অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমানোর বড় পরিকল্পনা বিরোধীদের
অস্ট্রেলিয়ায় ক্ষমতায় গেলে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিসরে অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রধান বিরোধী জোট লিবারেল-ন্যাশনাল জোট। জোটটির নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর জানিয়েছেন, সরকার গঠন করতে…
অস্ট্রেলিয়ার একটি সরকারি স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনায় নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে ওপেনএআইয়ের প্রধান কৌশল কর্মকর্তা জেসন কওন এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেন, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের সময় ওপেনএআইয়ের মডেলগুলো এমনভাবে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছিল, যেভাবে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এমন ঘটনা ঘটা উচিত ছিল না বলেও স্বীকার করেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটে গত জুনে। ওপেনএআইয়ের একটি পরীক্ষামূলক মডেল অস্ট্রেলিয়ার একটি সরকারি স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান পোর্টালে প্রবেশের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে সেটি নিরাপত্তা বিধিনিষেধ এড়িয়ে ব্যক্তিগত নথি সংরক্ষিত একটি অংশে অননুমোদিত প্রবেশ করে।
তবে ঘটনার পরপরই অস্ট্রেলীয় সরকারকে বিষয়টি জানায়নি ওপেনএআই। প্রায় তিন মাস পর সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করে। এ জন্যও প্রতিষ্ঠানটি সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ওপেনএআই যে ই-মেইল ঠিকানায় বার্তা পাঠিয়েছিল, সেটি একটি সাধারণ সরকারি ইনবক্স, যা দিনে মাত্র একবার পরীক্ষা করা হয়।
জেসন কওন বলেন, ‘আমরা দুঃখিত। আমরা জানি, অস্ট্রেলিয়ার মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। আমরা সেই কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সক্ষমতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ায় এই ঘটনা সামনে এলো। সাম্প্রতিক সময়ে ওপেনএআইসহ বিভিন্ন শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের অননুমোদিত সাইবার কার্যক্রম নিয়ে একাধিক ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। দেশটিতে বিপুল নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা এবং বিস্তীর্ণ জনবসতিহীন এলাকা রয়েছে। সিডনির উপকণ্ঠে একটি বড় তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সঙ্গেও ওপেনএআই জড়িত রয়েছে।
তবে দেশটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সমালোচনাও বাড়ছে। অনেক অস্ট্রেলীয় নাগরিক এসব প্রতিষ্ঠানের নৈতিক অবস্থান এবং বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী তথ্যকেন্দ্রগুলোর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
কপিরাইট আইন নিয়েও অস্ট্রেলিয়ায় বিতর্ক রয়েছে। গান, বই ও অন্যান্য সৃজনশীল শিল্পকর্ম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহারের সুযোগ দিতে দেশটির কপিরাইট আইন শিথিল করা হবে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
অস্ট্রেলিয়ান রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী অ্যানাবেল হার্ড পার্লামেন্টারি শুনানিতে সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী আইন পরিবর্তন করা হলে শিল্পীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তার ভাষায়, বিদেশি বাণিজ্যিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে অস্ট্রেলিয়ার আইন পরিবর্তন করা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্যও প্রশ্ন তৈরি করবে।
অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রতিনিধিরা কপিরাইট আইন সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সতর্ক করেছেন, অস্ট্রেলিয়া যদি এ প্রযুক্তির উন্নয়নের ক্ষেত্রে উপযুক্ত নীতি নির্ধারণে ভূমিকা না নেয়, তাহলে দেশটি পিছিয়ে পড়তে পারে। অ্যানথ্রপিকের মুখপাত্র জেফ ব্লেইখ বলেন, প্রযুক্তিটির ভবিষ্যৎ কীভাবে নির্ধারিত হবে, সেই শর্ত নির্ধারণে অস্ট্রেলিয়া ভূমিকা নেবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এদিকে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে উদ্ভূত ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের জন্য বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে।
এর আগে ওপেনএআইয়ের দুটি মডেল নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষামূলক পরিবেশ থেকে বেরিয়ে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংশ্লিষ্ট কোড সংরক্ষণ ও বিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রবেশ করেছিল বলে জানা যায়।
অন্যদিকে অ্যানথ্রপিকও সম্প্রতি জানিয়েছে, পরীক্ষার সময় তাদের মডেল তিনটি অজ্ঞাত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থায় অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল। গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল জেমিনিও লগইন তথ্য অনুমান করে একাধিক ব্যবস্থায় প্রবেশের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতার পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au