আসন্ন বড় খাদ্য সংকটের জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ, জ্বালানি ও সার সরবরাহে চাপ,…
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের লাগেজ ওঠানো-নামানো ও পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়া লাইভ সিসিটিভির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিমান থেকে লাগেজ নামানো থেকে শুরু করে কনভেয়ার বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সরাসরি নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। যাত্রীদের লাগেজ থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরি ঠেকাতেই এ উদ্যোগের দাবি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন সোমবার (৫ অক্টোবর) এ নোটিশ পাঠান। এতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কক্সবাজার, সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর ও বরিশাল বিমানবন্দরের পরিচালক ও ব্যবস্থাপকদের কাছেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী, পর্যটক, বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী কর্মীরা লাগেজ থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরির মতো ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এতে আরও অভিযোগ করা হয়, বিমান থেকে লাগেজ নামিয়ে কনভেয়ার বেল্টে নেওয়ার পথে তালাবদ্ধ ব্যাগ কেটে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি করা হচ্ছে।
এ ধরনের ঘটনায় যাত্রীরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, রানওয়ে ও লাগেজ বাছাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকা এবং সিসিটিভির আওতার বাইরে থাকা জায়গাগুলো কাজে লাগিয়ে কিছু গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং কর্মী ও লোডার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারেন।
এ কারণে বিমান থেকে লাগেজ নামানো, ট্রলিতে তোলা, র্যাম্প এলাকা দিয়ে পরিবহন এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ উচ্চমানের সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, এসব ক্যামেরার ফুটেজ বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল লাউঞ্জে বড় পর্দায় সরাসরি দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে যাত্রীরা নিজেদের লাগেজ কীভাবে পরিবহন করা হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
এ ছাড়া কাস্টমস বা নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা কোনো লাগেজ খুলে পরীক্ষা করলে সেই প্রক্রিয়াও ক্যামেরার আওতায় আনার এবং সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে তা সরাসরি দেখানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশে লোডার, গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের সক্রিয় প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি এবং স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
সব বিমানবন্দরে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় লাইভ সিসিটিভি নজরদারি চালু, লাগেজ তল্লাশিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া সংস্কারে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ না নিলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au