আসন্ন বড় খাদ্য সংকটের জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ, জ্বালানি ও সার সরবরাহে চাপ,…
গোপালগঞ্জের ২৫ বছর বয়সী বৃষ্টি ঘরামির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল ১৬ অক্টোবর। বিয়ের কেনাকাটাও শেষ হয়েছিল। নতুন জীবন শুরুর অপেক্ষায় থাকা বৃষ্টির সেই স্বপ্ন অবশ্য পূরণ হয়নি। বিয়ের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।
শেষ বিদায়ের আগে বৃষ্টির নিথর দেহে সিঁদুর পরিয়ে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন তার হবু বর। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বৃষ্টির মৃত্যু হয়। তিনি ঢাকার শ্যামলীর একটি ট্রমা সেন্টারে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় নয় মাস ধরে সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
মৃত্যুর দিন সকালেও বৃষ্টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন। রক্তদাতাদের সহযোগিতা চেয়ে একটি ফোন নম্বরও দিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বৃষ্টির বড়বোন বলেন, ১৬ অক্টোবর বিয়ের তারিখ নির্ধারিত ছিল। বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব কেনাকাটাও শেষ হয়েছিল। ডেঙ্গুতে তার আকস্মিক মৃত্যু পুরো পরিবারকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
বৃষ্টির শেষ সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তার প্রচণ্ড জ্বর উঠেছিল। পরে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা যথাসময়ে শুরু করা যায়নি।
গোপালগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা শেষ করে নার্সিং পেশায় যোগ দেন বৃষ্টি। তার হবু বরের বাড়ি পাশের টেকেরহাট এলাকায়।
বৃষ্টির বড়বোন জানান, মৃত্যুর পর তার হবু বর তাকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। ঢাকা থেকে মরদেহ বাড়িতে আনার সময় হবু শ্বশুর-শাশুড়িও বিয়ের জন্য কেনা সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে আসেন।
তিনি বলেন, বিয়েকে ঘিরে বৃষ্টির অনেক স্বপ্ন ও পরিকল্পনা ছিল। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে বিয়ের আয়োজন নিয়ে নিয়মিত গল্প করতেন তিনি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে সেই সব আয়োজন মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে।
নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রোগীদের প্রতিও বৃষ্টির ছিল গভীর মমতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা বিভিন্ন পোস্টে তার পেশাগত দায়িত্ববোধ ও রোগীদের প্রতি আন্তরিকতার বিষয়টি উঠে এসেছে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুর্ঘটনায় আহত এক কিশোরীকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখে তার সঙ্গে নিজের আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা লিখেছিলেন বৃষ্টি।
ওই পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, গুরুতর দুর্ঘটনার পর কিশোরীটি সুস্থ হয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। রোগীটি তাকে ‘আপু’ বলে ডাকত এবং তার প্রতি যে আস্থা ও ভালোবাসা দেখিয়েছিল, সেটি বৃষ্টিকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল।
বৃষ্টি লিখেছিলেন, দায়িত্ব শেষে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় ওই কিশোরী তাকে যেতে দিতে চাইছিল না। পরদিন সকালে আবার দেখা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই সে তাকে যেতে দিয়েছিল।
নার্স ও রোগীর মধ্যকার এমন আন্তরিক সম্পর্কের কথাই তুলে ধরেছিলেন বৃষ্টি তার লেখায়।
বিয়ের দিন যতই এগিয়ে আসছিল, ততই নতুন জীবন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ডেঙ্গুতে আকস্মিক মৃত্যুতে থেমে গেছে সব আয়োজন। শেষ বিদায়ের আগে হবু বরের হাতে সিঁদুর পরানোর ঘটনাটি এখন পরিবারের কাছে হয়ে আছে অপূর্ণ থেকে যাওয়া এক বিয়ের বেদনাবিধুর স্মৃতি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au