মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, বন্ধ ইলিশ আহরণ
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদীতে…
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে গত ৮ সেপ্টেম্বর জারি করা একাধিক সীমিত-প্রচলন বা ‘রেস্ট্রিক্টেড’ বদলি ও পদায়নের আদেশ ঘিরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের ক্ষমতা ও প্রভাব নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। এসব আদেশে ঢাকাভিত্তিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ফরমেশনের কমান্ড কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে সেনাপ্রধানের অপারেশনাল সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র ধীরে ধীরে সংকুচিত করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নর্থইস্ট নিউজের হাতে আসা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নথিতে এসব বদলি ও পদায়নের পেছনে কোনো ব্যক্তির নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম এসব বদলি ও পদায়নের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সূত্রগুলোর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এই প্রক্রিয়ায়।
তবে ৮ সেপ্টেম্বরের আদেশের আনুষ্ঠানিক ভাষ্য অনুযায়ী, বদলি ও পদায়নের আদেশ দুটি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নামে জারি হয়েছে। সেখানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (AFD) চারটি চিঠিকে রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নথি অনুযায়ী আদেশ জারি হয়েছে সেনাপ্রধানের নামে, তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হয়েছে ঢাকায় সেনাসদরের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন ৪৬তম স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে সেনাসদরের মিলিটারি ট্রেনিং ডিরেক্টরেট থেকে সরিয়ে এই ব্রিগেডের কমান্ডার করা হয়েছে। তাঁর পূর্বসূরি ব্রিগেডিয়ার সৈয়দ আশিকুর রহমানের নতুন পদায়নের আদেশ পরে জারি করা হবে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
৪৬তম স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেড রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন সামরিক ফরমেশন। এটি সরাসরি সেনাসদরের অধীনে থাকায় এর কমান্ডারের অবস্থান কেবল একটি ব্রিগেডের প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে রাজধানীকেন্দ্রিক সামরিক অপারেশন ও সেনাসদরের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এই পদটি গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে একজন কমান্ডারকে সরিয়ে অন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে সেনাসদরকে ঘিরে তাৎক্ষণিক অপারেশনাল সম্পর্ক ও কমান্ড কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে মিরপুরভিত্তিক ৬ষ্ঠ স্বতন্ত্র এয়ার ডিফেন্স ব্রিগেডে। ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ রফিকুল হাসানকে ওই ব্রিগেড থেকে সরিয়ে অ্যাডহক আর্মি এয়ার ডিফেন্স সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ৩৩তম পদাতিক ডিভিশনের সদর দপ্তরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন।
অন্যদিকে, ৩৩তম পদাতিক ডিভিশনের এয়ার ডিফেন্স সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা ব্রিগেডিয়ার জি এইচ এম সেলিম হাসানকে ৬ষ্ঠ স্বতন্ত্র এয়ার ডিফেন্স ব্রিগেডের কমান্ডার করা হয়েছে।
এর ফলে মিরপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল এয়ার ডিফেন্স ফরমেশন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের এক ধরনের বিনিময় ঘটেছে। বিশেষ করে ৩৩তম পদাতিক ডিভিশনের কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তাকে মিরপুরভিত্তিক এয়ার ডিফেন্স ব্রিগেডের নেতৃত্বে আনা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট কমান্ড কাঠামোর মধ্যে নতুন সমন্বয় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৮ সেপ্টেম্বরের আদেশে মেজর জেনারেল পর্যায়েও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ সাজেদুর রহমানকে সেনাসদরের মিলিটারি সেক্রেটারি শাখা থেকে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের সিনিয়র ডিরেক্টিং স্টাফ (আর্মি) হিসেবে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ খায়ের উদ্দিনকে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে এনে সেনাসদরের মিলিটারি সেক্রেটারি শাখায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে পেশাদার সামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সেনাপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ সদর দপ্তরভিত্তিক স্টাফ কাঠামোর মধ্যে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দায়িত্বের পরিবর্তন ঘটেছে। বিশেষ করে মিলিটারি সেক্রেটারি শাখা সেনাসদরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ কাঠামো হওয়ায় সেখানে কর্মকর্তাদের পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও বড় পরিবর্তন এসেছে ৩৩তম পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নাজিম-উদ-দৌলাকে ৩৩তম পদাতিক ডিভিশনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের (BIRC) কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।
