মেসির বিদায়ে নেইমারের আবেগঘন বার্তা
লিওনেল মেসির সঙ্গে নেইমার জুনিয়রের সম্পর্কটা শুধু মাঠের সতীর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাদের বন্ধুত্বও ফুটবলবিশ্বে বেশ আলোচিত। বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলার সময় গড়ে উঠেছিল তাদের দারুণ…
অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী জোটের প্রস্তাবিত অভিবাসন কমানোর পরিকল্পনায় দেশটির প্রবীণসেবা খাতে কর্মরত কিছু কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে স্বীকার করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও শিক্ষা খাতের প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, ব্যাপকভাবে অস্থায়ী অভিবাসন কমানো হলে দক্ষ কর্মীর সংকট আরও বাড়তে পারে এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অ্যাঙ্গাস টেইলর জানিয়েছেন, জোটের পরিকল্পনায় অস্থায়ী ভিসার সংখ্যা বড় আকারে কমানো হবে। এর প্রভাব প্রবীণসেবা খাতে কাজ করা কিছু ভিসাধারীর ওপরও পড়বে। তবে ঠিক কতজন কর্মী এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেননি তিনি। আঞ্চলিক এলাকায় কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি ‘পরিবর্তনকালীন’ ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হলেও এর বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
টেইলরের ভাষ্য, অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় নতুন করে ভারসাম্য আনা প্রয়োজন। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কর্মী আনা এবং অস্থায়ী অভিবাসনের ক্ষেত্রে কিছুটা বিরতি দেওয়া দরকার। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন এমন অভিবাসন ব্যবস্থা, যেখানে দেশের দক্ষতার চাহিদার সঙ্গে কর্মীদের যোগ্যতার মিল থাকবে।
জোটের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্নাতক, ব্রিজিং ও শিক্ষার্থী ভিসার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে প্রথম দুই বছরে নিট বিদেশি অভিবাসন ১ লাখে নামিয়ে আনা হবে। তৃতীয় বছরে তা ১ লাখ ৩০ হাজার এবং চতুর্থ বছরে ১ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চার বছরে অস্থায়ী ভিসার সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কমানোর প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি মানবিক কর্মসূচির আওতা ২০ হাজার থেকে কমিয়ে বছরে ১০ হাজার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এর বিপরীতে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি চলতি অর্থবছরে নিট বিদেশি অভিবাসন ২ লাখ ৪৫ হাজার এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে। অন্যদিকে ওয়ান নেশন প্রথম তিন বছর ‘ঋণাত্মক’ নিট অভিবাসনের পর দীর্ঘমেয়াদে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩০ হাজার অভিবাসনের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।
জোটের দাবি, অস্থায়ী ভিসা কমানো হলেও উচ্চ দক্ষতার কর্মী বাড়ানো হবে। অ্যাঙ্গাস টেইলর বলেছেন, বেশি দক্ষ ও বেশি আয় করা কর্মীদের সংখ্যা বাড়লে তাদের কাছ থেকে বেশি কর আদায় হবে, যা অস্থায়ী ভিসা কমানোর ফলে তৈরি হওয়া রাজস্ব ঘাটতি সামলাতে সহায়তা করবে। এ কারণে তার দাবি, পুরো পরিকল্পনাটি সরকারের বাজেটের ওপর নিরপেক্ষ প্রভাব ফেলবে।
তবে এ দাবির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের বক্তব্য, অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মী কর্মসূচি ইতোমধ্যে চাহিদাভিত্তিক। ফলে অতিরিক্ত ১ লাখ দক্ষ কর্মী কোথা থেকে আসবেন, তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া প্রায় সব অস্থায়ী ভিসাধারীকে নতুন ভিসার আবেদন বা মেয়াদ বাড়ানোর জন্য অস্ট্রেলিয়ার বাইরে যেতে বাধ্য করা হলে উচ্চ দক্ষতার কর্মীরাও দেশটিতে থাকার বিষয়ে আগ্রহ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার সংসদীয় বাজেট কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে প্রতিবছর ৪০ হাজার কম অভিবাসী এলে ২০৩৬-৩৭ অর্থবছর পর্যন্ত ফেডারেল বাজেটে প্রায় ৭৯ দশমিক ১ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আর প্রতিবছর ৮০ হাজার কম অভিবাসী হলে এই প্রভাব প্রায় ১৫৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর বড় কারণ হলো কর্মক্ষম বয়সী অভিবাসী কমে গেলে আয়কর থেকে সরকারের রাজস্বও কমে যাবে।
