আসন্ন বড় খাদ্য সংকটের জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ, জ্বালানি ও সার সরবরাহে চাপ,…
ফ্রান্সে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্রমেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় গত ১৮ দিনে ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
বিক্ষোভের মধ্যে রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৪টি স্কুলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোববার দেশজুড়ে আরও প্রায় ৫০০ স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দো জেফ্রে বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে স্কুলগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মতো পরিবেশ নেই বলেও জানান তিনি।
তবে স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার পরও বিক্ষোভ থামেনি। বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন, সড়ক অবরোধ ও মিছিল অব্যাহত রেখেছে।
ফ্রান্সে হাইস্কুল ও জুনিয়র স্কুলের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৭০০। আন্দোলন শুরুর পর প্রথম দিকে প্রায় ৪০০টি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। রোববার সেই তালিকায় আরও ৫০০টি স্কুল যুক্ত হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের শহরতলির একটি হাইস্কুলে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। অপর্যাপ্ত শিক্ষক, দীর্ঘ ক্লাসের সময়সূচি এবং শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
পরে সেই আন্দোলন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কারের দাবিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ ক্রমেই বড় আকার ধারণ করে।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে জানান, আন্দোলন শুরুর পর থেকে অন্তত ১৭০ জন শিক্ষার্থী এবং ৭৮ জন শিক্ষক ও স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন। একই সময়ে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনেজ পৃথক এক বিবৃতিতে জানান, গত এক সপ্তাহে ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করেন তিনি।
তবে বিক্ষোভের পেছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে সরকার ও সমালোচকদের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, উগ্র-বামপন্থী কিছু কর্মী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং বিক্ষোভকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারের কঠোর অবস্থানের সমালোচকেরা পুলিশের পদক্ষেপকে অতিরিক্ত বলে মনে করছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও তরুণ বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠস্বর দমনের পরিবর্তে তাদের দাবি শোনার আহ্বান জানিয়েছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিক্ষোভের তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও আন্দোলনকারীরা মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) থেকে নতুন করে বড় আকারের কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার তাদের দাবির বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সরকার ও আন্দোলনকারীরা নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় ফ্রান্সে শিক্ষা সংস্কার ঘিরে চলমান এই সংকটের দ্রুত সমাধানের কোনো স্পষ্ট পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র : এএফপি, জি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au