শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে আসলে কি বোঝাতে চাচ্ছেন ভারতীয় হাইকমিশনার
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যাওয়া এবং তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে নতুন করে…
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে ১০টি নতুন এয়ারবাস উড়োজাহাজ যুক্ত করার বিষয়ে আগামী ৭ অক্টোবর চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও এয়ারবাসের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করবেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
চুক্তিতে এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ সই করবেন বলে জানা গেছে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত থাকবেন। রাজধানীর র্যাডিসন হোটেলে বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তির আওতায় চারটি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কেনা হবে। এ৩৫০-৯০০ দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটের জন্য এবং এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের উপযোগী।
এর আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ১০টি এয়ারবাস কিনবে। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হবে।’
মন্ত্রী জানিয়েছেন, এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরু হতে পারে এবং তা ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। তবে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তির মোট বাণিজ্যিক মূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বিমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চারটি এ৩৫০-৯০০ ভবিষ্যতে দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহার করা হবে। আর ছয়টি এ৩২১নিও দিয়ে আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটের যাত্রী পরিবহন করা হবে। এতে রুটের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন আকারের উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
এয়ারবাসের নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে বিমানের বহরে বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসের উড়োজাহাজও থাকবে। বর্তমানে বিমানের জেট বহরের বড় অংশই বোয়িংয়ের তৈরি। ফলে এ৩৫০ ও এ৩২১নিও যুক্ত হলে দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে বহর পরিচালনা করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।
এদিকে, ১০টি এয়ারবাস কেনার পরিকল্পনাটি বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ। এর আগে বিমান আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজসহ মোট ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।
পরবর্তীতে এই পরিকল্পনায় আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮। সব মিলিয়ে বিমানের পরিকল্পিত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।
এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় নতুন বোয়িং ও এয়ারবাস উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫টি। এর মধ্যে ১৯টি ওয়াইড-বডি এবং ১৬টি ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ।
নতুন উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি সক্ষমতার চাহিদা পূরণে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিমান।
আগামী ৭ অক্টোবর এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি সই হলে বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় নতুন একটি ধাপ যুক্ত হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বোয়িংনির্ভর ক্রয় পরিকল্পনার পাশাপাশি এয়ারবাসও বিমানের ভবিষ্যৎ বহর পরিকল্পনায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au