদ নয়। শেখ হাসিনা যদি ফিরে আসেন, তাহলে তার নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি কীভাবে আসবেন, কে তাকে নিরাপত্তা দেবে, কোন পথে তিনি দেশে প্রবেশ করবেন—এসবই বড় প্রশ্ন। দেশে প্রবেশ করলেই তো সব সমস্যার সমাধান হবে না। এরপরও যে মববাহিনী রয়েছে, যে উগ্র রাজনৈতিক সংগঠনগুলো রয়েছে, তারাও তো বসে নেই। ফলে শেখ হাসিনার ফিরে আসাটাও একটি জটিল ও কঠিন বিষয়। একইভাবে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া বা দলটির স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসার বিষয়টিও আমি সহজভাবে দেখছি না।

ওটিএন বাংলা : আওয়ামী লীগের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে নানা সময় নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিকূলতা এসেছে। সে বিবেচনায় আওয়ামী লীগকে কি শেষ পর্যন্ত দাবিয়ে রাখা সম্ভব?

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল : আওয়ামী লীগের ইতিহাসে নিষিদ্ধ করা নতুন কিছু নয়। বাংলার মাটিতে প্রোথিত তথা তৃণমূল পর্যায়ের এই ঐতিহ্যবাহী দলটিকে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারির পর রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগও ছিল। ১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি সামরিক সরকার মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং এর নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

তবে রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। যে কোনো সময় পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। কোনো মিরাকল যদি ঘটে, কিংবা পরাশক্তিগুলোর—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের—কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক ভূমিকা যদি পরিবর্তিত পরিস্থিতি তৈরি করে, তাহলে হিসাব যে কোনো সময় বদলাতে পারে। তাছাড়া জনমত এখন অনেকটাই আওয়ামী লীগের পক্ষে চলে এসেছে। তাই আওয়ামী লীগের বিষয়ে ইতিহাসের দিকে তাকালে বঙ্গবন্ধুর সেই উক্তিই বারবার মনে পড়ে—‘দাবায় রাখতে পারবা না।’

 

এই শাখার আরও খবর

শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে আসলে কি বোঝাতে চাচ্ছেন ভারতীয় হাইকমিশনার

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যাওয়া এবং তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে নতুন করে…

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রাজস্ব সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের আলোচনা

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রাজস্ব সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রোববার অর্থ…

ভোটার তালিকা ইস্যুতে উত্তাল ভারত, নির্বাচন কমিশন প্রধানের পদত্যাগ দাবি

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ হয়েছে। রোববার রাজধানী নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ে হাজারো…

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর বারবার হামলা, রহস্য কোথায়?

ঝিনাইদহ ও হবিগঞ্জের পর এবার কুষ্টিয়ায় হামলার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর। রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার লালন শাহ…

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক বিশ্বদীপ দাশ

ডিজিটাল মাধ্যমে দেশের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিশ্বদীপ দাশ। রোববার সংবাদমাধ্যমটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাকে এ…

বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১০ এয়ারবাস, চুক্তি ৭ অক্টোবর

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে ১০টি নতুন এয়ারবাস উড়োজাহাজ যুক্ত করার বিষয়ে আগামী ৭ অক্টোবর চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au