একই সময়ে সেনাসদরের ইনফ্যান্ট্রি ডিরেক্টরেট থেকে ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ মোতাশিম হায়দার চৌধুরীকে ৩৩তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
একই আদেশে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আফতাব হোসাইনকে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টার থেকে সরিয়ে ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে। ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের পূর্ববর্তী জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলীমুল আমিনের নতুন পদায়ন পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, একই প্রক্রিয়ায় তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে একটি ফিল্ড ডিভিশন, আরেকটি ফিল্ড ডিভিশন এবং সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদাতিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাসদরের একজন কর্মকর্তা সরাসরি একটি পদাতিক ডিভিশনের কমান্ডে গেছেন।
ঢাকাভিত্তিক আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্বতন্ত্র ফরমেশন হলো ১৪তম স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার্স ব্রিগেড এবং ৮৬তম স্বতন্ত্র সিগন্যালস ব্রিগেড। নথি অনুযায়ী, ১৪তম স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার্স ব্রিগেডের নেতৃত্বে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার সৈয়দ ফজলে গাউস। আর ৮৬তম স্বতন্ত্র সিগন্যালস ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ওই দায়িত্বে রয়েছেন। এই দুটি ইউনিটও ঢাকায় অবস্থিত এবং সরাসরি সেনাসদরের কাছে রিপোর্ট করে।
এ কারণে ৪৬তম স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেড, ৬ষ্ঠ স্বতন্ত্র এয়ার ডিফেন্স ব্রিগেড, ১৪তম স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার্স ব্রিগেড ও ৮৬তম স্বতন্ত্র সিগন্যালস ব্রিগেডের মতো ঢাকাভিত্তিক স্বাধীন ফরমেশনগুলোর নেতৃত্ব ও কমান্ড সম্পর্ককে ঘিরে পরিবর্তনগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ায় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলামের ভূমিকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। গত ৬ এপ্রিল সরকার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তদারকির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয় এবং তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়। এর ফলে বেসামরিক প্রশাসন ও সামরিক কাঠামোর মধ্যকার কমান্ড ও সমন্বয় ব্যবস্থায় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তবে ৮ সেপ্টেম্বরের বদলি ও পদায়নের আদেশে শামসুল ইসলামের নাম সরাসরি নেই। বরং আদেশগুলো সেনাপ্রধানের নামে জারি হয়েছে এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একাধিক চিঠিকে রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নথির ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু আদেশগুলোর মূল পরিকল্পনাকারী কে ছিলেন, সে বিষয়ে নথিতে সরাসরি কোনো তথ্য নেই।
সামরিক কাঠামোর দিক থেকে দেখলে, ৮ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তনগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু বদলি নয়। একই সময়ে অপারেশনাল ফরমেশন, এয়ার ডিফেন্স, সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং সেনাসদরের গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ কাঠামোয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের আগে তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত যে অপারেশনাল ও কমান্ড-সংশ্লিষ্ট প্রভাব ছিল, তা কিছুটা সীমিত হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকাভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ ফরমেশনগুলোর নেতৃত্বে নতুন কর্মকর্তাদের আনা এবং সেনাসদরের সঙ্গে ফিল্ড কমান্ডের সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের ফলে সেনাপ্রধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিসর সংকুচিত হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
তবে এসব পরিবর্তনকে সরাসরি সেনাপ্রধানের ক্ষমতা খর্ব করার পদক্ষেপ হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার মতো কোনো বক্তব্য ৮ সেপ্টেম্বরের সরকারি আদেশে নেই। নথিগুলো মূলত নিয়মিত সামরিক প্রশাসনিক বদলি ও পদায়নের ভাষাতেই জারি হয়েছে। ফলে এসব পরিবর্তনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তর পেতে ভবিষ্যৎ পদায়ন, কমান্ড কাঠামোর আরও পরিবর্তন এবং সেনাসদর ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মধ্যকার ভূমিকার বিকাশ পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সামগ্রিকভাবে ৮ সেপ্টেম্বরের রদবদল ঢাকাকেন্দ্রিক সেনা কমান্ড কাঠামোয় একটি উল্লেখযোগ্য পুনর্বিন্যাস করেছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ইউনিট, এয়ার ডিফেন্স কাঠামো, পদাতিক ডিভিশন এবং সেনাসদরের জ্যেষ্ঠ স্টাফ পদে পরিবর্তনের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে নতুন কমান্ড সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au