‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের…
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ, জ্বালানি ও সার সরবরাহে চাপ, জলবায়ুজনিত ঝুঁকি এবং দরিদ্র দেশগুলো থেকে অর্থের প্রবাহ কমে যাওয়ার মতো একাধিক কারণকে তিনি সম্ভাব্য সংকটের পেছনে দায়ী করেছেন।
নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বক্তব্য দেওয়ার সময় জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্ব সম্ভবত বড় ধরনের খাদ্য সংকটের দিকে এগোচ্ছে। তাঁর ভাষায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এমন সংকট দেখা দিতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত বৈশ্বিক দক্ষিণের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক দেশগুলো যদি কৃষিপণ্য পরিবহনে সমস্যায় পড়ে, তাহলে বিশ্ববাজারে খাদ্য সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারে।
জয়শঙ্কর বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ফোর এফ ক্রাইসিস’ বা ‘৪এফ সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্য, জ্বালানি, সার ও অর্থ বা অর্থায়ন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর এই চারটি খাতের সম্মিলিত চাপ অত্যন্ত গুরুতর হয়ে উঠছে।
সম্ভাব্য খাদ্য সংকটের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে সামনে আসছে এল নিনো। গত ১০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার জানিয়েছে, এল নিনো শক্তিশালী হচ্ছে এবং উত্তর গোলার্ধের শরৎ ও শীত মৌসুমে এটি খুব শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি। তবে শক্তিশালী এল নিনো হলেই যে সব অঞ্চলে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এটি শুধু গুরুতর প্রভাবের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
এরই মধ্যে ভারতের মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতিও আশাব্যঞ্জক নয়। মে মাসে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গড়ের ৯০ শতাংশে নামিয়ে আনে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের ইঙ্গিত দেয়। ফলে খাদ্য উৎপাদন নিয়ে ভারতের উদ্বেগের সঙ্গে দেশটির নিজেদের কৃষি পরিস্থিতিও সরাসরি যুক্ত।
বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার আরেকটি বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বা এফএওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, এক-পঞ্চমাংশ তরলীকৃত গ্যাস এবং বৈশ্বিক সার বাণিজ্যের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়।
সার উৎপাদনে গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সারের উৎপাদন ও সরবরাহও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর সারের দাম ৩০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে।
বিশ্বের খাদ্যপণ্যের দামও ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। আগস্টে এফএওর খাদ্য মূল্যসূচক গড়ে ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে উঠেছে। একই সময়ে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেছেন, খাদ্যবাজারে ঝুঁকির প্রিমিয়াম আবার ফিরে আসছে। জলবায়ুজনিত ধাক্কা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পণ্য পরিবহনে বিঘ্নের কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশের কৃষক। ছবি: বলরাম মহলদার
তবে পরিস্থিতিকে ২০০৮ সালের খাদ্য সংকটের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করাও ঠিক হবে না। কারণ বর্তমানে বিশ্বে শস্যের তাৎক্ষণিক ঘাটতি নেই। এফএও চলতি বছর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে। যদিও সংস্থাটি পূর্বাভাস সামান্য কমিয়ে ২৯৭ কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টনে নামিয়েছে।
আশঙ্কা মূলত সামনে কী হতে পারে তা নিয়ে। সার দীর্ঘদিন ব্যয়বহুল থাকলে কৃষকেরা সারের ব্যবহার কমিয়ে দিতে পারেন। কোনো কোনো অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হলে ফলনও কমতে পারে। আর খাদ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বে দরিদ্র দেশগুলো, যাদের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কম এবং মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতাও সীমিত।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বা ডব্লিউএফপির হিসাবে, এল নিনোর কারণে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অন্তত ৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ নতুন করে তীব্র ক্ষুধার মধ্যে পড়ে যেতে পারে।
এশিয়ার জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্বের অধিকাংশ চাল এশিয়াতেই উৎপাদিত ও ভোগ করা হয়। আগস্টে এফএওর চালের মূল্যসূচক দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর স্থিতিশীল আমদানি এতে ভূমিকা রেখেছে।
