কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…
ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো থেকে ফ্রান্সের বেরিয়ে যাওয়ার দাবিতে রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। শনিবার দেশজুড়ে আয়োজিত এসব বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন ফ্রান্সের সাবেক ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ফ্লোরিয়ান ফিলিপো। তিনি ২০২৭ সালের ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিক্ষোভকারীরা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর প্রতি ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। তাদের হাতে ফ্রান্সের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ‘রাশিয়া আমাদের শত্রু নয়’ লেখা ব্যানারও দেখা যায়। ইউক্রেনের যুদ্ধে ফ্রান্সের আরও জড়িয়ে পড়া উচিত নয় বলেও দাবি করেন তারা।
ফ্লোরিয়ান ফিলিপোর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি রাজনৈতিক দল ‘লে পাত্রিওত’ প্যারিস ছাড়াও অবিয়ের, আনেসি, গ্রেনোবল, পেরিগু ও শমো শহরে বিক্ষোভের আয়োজন করে। এসব কর্মসূচিতে ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ও গুরুত্ব পায়। বিক্ষোভকারীরা জ্বালানির উচ্চমূল্য কমানো, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিও জানান।
প্যারিসের সমাবেশে ফিলিপো বলেন, ফ্রান্সের ন্যাটো থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। ইউক্রেনের যুদ্ধের পেছনে অর্থ ব্যয় এবং দেশটিতে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করারও দাবি জানান তিনি। তার মতে, যুদ্ধ ও অস্ত্র সরবরাহে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ দেশের মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমাতে ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে পেট্রোলের ওপর কর কমানোর মতো উদ্যোগে অর্থ ব্যয়ের পক্ষে মত দেন তিনি। কারণ, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে ফরাসি জনগণ আর্থিকভাবে চাপে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ফিলিপোর এক সমর্থক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনে এত অর্থ ব্যয় করেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, যুদ্ধের পরিবর্তে হাসপাতাল, শিক্ষা এবং মানুষের কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানো উচিত।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে ফ্লোরিয়ান ফিলিপো ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা ফ্রান্সের জাতীয় পতাকা নয় এবং কখনোই হবে না। তার দাবি, বর্তমান ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ থেকে বেরিয়ে আসতে ফ্রান্সের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করা প্রয়োজন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ফ্রান্সের বেরিয়ে যাওয়ার এই দাবিকে ‘ফ্রেক্সিট’ বলা হয়।
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে ফ্রান্সে একের পর এক বিক্ষোভ ও আন্দোলন চলছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি মজুরি, সরকারি ব্যয়, কর্মপরিবেশ এবং সরকারের বাজেট পরিকল্পনার প্রতিবাদে শ্রমিকরাও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রশ্নের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ও রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
এরই মধ্যে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স সরকার ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট প্রকাশ করেছে। বাজেট ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকারি সেবা, পেনশন ও সামাজিক সুবিধায় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কিছু খাতে ব্যয় স্থগিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের এসব পরিকল্পনাও দেশটিতে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনকে সহায়তার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানও অব্যাহত রয়েছে। চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনায় অটল থাকার কথা জানিয়েছে। ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ইউক্রেন সরকারের বাজেট এবং সামরিক ব্যয়ের প্রয়োজন মেটাতে এই ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের ইউক্রেননীতি, ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে। আগামী ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ফ্লোরিয়ান ফিলিপোর নেতৃত্বে এসব ইস্যু রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।
সূত্র: আরটি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au