বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা। ছবিঃ সংগৃহীত
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সংরক্ষিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের অর্ধনির্মিত ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে ভাস্কর্যের মাথার অংশে জুতার মালা ঝোলানো অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে লোক পাঠিয়ে ভাস্কর্য থেকে জুতার মালাটি সরিয়ে ফেলা হয়। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, সাদা রং করা ভাস্কর্যের মাথার অংশে রশি দিয়ে একটি জুতার মালা ঝোলানো রয়েছে। এতে ডান পাশে দুটি এবং বাম পাশে তিনটি জুতা বা স্যান্ডেল দেখা যায়।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক কামালুজ্জামান কামাল জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে এক ব্যক্তি ফোন করে তাঁকে ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর বিষয়টি জানান। পরে ওই ব্যক্তি আবার ফোন করে নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। খবর পাওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় থেকে লোক পাঠিয়ে জুতার মালাটি সরিয়ে ফেলা হয়।
কামালুজ্জামান কামাল বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের চরম অবমাননার শামিল। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ঘটনাটি নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, ভাস্কর্যস্থলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং দক্ষ স্থপতির মাধ্যমে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি সঠিক অবয়বে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান কামালুজ্জামান।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকেই বিষয়টি শুনেছেন। এ বিষয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত তথ্য বা কোনো আপডেট নেই।
জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তদন্ত করে দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা যায়। তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাস টার্মিনাল এলাকার চা দোকানি জাবেদ মিয়া জানান, সকালে দোকান খোলার সময় তিনি হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যের মাথায় জুতার মালা ঝোলানো দেখতে পান। পরে এক ব্যক্তি এসে সেটি সরিয়ে নেন।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, হামিদুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে কেউ পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলা শাখার সভাপতি শারমিন সুলতানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি শেয়ার করেন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয় এবং এরপর ছবি সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়। তাঁর ভাষ্য, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে অবমাননার সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।
ঘটনার পর ভাস্কর্যটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে এর নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং স্থাপনাটির নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।