তবে চালের বাজারে আতঙ্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার নজির রয়েছে। ২০০৮ সালে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বেড়ে যায়, সারের দামও বাড়তে থাকে। একই সময়ে ভারত ও ভিয়েতনামের মতো বড় চাল রপ্তানিকারক দেশ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এরপর বিশ্ববাজারে চাল নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক হারে মজুত শুরু হয়। কয়েক মাসের মধ্যে চালের দাম প্রতি টন প্রায় ৩০০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ডলারেরও বেশি হয়ে যায়।
সে সময় বাংলাদেশও এর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। দেশে চালের দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়ে যায় এবং কয়েকটি জেলায় অস্থিরতা দেখা দেয়।
বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্য ২০০৮ সালের মতো নয়। তবে ঘটনাপ্রবাহের একটি পরিচিত ধারা রয়েছে। প্রথমে জ্বালানির দাম বাড়ে, এরপর কৃষির উপকরণের দাম বাড়ে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের পথে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সরকারি গুদামে বিপুল পরিমাণ চালের মজুত রয়েছে। আবার অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়লে রপ্তানি সীমিত করার নজিরও ভারতের রয়েছে। ২০২৩ সালেও ভারত চাল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। ফলে আগামী শীত মৌসুমে দিল্লির সিদ্ধান্তের দিকে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর নজর থাকবে।

সার সংকটে বাংলাদেশের কৃষকরা। ছবিঃ আল-জাজিরা
বাংলাদেশের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। ২০২৬ সালের গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসেসে তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তায় থাকা মানুষের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ সংকট পর্যায়ের বা তার চেয়ে গুরুতর খাদ্য অনিরাপত্তায় ছিল। এমনকি আগের বছরের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার পরও এই সংখ্যা ছিল অত্যন্ত বড়।
সাম্প্রতিক হিসাব আরও উদ্বেগ তৈরি করছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার মধ্যে ছিল। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৮১ লাখে দাঁড়াতে পারে, যা প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ জরুরি পর্যায়ের খাদ্য অনিরাপত্তায় পড়তে পারে।
এফএওর মতে, মানুষের দুর্বল ক্রয়ক্ষমতা এর অন্যতম প্রধান কারণ। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির পর জ্বালানি ও বিদ্যুতের খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি দেশের কিছু এলাকায় বন্যায় মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বল জায়গাগুলোর একটি হলো সার। দেশে ব্যবহৃত মোট সারের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ সার হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে বলে বিভিন্ন হিসাব রয়েছে।
বাংলাদেশে ব্যবহৃত ইউরিয়ার বড় একটি অংশ আসে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। কিন্তু দেশীয় উৎপাদনও নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে সবসময় কাজ করছে না। গ্যাস সংকটের কারণে চলতি বছর বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইউরিয়া কারখানাগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছে। মার্চে একই সময়ে দেশের বেশির ভাগ বড় ইউরিয়া কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
এটি বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ, দেশের মোট সারের বড় অংশই ধান উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। মোট সারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ধান চাষে ব্যবহার করা হয়। আমন ও বোরো মৌসুম মিলিয়ে দেশের ৯০ শতাংশের বেশি ধান উৎপাদিত হয়।
এর মধ্যে বোরো মৌসুম শুরু হয় শীতকালে। ফলে কৃষকের মাঠে সার প্রয়োজন হওয়ার আগেই ইউরিয়া, ডিএপি ও পটাশ পর্যাপ্ত পরিমাণে গুদামে মজুত থাকা জরুরি।
খাদ্য উৎপাদনের ওপর আরেকটি বড় চাপ তৈরি করছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। ফেব্রুয়ারিতে দেশে ডিজেলের দাম ছিল প্রতি লিটার ১০০ টাকা। ১৯ এপ্রিল থেকে তা বেড়ে ১১৫ টাকা হয়। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর আরও ২০ টাকা বেড়ে প্রতি লিটার ১৩৫ টাকায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে ডিজেলের দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১৬ লাখ ৫০ হাজার বড় সেচ পাম্পের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ২০ হাজার ডিজেলচালিত। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে শুধু সেচ খরচই বাড়ে না, ধান ও সবজি বাজারে পরিবহনের ব্যয়ও বেড়ে যায়। এর প্রভাব প্রথমে পড়ে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর, কারণ তাদের বাড়তি মূল্য পরিশোধের সক্ষমতা সবচেয়ে কম।

