আসন্ন বড় খাদ্য সংকটের জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ, জ্বালানি ও সার সরবরাহে চাপ,…
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশ বলেছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে শুধু আইনি প্রক্রিয়া নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন।
রোববার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এর এক দিন আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, ঢাকার পাঠানো প্রত্যর্পণ অনুরোধ ভারত সরকারের পাশাপাশি আদালতসহ সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন।’’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আশা করছে, ভারত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
শেখ হাসিনাকে ভারত-বাংলাদেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘‘অবশ্যই।’’
তিনি বলেন, ‘‘চুক্তির আওতায় অভিযুক্তকে (শেখ হাসিনা) দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’’
তবে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে ভারত-বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি সরাসরি প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে কয়েকজন আইন বিশেষজ্ঞ এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, চুক্তির বিভিন্ন ধারা এবং প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগগুলো বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করতে হবে।
এর আগে শনিবার ঢাকায় একটি বেসরকারি থিংকট্যাংকের আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বক্তব্য দেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা কবে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘‘শেখ হাসিনার ফেরার বিষয়ে কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবেন না।’’
ভারতীয় হাইকমিশনার আবারও বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের পাঠানো অনুরোধ একটি নির্ধারিত ও কাঠামোবদ্ধ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারতের সরকার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত আইনি পদ্ধতি অনুযায়ী পরীক্ষা করছে।
ভারতের অবস্থান অনুযায়ী, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাওয়ার পর সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি শুধু দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং ভারতের প্রচলিত আইন ও প্রত্যর্পণসংক্রান্ত প্রক্রিয়াও এর সঙ্গে যুক্ত।
শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। ওই দিন ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মুখে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান।
এরপর বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ও বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। জুলাই আন্দোলন দমনে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার হয়। অনুপস্থিতিতে চলা ওই বিচার শেষে ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
তবে শেখ হাসিনা ও তার সমর্থকেরা ওই বিচারপ্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ‘‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’’ বা প্রহসনের বিচার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায়। এ জন্য কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে ভারতের কাছে তার প্রত্যর্পণ চাওয়া হয়। এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকার পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। অন্যদিকে ভারত বলে আসছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রক্রিয়াটি দ্রুত করার আহ্বান জানানোয় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির অবস্থানের পার্থক্য আবারও সামনে এসেছে। বাংলাদেশের বক্তব্যে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর ভারতীয় পক্ষ বলছে, প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় এবং বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোচ্ছে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au