শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে আসলে কি বোঝাতে চাচ্ছেন ভারতীয় হাইকমিশনার
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যাওয়া এবং তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে নতুন করে…
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ হয়েছে। রোববার রাজধানী নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ে হাজারো তরুণ ও বিরোধী দলের সমর্থক বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
মুম্বাইয়ের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন মহারাষ্ট্রের বিরোধী রাজনীতিক রাজ ঠাকরে ও উদ্ধব ঠাকরে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পাবে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যার দিকে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। পরে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়া গাড়িগুলো ঘিরে ফেলেন। কেউ কেউ গাড়ির ওপর উঠে পড়েন এবং রাস্তা আটকে দিতে সড়কে শুয়ে পড়েন।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী আহনা সিং অভিযোগ করেন, পুলিশ তাকে চুল ধরে টেনে নিয়ে গেছে। তার দাবি, বিক্ষোভ দমনে পুলিশ ‘বর্বরতার’ আশ্রয় নিচ্ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত দুই দিন ধরেও দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশে বাধা দিয়ে আসছে পুলিশ। বেশ কয়েকজনকে আটক করে বাসে করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার আটক কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় বড় ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী আহনা সিং বলেন, ‘‘পুলিশ আমাকে চুল ধরে হেঁচড়ে নিয়ে গেছে। তারা বর্বরতার আশ্রয় নিচ্ছে।’’ছবি: সংগৃহীত
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত বছর শুরু হওয়া দেশব্যাপী ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এর ফলে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।
মুম্বাইয়ের বিক্ষোভে রাজ ঠাকরে বলেন, দেশের মানুষই ঠিক করবে কে ক্ষমতায় থাকবে এবং কে বিরোধী দলে থাকবে। নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়া, মৃত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই সংশোধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শুক্রবার কমিশন ভুলবশত বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পুনরায় তালিকাভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তার পদত্যাগের দাবি বা চলমান বিক্ষোভ নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে বিরোধী দলগুলোর একটি জোট আগামী মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বড় সমাবেশের কর্মসূচি জানিয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধী দল ও নির্বাচন কমিশনের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। নতুন কর্মসূচি ঘিরে আগামী দিনগুলোতে বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au