জ্বালানি সংকটের কারণে সেচের পাম্প চালাতে সমস্যার অভিযোগ করছেন অনেক কৃষক ,ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর গত বছরের একটি গবেষণা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬২ শতাংশ পরিবার তাদের মোট আয়ের অন্তত অর্ধেক খাবারের পেছনে ব্যয় করে। ফলে খাদ্যের দাম বাড়লে এসব পরিবার বিলাসী পণ্য কেনা কমানোর সুযোগ পায় না। বরং ডিম, দুধ ও ডালের মতো পুষ্টিকর খাবার কেনা কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়।
তবে বাংলাদেশ এখনই চালের সংকটের দিকে যাচ্ছে, এমনটা বলার সুযোগ নেই। এফএও চলতি বছর বাংলাদেশের ধান উৎপাদন ৬ কোটি ১৯ লাখ টন হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে, যা গত চার বছরের গড় উৎপাদনের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। বোরো মৌসুমের উৎপাদনও গত বছরের রেকর্ডের কাছাকাছি ছিল।
এফএওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশকে ৮ লাখ টন চাল আমদানি করতে হতে পারে, যেখানে গত বছর আমদানির পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ টন।
সরকারের খাদ্যশস্যের গুদামেও বর্তমানে তুলনামূলক ভালো মজুত রয়েছে। এপ্রিল মাসে সরকারি গুদামে ১৯ লাখ ২০ হাজার টন খাদ্যশস্য ছিল, যেখানে সরকারের নির্ধারিত নিরাপদ মজুতের পরিমাণ ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন। সরকার সারের দামও অপরিবর্তিত রেখেছে এবং সার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম কর প্রত্যাহার করেছে।
এ ছাড়া জুনে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে দুটি প্রকল্পের আওতায় মোট ১১০ কোটি ডলার অনুমোদন করেছে। এসব অর্থ সারের ও জ্বালানির মূল্য ওঠানামার প্রভাব মোকাবিলা, খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং দ্রুত সংকট মোকাবিলায় ব্যবহার করার কথা।
তাই বাংলাদেশের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি গুদামে চাল না থাকা নয়। বরং আগামী বছর বোরো উৎপাদন কমে যাওয়া, খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বাজারে খাদ্য থাকলেও মানুষের তা কেনার সামর্থ্য কমে যাওয়াই বড় আশঙ্কা।
একটি গুদাম খাদ্যে পূর্ণ থাকতে পারে, কিন্তু মানুষের হাতে সেই খাদ্য কেনার অর্থ না থাকলে তাদের প্লেট খালি থেকে যেতে পারে।

বাজারে চড়া সবজি-মুরগি-ডিমের দাম। ছবিঃ সংগৃহীত
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগেভাগে সার কেনা এবং আমদানির উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে সার সংগ্রহ করলে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে উৎপাদনক্ষম ইউরিয়া কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ সচল রাখার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
ডিজেলচালিত সেচের জন্য কৃষকদের লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সৌরচালিত সেচপাম্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া তেলের দাম, জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি, গ্যাস সরবরাহ, সারের মজুত এবং খাদ্যের দামকে আলাদা আলাদা সমস্যা হিসেবে না দেখে একটি সমন্বিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। এতে বাজারে সরাসরি ঘাটতি দেখা দেওয়ার আগেই সরকার ব্যবস্থা নিতে পারবে।
শীত মৌসুমজুড়ে খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি এবং টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিতরণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য নগদ অর্থ বা খাদ্য সহায়তা চালু রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
তবে এসব পদক্ষেপের জন্য অর্থের প্রয়োজন। আর সেখানেও চাপ রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আগের বছরের তুলনায় ভর্তুকি ও প্রণোদনা ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ কমানো হয়েছে। এমন সময়ে এই ব্যয়সংকোচন খাদ্য ও কৃষি খাতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকট বাজারে দৃশ্যমান হয়ে ওঠার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগেভাগে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক কম ব্যয়বহুল। কারণ খুচরা বাজারে খাদ্যের দাম একবার দ্রুত বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও বেশি অর্থ ও সময় প্রয়োজন হয়।
জয়শঙ্করের বক্তব্যের পেছনে কূটনৈতিক হিসাব থাকলেও তাঁর সতর্কতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাস্তব ঝুঁকিগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এল নিনোর আশঙ্কা, সারের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের চাপ এবং বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সব মিলিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এখন আসন্ন বোরো মৌসুম।
কারণ ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বোরো ধানের চাষ শুরু হবে। তার আগেই সার, জ্বালানি, সেচ এবং কৃষি উপকরণের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের হাতে সময় খুব বেশি নেই।
সূত্রঃ ডেইলি স্টার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au