মেসির বিদায়ে নেইমারের আবেগঘন বার্তা
লিওনেল মেসির সঙ্গে নেইমার জুনিয়রের সম্পর্কটা শুধু মাঠের সতীর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাদের বন্ধুত্বও ফুটবলবিশ্বে বেশ আলোচিত। বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলার সময় গড়ে উঠেছিল তাদের দারুণ…
জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচটাও স্মরণীয় করে রাখলেন লিওনেল মেসি। বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অধ্যায় শেষ করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেছেন মেসি।
বিদায়ী ম্যাচকে ঘিরে শুরু থেকেই এস্তাদিও মনুমেন্টালে ছিল উৎসবের আবহ। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মেসিকে মাঠে দেখতে গ্যালারিতে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো সমর্থক। প্রিয় তারকার বিদায়ী ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে ম্যাচের আগে ও পরে বিশেষ আয়োজনও করা হয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণ করেও প্রথমার্ধে বেনিনের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি হলেও গোল না হওয়ায় গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৮ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। মেসির নিখুঁত কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেনিনের জালে বল পাঠান তিনি।
গোল পাওয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ৬১ মিনিটে মেসির বাড়ানো বল থেকে দ্বিতীয় গোলটি করেন তরুণ ফরোয়ার্ড নিকো পাজ। জাতীয় দলের হয়ে মেসির বিদায়ী ম্যাচে তার পাস থেকেই পাওয়া গোলটি আর্জেন্টিনার জয়কে আরও নিশ্চিত করে।
এরপর ৭১ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। বেনিনের রক্ষণ ভেদ করে নিজেই গোল করেন মেসি। এই গোলের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটিও গোল দিয়ে স্মরণীয় করে রাখেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
আর্জেন্টিনার হয়ে প্রায় ২১ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসির অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকাসহ দেশের হয়ে একাধিক শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এবার জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচে গোল ও দুই গোলে সহায়তা করে সতীর্থদের সঙ্গে জয় উদযাপন করলেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার।
মেসিকে বিদায় জানাতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও রেখেছিল বিশেষ আয়োজন। গান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ড্রোন শো ও আতশবাজির মাধ্যমে সাজানো হয়েছিল বিদায়ী রাত। পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল মেসির নাম ও তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্মৃতি।
শেষ পর্যন্ত মাঠের ফলও মেসির বিদায়ী রাতকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ করলেন আর্জেন্টিনার সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। তার গোল, দুই অ্যাসিস্ট এবং সতীর্থদের জয় মিলিয়ে মনুমেন্টালের রাতটি হয়ে থাকল আর্জেন্টাইন ফুটবলের এক আবেগঘন স্মৃতি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au