আসন্ন বড় খাদ্য সংকটের জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ, জ্বালানি ও সার সরবরাহে চাপ,…
খুলনার রূপসা উপজেলায় ছেলে হত্যার ৫০ দিনের মাথায় তার বাবা আক্তার ঢালীকেও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে মাগরিবের নামাজের পর স্থানীয়দের সঙ্গে চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় তাকে গুলি করা হয়।
নিহত আক্তার ঢালী ওই গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে তার ছেলে জয় ঢালীকে (২৭) গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। ছেলে হত্যার ঘটনার ৫০ দিনের মাথায় একই পরিবারের আরেক সদস্য হিসেবে আক্তার ঢালীও হত্যার শিকার হলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে আক্তার ঢালী মসজিদের পাশে একটি চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসেছিলেন। সেখানে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তিনি আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়।
গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে চায়ের দোকানের কাছে আক্তার ঢালীকে বেঞ্চের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রূপসা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে আক্তার ঢালী গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কী কারণে এবং কারা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৫০ দিন আগে খুন হন ছেলে জয়
আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর নিহত জয়ের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে রূপসা থানায় হত্যা মামলা করেন।
ছেলে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা ওই মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যেই এবার আক্তার ঢালীও হত্যার শিকার হলেন। ফলে পরপর দুই ঘটনায় একই পরিবারের বাবা ও ছেলেকে হত্যার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জয় ঢালী হত্যার পর থেকেই পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ছিল কি না, সেটিও এখন তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আক্তার ঢালী হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আগের জয় ঢালী হত্যা মামলার সঙ্গে নতুন হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
রূপসায় হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ
চলতি বছর খুলনা জেলার নয়টি থানায় মোট ৩৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু রূপসা উপজেলাতেই ১২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
একই উপজেলায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জয় ঢালী হত্যার ৫০ দিনের মাথায় তার বাবা আক্তার ঢালীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ বলছে, আক্তার ঢালী হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহসহ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au