নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…
জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের নাাহা শহরের একটি হোটেল কক্ষ থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর ডাকাতি ও হত্যার অভিযোগে এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪ অক্টোবরের এই ঘটনায় জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সেনার নাম ২০ বছর বয়সী ল্যান্স কর্পোরাল ডেভিন জে বোলার্ড। তিনি ওকিনাওয়ার ফুটেনমা মার্কিন মেরিন কর্পস বিমানঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর ভোরে নাাহা শহরের একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী আন্না ইয়াগিকে হত্যা করা হয়। পরে ওই কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হলে তদন্তের পর বোলার্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর জাপানে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত নৃশংস ও জঘন্য কাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, জাপান সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা, মার্কিন সামরিক সদস্যদের কঠোর শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি টোকিওতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জর্জ গ্লাসকে তলব করেন। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে মোতেগি মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের শৃঙ্খলা আরও জোরদার করার পাশাপাশি এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
টোকিওতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস নিহত নারীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ঘটনার তদন্তে জাপান সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত বোলার্ডের ইউনিট থার্ড মেরিন এক্সপিডিশনারি ফোর্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, গুরুতর অপরাধের অভিযোগে তাদের একজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তারা জাপানি কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহযোগিতা করছে বলেও জানানো হয়েছে।
ওকিনাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সেখানে অবস্থানরত সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ অতীতেও দ্বীপটিতে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
১৯৯৫ সালে তিন মার্কিন সেনার বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ওকিনাওয়ায় ব্যাপক গণবিক্ষোভ হয়েছিল। পরে ২০১৭ সালে ওকিনাওয়ায় এক তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে সাবেক মার্কিন মেরিন সদস্য কেনেথ ফ্র্যাঙ্কলিন শিনজাতোকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন জাপানের আদালত।
নতুন এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আবারও ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি, সেনাদের শৃঙ্খলা এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বোলার্ডের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে এবং মামলার চূড়ান্ত তথ্য আদালতের প্রক্রিয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au