মেসির বিদায়ে নেইমারের আবেগঘন বার্তা
লিওনেল মেসির সঙ্গে নেইমার জুনিয়রের সম্পর্কটা শুধু মাঠের সতীর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাদের বন্ধুত্বও ফুটবলবিশ্বে বেশ আলোচিত। বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলার সময় গড়ে উঠেছিল তাদের দারুণ…
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি নিয়ে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি, বিরোধী লিবারেল-ন্যাশনাল জোট এবং ওয়ান নেশন পার্টির মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। তিন দলই বর্তমানের তুলনায় অভিবাসন কমানোর পরিকল্পনা করছে। তবে কতটা কমানো হবে এবং কোন পথে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে তাদের পরিকল্পনা একে অপরের থেকে বেশ ভিন্ন।
অস্ট্রেলিয়ায় ২০১৯ সালের পর থেকে অভিবাসনের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক বেড়েছে। তুলনামূলকভাবে যুক্তরাজ্যের চেয়ে অভিবাসনের কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দ্বিগুণেরও বেশি এবং জার্মানির তুলনায় প্রায় তিন গুণ বলে জানিয়েছে এবিসি। ফলে আবাসন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর অভিবাসনের প্রভাব নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
লেবার সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে বছরে নিট বিদেশি অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, এ লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত করা, শিক্ষার্থীদের পরিবারের ভিসায় বিধিনিষেধ আরোপ এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বিরোধী লিবারেল-ন্যাশনাল জোট আরও বড় ধরনের সাময়িক কাটছাঁটের পরিকল্পনা করেছে। জোটের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম দুই বছর নিট অভিবাসন ১ লাখে নামিয়ে আনা হবে। তৃতীয় বছরে তা ১ লাখ ৩০ হাজার এবং চতুর্থ বছরে ১ লাখ ৬০ হাজার করা হবে। এরপর অভিবাসনের মাত্রা আবাসন নির্মাণের গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে।
লিবারেল-ন্যাশনাল জোট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার সংখ্যাও কমাতে চায়। বর্তমানে বছরে প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পনা থাকলেও তা কমিয়ে ২ লাখ ৪০ হাজারে নামানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থায়ী স্নাতক ভিসা বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি বছর ১ লাখের বেশি এই ধরনের ভিসা দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর নির্দিষ্ট সময় অস্ট্রেলিয়ায় থেকে কাজের সুযোগ পান।
জোটটির দাবি, অস্থায়ী স্নাতক ভিসা অনেক ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে থাকার পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই এই ব্যবস্থা বাতিল করে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে চায় তারা। নির্মাণ খাতের কর্মীদের বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিরোধী জোট।
এ ছাড়া চার লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে সেতুবন্ধনমূলক ভিসায় রয়েছেন। তাদের আবেদন ও মামলার জট দ্রুত নিষ্পত্তি করে এই সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধী জোটের। মানবিক ভিসার সংখ্যাও বছরে ২০ হাজার থেকে কমিয়ে ১০ হাজার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংকট দেখা দিলে এই সংখ্যা সাময়িকভাবে বাড়ানোর সুযোগ রাখা হবে।
তিন দলের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর অভিবাসন কমানোর পরিকল্পনা দিয়েছে ওয়ান নেশন পার্টি। দলটি ক্ষমতায় গেলে প্রথম তিন বছর নিট অভিবাসন নেতিবাচক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অর্থাৎ এই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসা মানুষের চেয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি হবে। প্রথম তিন বছরে নিট অভিবাসন ৭ লাখ ৫০ হাজার কমানোর লক্ষ্য জানিয়েছে দলটি। পরে দীর্ঘমেয়াদে নিট অভিবাসনের সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ ৩০ হাজারের নিচে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ওয়ান নেশন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার সংখ্যা বছরে ১ লাখের কিছু বেশি পর্যায়ে নামিয়ে আনতে চায়। গত অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী ভিসা পেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ভিসাও প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রেও কর্মীদের সঙ্গে আসা স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের ভিসা বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ওয়ান নেশনের পরিকল্পনায় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে থাকা ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো এবং সেতুবন্ধনমূলক ভিসায় থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যা কমানোর বিষয়ও রয়েছে। দলটির নেতা পলিন হ্যানসন বলেছেন, অর্থনীতির আকার বড় হলেই সাধারণ অস্ট্রেলীয়দের জীবনযাত্রার মান বাড়ে না।

ওয়ান নেশন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার সংখ্যা বছরে ১ লাখের কিছু বেশি পর্যায়ে নামিয়ে আনতে চায়।
অভিবাসন কমানোর পাশাপাশি ভিসাধারীদের জন্য আরও কঠোর নিয়ম করার কথা জানিয়েছে ওয়ান নেশন। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার ভিসা বাতিল করে অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রয়েছে।
লিবারেল-ন্যাশনাল জোটও ভিসাধারীদের জন্য অস্ট্রেলীয় মূল্যবোধ পরীক্ষার নিয়ম আরও কঠোর করার কথা জানিয়েছে। শিক্ষার্থী ভিসাধারীরা অনুমোদিত সময়ের বেশি কাজ করছেন কি না, তা নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। অপরাধের কারণে চরিত্রগত অভিযোগে যাদের ভিসা বাতিল করা হবে, তাদের আপিলের সুযোগ সীমিত করার প্রস্তাবও দিয়েছে জোটটি।
তবে অভিবাসন কমানোর বিষয়ে অর্থনৈতিক ঝুঁকির কথাও সামনে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে অভিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় বড় ধরনের অভিবাসন কমালে বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সমালোচকেরা। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, বয়স্কদের সেবা, কৃষি ও নির্মাণ খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে।
এ কারণে লেবার সরকার একদিকে অভিবাসন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও অন্যদিকে নির্মাণ, কৃষি, মৎস্য ও শিক্ষকতার মতো খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে দক্ষ কর্মী আনার ব্যবস্থা করতে চাইছে। ফলে আগামী ২০২৮ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অভিবাসন নীতি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au