স্বাধীন অর্থনীতিবিদ সল ইস্লেক বলেন, সাধারণভাবে উচ্চ দক্ষতার অভিবাসীরা অন্য অস্থায়ী অভিবাসীদের তুলনায় বেশি কর দিয়ে থাকেন। তবে জোটের পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ আর্থিক হিসাব প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এটি সত্যিই বাজেটের ওপর নিরপেক্ষ প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, দক্ষ কর্মীর সংখ্যা কমে গেলে ব্যবসায় কর্মী সংকট তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, অস্থায়ী ভিসা ব্যাপকভাবে কমানোর ফলে অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ব্রান ব্ল্যাক বলেছেন, ৬ লাখ ৫০ হাজার অস্থায়ী ভিসা কমানোর পরিকল্পনা কীভাবে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি না করে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। সম্পত্তি পরিষদের প্রধান নির্বাহী মাইক জোরবাসও মনে করেন, অভিবাসন ব্যাপকভাবে কমানো হলে দেশটির দক্ষ কর্মীর ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।
নির্মাণ খাতের সংগঠন মাস্টার বিল্ডার্স অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী ডেনিটা ওন বলেন, নির্মাণ খাতে যেসব দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে, তাদের নতুন ভিসার জন্য অস্ট্রেলিয়ার বাইরে গিয়ে আবেদন করতে বাধ্য করা হলে বাড়ি ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ বিলম্বিত হতে পারে।
শিক্ষা খাত থেকেও জোটের পরিকল্পনার সমালোচনা এসেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষা সমিতির ফিল হানিওয়ুড বলেন, শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের ভিসা কমানোর সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তার দাবি, এই খাতের সঙ্গে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলীয় কর্মসংস্থান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন ইউনিভার্সিটিজ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী লুক শিহিও সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ সীমিত করা হলে মেধাবী শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের আকর্ষণের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম এবং দেশীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে ওয়ান নেশনও নিজেদের অভিবাসন পরিকল্পনার প্রভাব নিয়ে হিসাব প্রকাশ করেছে। দলটি চার বছরে অস্থায়ী অভিবাসন কর্মসূচিতে ৭ লাখ ৫০ হাজার কম লোক নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। দলটির দাবি, অভিবাসন কমলে ভাড়াবাড়ির ওপর চাপও কমবে।
অস্ট্রেলিয়ান হাউজিং অ্যান্ড আরবান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভাড়ার তথ্য ব্যবহার করে ওয়ান নেশন জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পনার মধ্যম পর্যায়ের প্রভাবে ভাড়ার মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমতে পারে। এতে অভিবাসন কমানোর তৃতীয় বছরে গড়ে একটি ভাড়াবাড়ির ক্ষেত্রে বছরে প্রায় ২ হাজার ৮১৮ অস্ট্রেলীয় ডলার সাশ্রয় হতে পারে বলে দলটির হিসাব।
ওয়ান নেশনের নেতা পলিন হ্যানসন বলেছেন, প্রথম তিন বছর ‘নিট ঋণাত্মক’ অভিবাসন চালুর পর দীর্ঘমেয়াদে নিট বিদেশি অভিবাসনের সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ ৩০ হাজারে রাখা হবে। তার বক্তব্য, জনসংখ্যা বাড়া তখনই অর্থবহ, যখন অস্ট্রেলিয়ার মানুষ নিজেদের থাকার জায়গার খরচ বহন করতে পারেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au